পোস্টগুলি

ঈশ্বর কি ভয় পান? গদ্য কবিতা (পর্ব-৫)

ছবি
  🕯️ গদ্য কবিতা – পর্ব-৫: ঈশ্বর কি ভয় পান? তুমি বলো— ঈশ্বর সব কিছু জানেন। তাহলে তিনি ভয় পান কিসে? নারীর খোলা চুলে? প্রেমের আলিঙ্গনে? নাকি নিরীহ কার্টুনের তুলিতে আঁকা এক চেহারায়? আমি শুনি, কেউ কেউ বলে ঈশ্বর নারাজ হন হাসিতে, রেগে যান স্বাধীন চিন্তায়, অপমান বোধ করেন— প্রশ্নে! ঈশ্বর কি এতটাই দুর্বল যে তাঁর ভক্তের ঠোঁট থেকে নামটা সরে গেলেই কাঁপে? তাঁকে যে ভালোবাসে না— সে কি চিরদিন দগ্ধ হবে? তাহলে সে ঈশ্বর নয়, ভয়ভীতির একটা নামমাত্র তলোয়ার! আমি বিশ্বাস করি, ঈশ্বর ভয় পান না, তিনি চান— মানুষ মুক্ত থাকুক, ভালোবাসুক, প্রশ্ন করুক, তাঁকে খোঁজে হৃদয়ে, রক্তে, জীবনে— কোনো বাধ্যতায় নয়। ঈশ্বর কি ভয় পান? না, আমি বলি— ভয় পান আমরা, তাই ঈশ্বরের নামে বানিয়ে ফেলি দেয়াল, পড়াই ভয়, বানাই ধর্ম, আর ভুলে যাই— ঈশ্বর আসলে ভালোবাসা। — নিতাই বাবু নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে। মূলত সমাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতিচারণা ও ছন্দনিবদ্ধ রচনায় আগ্রহী। ভ...

ঈশ্বর কি ঘর চেনে? গদ্য কবিতা (পর্ব-৪)

ছবি
  🪔 গদ্য কবিতা – পর্ব-৪: ঈশ্বর কি ঘরঈশ্বর চেনে? ঈশ্বর কি ঘর চেনে? চেনে কি দেয়ালের রং, চেনে কি মাথার উপর ছাদ? চেনে কি মসজিদের মিনার, মন্দিরের গম্বুজ, গির্জার ক্রুশ? নাকি তিনি থাকেন শুধু— যেখানে মানুষ ভালোবাসে, আর বাঁচতে চায়? আমি দেখি, অনেকেই ঘর বানায় ঈশ্বরের নামে, তাতে লিখে রাখে— "এখানে কেবল সৎ লোকের প্রবেশ।" কিন্তু কীভাবে বুঝবে কে সৎ আর কে নয়? যে ক্ষুধার্তের পেটে ভাত নেই, তার পবিত্রতা কি সনদের দরকার? তোমরা বলো, ঈশ্বর নির্দিষ্ট ঘরে থাকেন, কেউ বলে, থাকেন উপসনালয়ে, কেউ বলে, রথযাত্রার রশিতে, আবার কেউ বলে, মোমবাতির আলোয়। আমি বলি— ঈশ্বর ঘর চেনেন না, তাঁর ঘর নেই, তাঁর ঠিকানা শুধু হৃদয়। তিনি যখন আসেন, তখন দেয়াল ভাঙে, ভেতরের ঘরের পাপ পরিষ্কার হয়, আর মানুষে মানুষে মিলনের সেতু গড়ে ওঠে। ঈশ্বর কি ঘর চেনে? হয়তো চেনেন না, তাই প্রতিদিন তিনি নতুন নতুন হৃদয়ে জন্ম নেন, একেকটা করুণ মুখে, একেকটা সাহসী মমতার ছোঁয়ায়। — নিতাই বাবু নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুর...

হৃদয়ে ধর্ম— গদ্য কবিতা (পর্ব-৩)

ছবি
  📘 গদ্য কবিতা: হৃদয়ের ধর্ম আমার বিশ্বাস, ঈশ্বর কারো একার নয়। তিনি সেই শিশুটিরও, যে ভাতের বদলে বিকেলে বাতাস খায়, আবার তারও, যে দামি আসনে বসে তাঁকে ডাকে ঘন্টার শব্দে। তোমার প্রার্থনা হয়তো আয়তুনের সুরে, আমার হয় মৌন ধ্যানের গভীর নিঃশ্বাসে— কিন্তু তবু কি হৃদয়ের অনুরণন এক নয়? আমি দেখেছি, ঈশ্বরের চোখ ভিজে যায় যখন কেউ ক্ষুধার্ত পাখিটিকে মুঠো চাল ছুঁড়ে দেয়। আমি শুনেছি, তাঁর নিঃশব্দ প্রশ্রয় এক মায়ের শীতার্ত সন্তানের গায়ে চাদর জড়িয়ে দেয়। তিনি সেখানে নেই—যেখানে গর্জে ওঠে ঘৃণার স্লোগান। তিনি সেখানে আছেন—যেখানে একজন মানুষ আরেকজন মানুষের চোখে "মানুষ" হয়ে ওঠে। ধর্ম যদি মানুষকে মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে সে ধর্ম নয়— বরং একটি ভুল বোঝা নিয়মের কারাগার। আমার ধর্ম হৃদয়ের , যেখানে বিশ্বাস নেই দেয়ালে, আছে ভালোবাসায়, নেই ভয়, আছে সম্মান। যেখানে চোখে জল সেখানে ঈশ্বরের আসন। আর যেখানে ভালোবাসা সেখানেই সত্যিকারের ধর্ম । নিতাই বাবু পুরস্ক...

তোমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর — গদ্য কবিতা (পর্ব-২)

ছবি
  🕊️ গদ্য কবিতা: তোমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর – পর্ব-২ তোমার ঈশ্বর সিংহাসনে বসে বিচার করেন, আমার ঈশ্বর ভেজা মাটিতে হাঁটেন খালি পায়ে। তুমি বলো— "ঈশ্বরের ভয় কর" , আমি বলি— "তাঁকে ভালোবাস" । কারণ ভালোবাসা শাস্তির চেয়ে বড়, আর ভয় কখনো প্রার্থনার ভাষা হতে পারে না। তোমার ঈশ্বর শুধুই পুরুষ, আমার ঈশ্বর কখনো মা, কখনো মেয়ে, কখনো শ্রান্ত নারীর বুকের নিঃশ্বাস। তুমি বলো— “এটা ধর্মবিরোধী” , আমি বলি— “মানুষবিরোধী কিছুই ধর্ম হতে পারে না” । তোমার ঈশ্বর শুধু পবিত্র স্থানে থাকেন, আমার ঈশ্বর থাকেন বস্তির ধারে, কুড়িয়ে পাওয়া খাবারে যার মুখ ভরে ওঠে। তুমি ভেবো, আমি ঈশ্বরবিরোধী— কারণ আমি মূর্তি দেখি না, কাবার দিকেও ফিরি না, শুধু বিশ্বাস করি, যেখানে চোখে জল, সেখানেই তাঁর সিংহাসন। তোমার ঈশ্বর যুদ্ধের পাশে দাঁড়ান, আমার ঈশ্বর গুলির শব্দে কাঁপেন। তুমি বলো — ঈশ্বর আমাদের পক্ষ নেন, আমি বলি — ঈশ্বর শুধু মানুষ খোঁজেন। আমার ঈশ্বর কিছু বলেন না, কিন্তু আমি জানি— তিনি শুনেন সেই মায়ের কান্না, যা...

ঈশ্বর কি বিভক্ত হন? গদ্য কবিতা (পর্ব-১)

ছবি
  🕊️ গদ্য কবিতা: ঈশ্বর কি বিভক্ত হন? আমি চেয়ে দেখি, আকাশ সব মানুষের জন্যই নীল । নদীর জলে আলাদা কোনো ধর্ম লেখা থাকে না। সূর্য উঠে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান-ইহুদি সব ঘরের উঠোনে, আর চাঁদ রাতের নির্জনে সবার ঘুমে সমান জ্যোৎস্না ছড়িয়ে দেয়। তবু কেন আমি শুনি— তুমি ‘ ঈশ্বর ’ বলো, সে নাকি আমার ‘ আল্লাহ ’ নয়? তুমি ‘ গড ’ বলো, সে নাকি ‘ ব্রহ্ম ’ হতে পারে না? তোমার ঈশ্বর পবিত্র , আর আমারটা নাকি কুসংস্কার ? আমি হাঁটি, দেখি সবাই ঈশ্বর খোঁজে, কিন্তু কেউ কাউকে মানুষ ভাবে না। মন্দিরে পাথর, মসজিদে মিনার, গির্জায় ক্রুশ— ঈশ্বর সবখানে চুপ । তিনি চুপ, কারণ তিনি দেখেন মানুষ তাঁর নামে মানুষকে হত্যা করে। আমি ভাবি, ঈশ্বর কি এতটাই দুর্বল, যে আমার টিপ পরা , অন্য কারো টুপি পরা , কিংবা কারও প্রার্থনার ভাষা শুনে কাঁপেন? তাহলে তো ঈশ্বর নন, তিনি আমাদের ভয়ের পুতুল । আমি বিশ্বাস করি, ঈশ্বর একজন — যিনি নাম চেনেন না, ভাষা বোঝেন না, শুধু হৃদয়ের স্পন্দন শোনেন। যেখানে চোখে জল , সেখানেই তাঁর আসন। যেখানে ভালোবাসা , সেখানেই তাঁর ধ...

আসলে ভবে যেতে হবে

ছবি
  আসলে ভবে যেতে হবে পাঠিয়েছে ভবে আমায় একাধিক শর্ত দিয়ে, তারমধ্যে আছে তিনটি জন্ম মৃত্যু আর বিয়ে। ভবে এসে রইলাম মজে ভবের মায়াজালে, হেলায় হেলায় সময় শেষ জনম গেলো বিফলে। আসলে ভবে যেতে হবে ভবের মায়া ছেড়ে, সেই চিন্তার ধার ধারি না চলি হেলা করে। এই দুনিয়ায় যা আছে সবকিছুই অনিশ্চিত, শাস্ত্রে আছে লেখা শুধু জীবের মৃত্যুই নিশ্চিত। তবুও নেই চিন্তা আমার নিজের ধান্ধায় চলি, আমিই সেরা আমিই সব লোকসমাজে বলি। যতই বলি আমার আমার আমার নেই কিছু, যতই করি বাহাদুরি যম আছে আমার পিছু। হই-না যতো মস্তবড় বাহাদুর রাজা জমিদার, যেতে হবে সবই ছেড়ে এই মায়ার ভবসংসার। পড়ে রবে ধনসম্পদ টাকাকড়ি বিলাসবহুল বাড়ি, সবই থাকবে ঠিকঠাক শুধু আমিই দিবো পাড়ি। থাকবে না কিছুই দেহের শক্তি জারিজুরি, মৃত্যুতেই হবে শেষ যতো শক্তির বাহাদুরি। মৃত্যুর দিনক্ষণ লেখা আছে যমদূতের কাছে, পালাইবার পথ নাই যে যম থাকবে পাছে। যেখানেই থাকি আমি যমে খুঁজে বের করবে, ঠিক সময়মত যমদূত আমার; সামনে দাঁড়াবে। যমদূতের কাছে নেই টাকা পয়সার কারবার, মৃত্যুর স্বাদ করতে হবে বরণ জগতের সবার। ...

হৃদয়ে লেখা চিঠি

ছবি
  ✍️ গদ্য কবিতা: হৃদয়ে লেখা চিঠি লেখক: নিতাই বাবু বন্ধু, আজ আর কোনো খামে ভরে চিঠি পাঠাই না। ডাকপিয়নও আর কড়া নাড়ে না আমাদের দরজায়। তবু আমি লিখে চলি… মনে মনে… নিরবে। তুমি জানো না, প্রতিদিন আমি একটা চিঠি লিখি—তোমার নামেই। আমার হৃদয়ের ভেতরই এখন ডাকঘর, আমার নিঃশ্বাসগুলো যেন পোস্টমার্ক হয়ে যায়… আর প্রতিটি শব্দ—তোমাকে খুঁজে ফেরে। জানো, বহুদিন ধরে কেবলই মনে হয়, আমরা কেউ কারো কাছে নেই… অথচ একটানা পাশে আছি। কথা হয় না, চোখে চোখ রাখা হয় না, তবু আমি বুঝি—তুমি অনুভব করো। আর আমি… আমি তো বৃষ্টির ফোঁটায়, পাতার কাঁপনে, অচেনা কোনো গন্ধে তোমাকে খুঁজি। এই চিঠিটা ঠিক ‘ভালোবাসি’ বলা নয়। এটা হয়তো সেইসব না-বলা কথাগুলোর ব্যাখ্যা— যেগুলো আমরা সময়মতো বলতে পারিনি। হয়তো সময়ই দেয়নি! অথবা আমরাই সময়কে সাহস দিতে পারিনি! বন্ধু, এই চিঠি আমি লিখছি কেবল তোমার জন্য, যদি কোনোদিন হঠাৎ আমার খোঁজ না পাও, যদি একদিন জানতে পারো—আমি আর নেই, তাহলে এই লেখাগুলো ছুঁয়ে বুঝে নিও— আমি ছিলাম, আছি, আর চিরকাল থাকবো… তোমার চোখের কোণে জমে থাকা কান্নার ফোঁটার মতো। এই চিঠি হয়তো কোনো উত্তর চায় না। শুধু একটা অন...