পোস্টগুলি

জীবন লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জীবনচক্র

ছবি
  জন্ম থেকে জীবন শুরু, চিতায় আগুনে হয় শেষ, শৈশব থেকে বৃদ্ধকাল, যৌবনে উত্তাল ধরে কত ছদ্মবেশ। হেঁটে চলে জীবনের পথে, কত শত মুখ দেখি, কত স্মৃতি হয় জড়ো, কিছু হাসি, কিছু কান্না, কিছু চাওয়া, কিছু পাওয়া, আবার কিছু না পাওয়ার শূন্যতা! আশার আলোয় আলোকিত এক নতুন সকাল, কত স্বপ্ন, কত ইচ্ছে, কত উন্মাদনা ধরা দেয় হৃদয়ে। শৈশবের দুরন্তপনা, কৈশোরের বাঁধনহারা উন্মত্ততা, প্রেমের প্রথম স্পর্শ, সবুজ পাতায় লেখা জীবনের নতুন অধ্যায়, আর বার্ধক্যের বিষণ্ণতা। তবুও এই খেলা থেমে থাকে না, জীবন আবার ফিরে আসে নতুন করে নতুন কোনো রূপে, এক জীবন থেকে আরেক জীবনে যেন এক অফুরন্ত নদী! একবার যদি শুরু হয় এই জীবন, তবে এর শেষ কোথায় কে জানে, কে বলতে পারে? জীবনের গল্প চলতেই থাকে, নতুন গল্প তৈরি হয়, আর সেই গল্পে লেখা হয়— নতুন এক ইতিহাস। নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুর...

শ্মশানের জীবন্ত

ছবি
  🖤 কবিতা: শ্মশানের জীবন্ত শ্মশানের জীবন্ত জীবিত, অথচ মৃতের বেশে — ভয়ানক এক অভিনয়! প্রাণের ভেতর প্রাণহীন দেশ, হৃদয়ে নীরব মৃত্যুর জয়। শেষকৃত্যের গন্ধ বাতাসে, চেতনায় অন্ত্যেষ্টির গান, জাগ্রত এক সমাধি দেহে, জীবন-মরণ একাকার জান। আত্মার শবযাত্রা চলে নীরবে, প্রহর গুনে বিষণ্ন দিন, ছায়ার মতো হেঁটে চলে, নিঃশব্দ শোকের এক কঠিন কিনারায়। আলো হারায় অন্ধকারে, নিভে যায় প্রাণের দীপ, আশার প্রদীপ চূর্ণ হয়ে পড়ে, অন্তরে বিষণ্ন রূপ। তবুও বেঁচে থাকা এক অভিশাপ— যেন শ্মশানের জীবন্ত ছায়া, জীবনেরই অন্তিম চাপ। নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক — ২০১৭ সাহিত্য, সমাজ এবং সৃজনশীলতায় তাঁর পদচারণা ব্যাপক। নিয়মিত লেখেন ব্লগ, কবিতা ও সমাজ ভাবনার নানা বিষয়ে।

আমি এদেশে সংখ্যালঘু

ছবি
আমি এদেশে সংখ্যালঘু আমি এদেশে সংখ্যালঘু , তবুও আমি “এদেশের” — এই মাটি, এই জল, এই পল্লীর পেঁপে গাছ, এই বর্ষার জলঢাকা পথ— সবই আমার চেনা। আমি হিন্দু, আমি বৌদ্ধ, আমি খ্রিস্টান— তবু আমি বাংলাদেশী , আমি সেই মা-বাবার সন্তান, যারা একাত্তরে কাঁধে বোমা নয়, কাস্তে-কলম-লাঠি তুলে দাঁড়িয়েছিল পাক-হানাদারের বিপক্ষে। আমার দাদার বুকেও বয়ে গিয়েছিল গুলি, জন্মভূমিকে ভালোবেসে। কিন্তু আজ তার নাতি আমি— নতুন করে পরিচয়ের সনদ চাই। আমি এদেশে সংখ্যালঘু, আমার ঈশ্বরকে আমি মাটির মূর্তিতে দেখি— তাই আমি ভয় পাই, কারণ একদিন সেই মূর্তি ভাঙা হয় ‘অপরাধে’ যে আমি ভিন্ন রূপে ঈশ্বরকে ভালোবাসি। আমি শারদীয়া দুর্গাপূজায় মা দুর্গাকে স্বাগত জানাই, আর সেই সময় আমার কাঁপে বুক— বাজার থেকে ফেরার পথে গলার মালা ছিঁড়ে ফেলা হতে পারে, ঘরের প্রতিমায় পাথর ছোঁড়া হতে পারে। পুলিশ হয়তো আসবে, আবার হয়তো আসবেই না। আমি স্কুলে বাংলায় ‘মা’ লিখি, কিন্তু প্রশ্ন আসে— “তুমি হি...

কষ্টের জীবন

ছবি
🌑 কষ্টের জীবন 🌑 — নিতাই বাবু জীবনটা যেন এক অদৃশ্য যুদ্ধক্ষেত্র, কেউ দেখে হাসিমুখ, কেউ বোঝে না ভিতরটা ভাঙা কতবার। ঘুম আসে না অনেক রাতে, আকাশের তারা যেন চোখের অশ্রু গোনে চুপচাপ। দিন যায়, রাত যায় — চাল নেই ঘরে, তবু মুখে হাসি রাখতে হয় সন্তানের সামনে। চুলে পাকা রঙ, হাতে কড়ে গোনা টাকা — অভাবের সংসারে ভালোবাসাও যেন বিলাসিতা। পড়াশোনা হয়নি, কিন্তু মনের গভীরে লেখা থাকে হাজারো অক্ষরের যন্ত্রণার কবিতা। কেউ ডাকে “অশিক্ষিত”, আমি ডাকি নিজেকে “অভিজ্ঞ” — যন্ত্রণার অভিধানে। চায়ের দোকানে বসে শুনি জীবনের গল্প, সবার মুখে আছে স্বপ্ন, আর আমার কাঁধে শুধু দায়। তবু বলি না কিছু — কারণ কষ্টেরও একটা গর্ব থাকে, অভিমানের মতো নীরব। ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি না — আজটা কোনোভাবে পার করলেই যেন বেঁচে থাকা ধন্য। তবু লিখি... এই কষ্টের জীবন নিয়ে, কারণ এটাই আমার অস্তিত্ব। 🔗 শেয়ার করুন: 📘 ফেসবুকে শেয়ার করুন 🐦 টুইটারে শেয়ার করুন ✍️ লেখক পরিচিতি: নিতাই বাবু, একজন আবেগপ্রবণ কবি ও ব্লগার, যিনি সমাজ, স্মৃতি ও যন্ত্রণার গভীর অনুভূতি নিয়ে লেখেন।

জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দাও

ছবি
সূর্যের আলো নাহয় ঢেকে রাখুক মেঘে, তাতে তোমার লাভ কি হায় রেগে-মেগে ? তোমার জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দাও– রাত শেষে ভোরে, ঘুম থেকে জেগে!  সূর্যের আলো থেকেও আলোকিত জ্ঞান, যা থাকে সৃষ্টির সেরা জীবের মস্তিষ্কে! সেই জ্ঞানভাণ্ডার সদা রেখেছেন প্রভু খুলে! বিলিয়ে দাও, ছড়িয়ে দাও, দিকে দিকে! সূর্য থেকে আলো কেড়ে আলোকিত চাঁদ  জীবের জ্ঞানের আলোতে মিটে জীবনের স্বাদ! সেই জ্ঞান রেখো না বন্দী, স্বেচ্ছায় বিলিয়ে দাও। তাতে হবেনা কেউ জ্ঞানশূন্য, জানিয়ে দাও! প্রিয় পাঠক, কবিতা পড়ে ভালো লাগলে দয়াপূর্বক  লাইক/কমেন্ট ও শেয়ার করে বাধিত করবেন।  নিতাই বাবু, নাগরিক সাংবাদিক ও ব্লগার, ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সোনেলা ব্লগ ও শব্দনীড় ব্লগ। ০৮/০৫/২০২৩ইং।

এদেশে আমি একজন ভূমিহীন নাগরিক

ছবি
আমি ভূমিহীন ছিলাম না। এদেশের আরও দশজনের মতো আমারও বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছিলো। বাড়ি ছিলো। সুন্দর পরিপাটি উঠোন ছিলো। থাকার মতো ঘর ছিলো। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে আমরা এদেশে ভূমিহীন নাগরিক হয়ে বসবাস করছি। বর্তমানে আমার বাবা, মা, বড় দাদা, বেঁচে নেই। আমার বাবার পুরিতে পুরুষ বলতে  আমিই একমাত্র পুরুষ। আমরা ছিলাম দুই ভাই, চার বোন। দু বোনের মধ্যে দুইজন পরলোকে, আর দুই বোন এখনো বেঁচে আছে। আমি ছিলাম আমাদের সংসারে সবার ছোট। আমি বর্তমানে ভূমিহীন বাস্তহারা হয়ে পরের বাড়িতে ভাড়া থেকে কোনোরকমভাবে বেঁচে আছি। ভূমিহীন হওয়ার ইতিহাস:  আমার নাম শ্রী নিতাই চন্দ্র পাল। তবে সবাই আমাকে "নিতাই বাবু" বলেই ডাকে। তাই আমি নিতাই বাবু নামে সবার কাছে, আর সবখানে এই নামে পরিচিত। আমার বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছিলো নোয়াখালী জেলার বজরা রেলস্টেশনের পশ্চিমে মাহাতাবপুর গ্রামে। আমার জন্ম ১৯৬৩ সালের ৮ জুন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সপরিবারে গ্রামের বাড়িতেই ছিলাম। আমি তখন তৃতীয় শ্রেণি পাস করে সবেমাত্র চতুর্থ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু করেছিলাম। তখনই লেগে যায় দাবিতে তুমুল যুদ্ধ। তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবু...

আসলে ভবে যেতে হবে

ছবি
আসলে ভবে যেতে হবে থাকেনা কেউ ভবে, আমারও একদিন যেতে হবে যেদিন সময় হবে। গায়ের চামড়ায় ভাজ পড়েছে চোখে দেখি কম, এই বুঝি হচ্ছে মরণ পিছু ধরছে যম। দেহের শক্তি মনের বল কার থাকে কতক্ষণ, স্বার্থের টানে এসব ভুলে গড়ছে সম্পদ সর্বক্ষণ। কার সম্পদ কোথায় থাকবে মৃত্যুর পরে অজানা, নিশ্বাস যেদিন হবে বন্ধ শ্মশান গোরস্থানই ঠিকানা। প্রিয় পাঠক , কবিতা পড়ে ভালো লাগলে দয়াপূর্বক লাইক/কমেন্ট ও শেয়ার করে বাধিত করবেন। নিতাই বাবু , নাগরিক সাংবাদিক ও ব্লগার, ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সোনেলা ব্লগ  ও  শব্দনীড় ব্লগ  । ০৫/০৫/২০২৩ইং।