পোস্টগুলি

বাংলা কবিতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কেউ এগিয়ে এলো না!

ছবি
  "একটা মানুষও এগিয়ে এলো না!" নিহতের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন— “এতো মানুষ মিলে একটা মানুষকে মারলো, একটা মানুষও এগিয়ে এলো না…” তার কণ্ঠে কান্না ছিলো, কিন্তু তার কথায় ছিলো এক ভয়ংকর প্রশ্নের দহন। তাঁর স্বামীকে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে হত্যা করা হলো, আর চারপাশে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে থাকলো— তাকিয়ে থাকলো। কেউ কিছু বললো না, কেউ হাত বাড়ালো না। কেউ প্রতিবাদ করলো না। কেউ সাহস দেখালো না। এখন প্রশ্ন জাগে… এই দেশের মানুষ কী তবে খুনিদের মৌন সমর্থক? নাকি সবাই শুধু নীরব দর্শক? নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা কি সত্যের পাশে না দাঁড়ানোর অন্য নাম নয়? ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ কি খুনের অনুমোদন নয়? একটি সমাজের ভয়, নির্বাকতা, আর আত্মকেন্দ্রিকতা যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে থামিয়ে দেয়, তখন অপরাধীরা সাহস পায়—আর নিরীহরা প্রাণ হারায়। এই ঘটনায় শুধু একজন মানুষ মারা যায়নি, আসলে আহত হয়েছে আমাদের মানবতা। মারা গেছে নৈতিকতা। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা সেই শত শত মানুষ— তারা কি সত্যিই নিরাপদ? 🕯️ আমরা কি এক ভয়াবহ নির্লিপ্তির যুগে প্রবেশ করলাম, যেখানে ন্যায়বোধ নেই, প্রতিবাদ নেই, শুধু আছে চোখ, কিন্তু নেই দৃষ্টি...

যেই গল্পের শেষ নেই

ছবি
যেই গল্পের শেষ নেই - কবিতা ✨ যেই গল্পের শেষ নেই ✨ ✍️ লেখক: নিতাই বাবু 🪶 ভূমিকা জীবনে কিছু কিছু গল্প থাকে, যেগুলোর শুরু কোথা থেকে তা মনে থাকে না, আবার শেষ কবে হবে—সেটাও কেউ জানে না। সেই গল্পগুলো হয়তো কারো চোখে জল হয়ে ঝরে, কারো ঠোঁটের কোণে হাসি হয়ে ফুটে ওঠে। এই কবিতাটি ঠিক তেমন এক অন্তহীন অনুভবের গল্প , যেটা কোনো এক নীরব বিকেলে শুরু হয়, আর চলে যায় সময়ের সীমানার বাইরেও। এই কবিতা শুধু শব্দের নয়—এটা ভালোবাসার, প্রতীক্ষার, আর মানুষের মধ্যেকার এক নীরব সংলাপ। 🌠 মূল কবিতা 🌅 একটা গল্প শুরু হয়েছিলো একটি নিঃশব্দ সন্ধ্যায়... দিগন্তে তখন শেষ রোদের হালকা আঁচ, পাখিরা ফিরছিলো আপন গৃহে 🕊️। 📖 সেই গল্পের — না ছিলো সূচনা, না ছিলো পরিণতি, শুধু কিছু অনুভূতি, শব্দহীন ভাষা… যা হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়। ❤️ গল্পটা কেমন ছিলো? তোমার-আমার মাঝখানে একটা অলিখিত কবিতা, যেখানে প্রত্যেকটা নিঃশ্বাস একটি করে বাক্য হয়ে জন্ম নেয়। 🌊 প্রতিদিন নতুন একটি পৃষ্ঠা, নতুন আলো, নতুন ছায়া— ...

আমরা কী না খাই?

ছবি
  আমরা কী না খাই? আমরা ভাত খাই, মাছ খাই, মাংস খাই, বিস্কুট খাই, রুটি খাই, কলা খাই, ডিম খাই, মামলেট খাই, ভাজি খাই, হালুয়া খাই, পরোটা খাই, পরেরটা খাই, আমরা কী না খাই? আমরা সব খাই! আমরা বুট খাই, বাদাম খাই, চানাচুর খাই, বার্গার খাই, কেক খাই, জিলাপি খাই, নিমকি খাই, মুড়ি খাই, চিড়া খাই, খিরা খাই, কীড়া খাই, কসম খাই, আমরা কী না খাই? আমরা সব খাই! আমরা কচু খাই, লতি খাই, শিম খাই, আলু খাই, পটল খাই, বেগুন খাই, ফুলকপি খাই, বাঁধাকপি খাই, লাউ খাই, কুমড়া খাই, হামলা খাই, মামলা খাই, আমরা কী না খাই? আমরা সব খাই! আমরা পিঠা খাই, মিষ্টান্ন খাই, খই খাই, লাড়ু খাই, পায়েস খাই, সন্দেশ খাই, মিষ্টি খাই, ছানা খাই, দানা খাই, দুধ খাই, দই খাই, নদী খাই, আমরা কী না খাই? আমরা সব খাই! আমরা মাঠা খাই, ঘোল খাই, মাখন খাই, পুরি খাই, সিঙ্গারা খাই, চটপটি খাই, ফুচকা খাই, হালিম খাই, গ্রিল খাই, কাবাব খাই, গোল খাই, দোল খাই, আমরা কী না খাই? আমরা সব খাই! আমরা বেদানা খাই, কমলা খাই, পেস্তা খাই, বড়ই খাই, চড়ুই খাই, তেল খাই, বেল খাই, ঝোল খাই, আম...

দুঃখ আমার

ছবি
দুঃখ আমার ✍️ নিতাই বাবু | nitaibabublog.blogspot.com আমি সুখ খুঁজেছিলাম, সাথে নিয়ে দুঃখ! দুঃখকে দেখে দৌড়ে পালালো সুখ। দুঃখ আমার হেসে বলে, "সুখ কেন খুঁজিস? সুখ যে বড় স্বার্থপর, তা কি তুই জানিস?" যাঁদের আছে সুখ, তাঁরা হয় অহংকারী, যাঁদের থাকে দুঃখ, তাঁরা থাকে অনাহারী। সুখ থাকে দালানে, লেপ-তোশক খাটে, দুঃখ ঘোরে নগর পেরিয়ে গ্রাম-ঘাটে। সুখ থাকে ব্যাংকে, বিলাসী গাড়িতে, দুঃখ থাকে ছেঁড়া জামা, বুভুক্ষু হাঁসিতে। সুখ যারা পায়, তারা চায় আরও বেশি, দুঃখ যারা পায়, তারা খোঁজে ভাত-ভাতেসি। সুখ যাদের ঘরে, তাঁরা বাজায় তানপুরা, দুঃখ যাদের সঙ্গী, তাঁদের চোখে শুধু ঝুরা। সুখ আছে যাদের, তাঁরাই করে দুর্নীতি, দুঃখে যারা পুড়ে, খোঁজে শুধু মানবনীতি। সুখীরা ভাবে তারা চিরকাল থাকবে, কিন্তু দুঃখ জানে, সব একদিন ফুরাবে। সুখীরা বসে থাকে এ.সি-ঘরের কোণে, দুঃখীরা ঘামে রোজ গরম চুল্লির বনে। সুখ আছে যাদের, তারা ভুলে যায় ভগবান, দুঃখ আছে যাদের, তারা জানে করুণা প্রাণ। সুখ তাদেরও ছিলো, যারা আজ কবরে, দুঃখ তাদেরও সাথী, যারা বাসে ছিন্ন ঘ...

খুঁজেছিলাম

ছবি
খুঁজেছিলাম সুখ খুঁজেছিলাম ভোরের শিশিরে, পাখির কূজনে, ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে— কিন্তু পাইনি শান্তি এক বিন্দুও হৃদয়পটে। পেয়েছি কেবল দুখীর দীর্ঘশ্বাস, পেয়েছি ক্লান্ত আত্মার কান্না নিঃসাড় রাতে। শান্তির মা’কে খুঁজেছিলাম উপবাসে, প্রার্থনায়, বসে ছিলাম ধ্যানস্থ নিস্তব্ধ বিকেলে— কিন্তু নেমে এলো কেবল অশান্তির ঝড়, আমার হৃদয়ের নিভৃত বাগানে। ভালোবাসা খুঁজেছি দুয়ারে-দুয়ারে, কিন্তু ফিরেছি কেবল শূন্যতার হাহাকারে। প্রেমের পিপাসা নিয়ে ঘুরেছি দ্বারে-দ্বারে, দেখেছি সেখানে অভিনয়ের বাজারে তামাশার ঝাড়ে। টাকা-পয়সা খুঁজেছি রাস্তায় রাস্তায়, পেয়েছি কেবল মরিচিকার ধুলো ছড়ায়। ধনসম্পদ খুঁজেছি মহল্লায় মহল্লায়, শেষে হাতে উঠেছে অদৃশ্য ফাঁসির দড়ি—নিভৃতে বালায়! মানুষ খুঁজেছি মানুষের মেলায়, তবু মনুষ্যত্ব পাইনি কোথাও, ছিল শুধু ছায়া! স্রষ্টাকে খুঁজেছি পাথরে, ধূপে, রীতিতে, তিনি ধরা দেননি—শুধু ছিলেন আমার হৃদয়ের গভীর সীমানায়! ✍️ লেখক পরিচিতি: নিতাই বাবু — একজন সাহিত্যনিবেদিত প্রাণ, সমাজসচেতন ও দার্শনিক কবি। তাঁর কবিতায় ফুটে ওঠে মানুষের বেদনা...