পোস্টগুলি

আগস্ট ১৮, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

তীর্থযাত্রা, পাপ-পুণ্য ও মানুষের আচার-আচরণ: গয়া, কাশি ও বৃন্দাবনের বিশ্লেষণ

ছবি
  তীর্থযাত্রা, পাপ-পুণ্য ও মানুষের আচার-আচরণ: গয়া, কাশি ও বৃন্দাবন বিশ্লেষণ তীর্থযাত্রা, পাপ-পুণ্য ও মানুষের আচার-আচরণ: গয়া, কাশি ও বৃন্দাবনের বিশ্লেষণ প্রাচীনকাল থেকে মানুষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রেরণার সন্ধানে পবিত্র তীর্থস্থল ভ্রমণ করেছে। গয়া, কাশি (বারাণসী) ও বৃন্দাবন—এসব স্থান হিন্দু ধর্মে বিশেষভাবে পবিত্র বলে বিবেচিত। মানুষ বিশ্বাস করে যে এই তীর্থস্থানগুলোতে স্নান, পূজা-পাঠ ও পিণ্ডদান করলে আত্মা শুদ্ধ হয়, পূর্বপুরুষদের শান্তি হয় এবং পাপ মুছে যায়। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—শুধুমাত্র তীর্থযাত্রা বা স্নানেই কি সত্যিকারের পাপমুক্তি সম্ভব? ধর্মীয় বিশ্বাস ও তীর্থযাত্রার মাহাত্ম্য হিন্দু ধর্মের শাস্ত্রে গয়া, কাশি এবং বৃন্দাবনের বিশেষ স্থান উল্লেখ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: গয়া: পিতৃকূলের তৃপ্তি ও আত্মার শান্তির জন্য পিণ্ডদান প্রথা। পিতার জন্য পাপশমনের বিশ্বাস। কাশী (বারাণসী): স্নান ও মৃত্যু—এই শহরে মৃত্যু হলে, শাস্ত্র অনুযায়ী মোক্ষ প্রাপ্তি হয়। কারণ কাশীর ঘাট ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে প্রাচীনকাল থেকে মুক্তির স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বৃন্দাবন: ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ...

ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন ও মানুষের আচার-আচরণ: লাঙ্গলবন্ধ স্নানের আলোকে পাপ-পুণ্যের ধারণা

ছবি
  ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন ও মানুষের আচার-আচরণ – লাঙ্গলবন্ধ স্নানের আলোকে পাপ-পুণ্যের ধারণা ধর্মীয় জ্ঞান · আচার-আচরণ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন ও মানুষের আচার-আচরণ লাঙ্গলবন্ধ স্নানের আলোকে পাপ-পুণ্যের ধারণা লেখক: নিতাই বাবু · প্রকাশ: 07 Apr 2016 · হালনাগাদ: 07 Apr 2016 লাঙ্গলবন্ধ ব্রহ্মপুত্র মহাঅষ্টমী পাপ–পুণ্য পরশুরাম সূচিপত্র লাঙ্গলবন্ধ স্নান: প্রেক্ষাপট ও আচরণগত প্রশ্ন পুরাণকথার আলো: পরশুরাম ও ব্রহ্মপুত্র মহাঅষ্টমীর বাস্তব অভিজ্ঞতা: তীর্থ, ভিড় ও চুরি ধর্ম বনাম আচরণ: পাপ-পুণ্যের আসল পাঠ মূল লেখা (হুবহু) লাঙ্গলবন্ধ স্নান: প্রেক্ষাপট ও আচরণগত প্রশ্ন ধর্মীয় আচারে তীর্থস্নান প্রাচীন ও সম্মানিত অনুশীলন। তবে একটি বাস্তব প্রশ্ন থাকে— একটি স্নান কি সত্যিই “পাপ মোচন” করে? লেখক এখানে সংসার ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব তুলে ধরে দেখিয়েছেন, বাহ্য আচার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্তরের শুদ্ধতা আরও জরুরি। মূল ধারণা: পাপ মোচনের আসল ...

পবিত্র ব্রহ্মপুত্র নদে পূণ্যস্নান করে আমি কি পাপ মুক্ত হয়েছি? – লাঙ্গলবন্ধ মহাঅষ্টমী স্নানের কাহিনী

ছবি
  পবিত্র ব্রহ্মপুত্র নদে পূণ্যস্নান করে আমি কি পাপ মুক্ত হয়েছি? নিতাই বাবু Published 06:30pm : Updated : এই চৈত্রমাস আসলেই আমি একটা দুশ্চিন্তায় থাকি সব সময়৷ কারণ হলো লাঙ্গলবন্ধ স্নান ! সারাদিন বাইরে কাজ করে ঘরে আসলেই শুরু হয় ঐ লাঙ্গলবন্ধের প্রেমতলার বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ৷ আর এই আওয়াজ হলো আমার স্ত্রীর গলার আওয়াজ৷ এবার আর ছাড়বো না, এবার যেতেই হবে, মা বাড়ি থেকে এখানে আসছে স্নানে যাওয়ার জন্য, তোমাকে সাথে যেতেই হবে ইত্যাদি ইত্যাদি৷ আমার স্ত্রী আবার খুবই ধার্মিক, স্বামী ভক্তি না থাকলেও গুরুভক্তি আনেক৷ স্বামীর চরণ ছুঁইয়ে ভক্তি না দিলেও গুরুর চরণের আঙ্গুল চেঁটে খাওয়া লোক আমার স্ত্রী৷ যাক সব কথা, কিন্তু আমার কথা হলো যে স্নানে যেয়ে স্নান করলে যদি পাপ মোছনই হতো, তবে মানুষ সারা বছর পাপযুক্ত যত কাজ আছে সব কাজ সম্পাদন করে চৈত্রমাসের এই দিনকার আশায় থাকত৷ সমস্যা নাই পাপের কাজ করার জন্য৷ স্নানতো আছে? লাঙ্গলবন্ধের ব্রহ্মপুত্র নদ তো আছে? সেখানে গিয়ে স্নান করলেই তো পাপমুক্ত হয়ে যাব৷ এসব কথাগুলো আমার স্ত্রীকে শোনালাম, যাতে সে যেন বুঝতে পারে পাপ মোছনের জায়গা লাঙ্গলবন্ধের ব্রহ্মপুত্র নদ নয়, পাপ ম...

আমরা কি সত্যিই বিজ্ঞানমনস্ক? – সনাতনী হিন্দুধর্মের দৃষ্টিকোণ

ছবি
  আমরা কি সত্যিই বিজ্ঞানমনস্ক? - সনাতনী হিন্দুধর্মের দৃষ্টিকোণ প্রকাশক: সনাতন সন্দেশ | সোমবার ১৮ আগস্ট ২০২৫ পৃথিবীতে ধর্ম একটাই আর সেটি হল সনাতনী হিন্দু ধর্ম, বাকিগুলো মানুষ প্রচারিত বিশেষ উপাসনা পদ্ধতি বা ধর্মমত। আমরা অনেক সময়ই এই ধর্ম আর 'ধর্মমত' শব্দদুটি নিয়ে বিভ্রান্ত হই। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বিশেষ মানুষকে 'পূজা' করা হয় বা বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা মূল হিন্দু ধর্মে নেই। হিন্দু ধর্মে গুরুদেবের বিষয়েও বলা হয়েছে, শাস্ত্রে তাঁকে 'শিব জ্ঞানে' মেনে চলতে। সারা পৃথিবীতে মানুষ যখন সভ্য হতে শিখল, গুহা ছেড়ে বাড়িঘর বানিয়ে বাস করতে শুরু করল বা গাছের ছাল-পাতা দিয়ে কাপড় পরতে শিখল, তার বহু আগেই সনাতনী মানুষ বর্ণলিপি তৈরি করল এবং ধর্মগ্রন্থ বেদ রচনা করল। তাই সনাতনী হিন্দুধর্মের অনুসরণ সকল ধর্মমতেই লক্ষ্য করা যায়। সনাতনী হিন্দুধর্মের বিজ্ঞানসম্মত কিছু উদাহরণ: হিন্দু ধর্ম যখন বলে সৃষ্টি শুরু হয়েছিল জলে, তখন তা আমরা বিশ্বাস করি না। অথচ বিজ্ঞানও বলে, পৃথিবীর বুকে প্রথম প্রাণ সৃষ্টিও জলে হয়েছিল। হিন্দু ধর্ম যখন মৎস → কূর্ম → বরাহ → নৃসিংহের কাহিনী বলে, ...

স্কন্দপুরাণে শিবতীর্থের মাহাত্ম্য ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

ছবি
  স্কন্দপুরাণে শিবতীর্থের মাহাত্ম্য (সূত্র: স্কন্দপুরাণ, কাশীখণ্ড, পূর্বার্ধখণ্ড, ৩৩.৩১-৩৪) 📖 শাস্ত্রীয় বর্ণনা ত্রিভুবন তথা ভূলোক, অন্তরিক্ষলোক এবং স্বর্গলোকের মধ্যে যত তীর্থ আছে, তার মধ্যে প্রধান এই তীর্থ শিবতীর্থ নামে খ্যাত হবে। শিবশব্দার্থজ্ঞ পণ্ডিতেরা বলেন— শিব মানে জ্ঞান । এই তীর্থে ভগবান শিব নিজ মহিমায় সেই জ্ঞানকে জলের মধ্যে দ্রবীভূত করেছেন। এজন্য এই তীর্থ ত্রিলোকে ‘জ্ঞানোদ’ নামে প্রসিদ্ধ হবে। এই কুণ্ডতীর্থ দর্শন করলে সর্বপাপ মোচন হয়, স্পর্শ করলে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়, আর আচমন ও পানে রাজসূয় ও অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল প্রাপ্ত হয়। ফল্গুতীর্থ, পুষ্কর বা কুরুক্ষেত্রের সমতুল্য ফল এখানে সহজেই পাওয়া যায়। এমনকি বৃহস্পতিবার, পুষ্যানক্ষত্রযুক্ত শুক্লপক্ষীয় অষ্টমীতে ব্যতীপাতযোগ হলে এই কুণ্ডতীর্থে শ্রাদ্ধ করলে গয়ার শ্রাদ্ধ অপেক্ষা কোটি গুণ ফল লাভ হয়। 🌊 তীর্থস্নানের মাহাত্ম্য এই তীর্থে স্নান ও শ্রাদ্ধ করলে পিতৃলোকের মুক্তি ঘটে। অষ্টমী ও চতুর্দশীতে উপবাস করে প্রভাতে স্নান করলে হৃদয় শিবময় হয়ে ওঠে। একাদশ...