পোস্টগুলি

মুক্তিযুদ্ধ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি

ছবি
  🕊️ আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি — নিতাই বাবু আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি— না, সিনেমার পর্দায় নয়, ইতিহাস বইয়ের পাতায় নয়, আমি নিজ চোখে দেখেছি আগুনের নিচে পোড়া মাটি, দেখেছি কাঁপতে থাকা শিশুর চোখে পিতৃহীন বিস্ময়, দেখেছি বধ্যভূমির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া নীরব জনপদ। আমি স্বাধীনতা দেখেছি— রক্তের বিনিময়ে কেনা সেই একটুকরো সকাল, যেখানে সূর্য উঠেছিল এক নতুন পতাকা হাতে। আমি দেখেছি, কীভাবে এক জাতি তার অস্তিত্বের জন্য লড়েছিল আগুন আর বুলেটের বিপরীতে দাঁড়িয়ে। আমি দেখেছি বাংলার মা-বোনদের আর্তনাদ, দেখেছি টান পড়ে যাওয়া শাড়ির ভাঁজে একটা স্বাধীন দেশের জেদ আটকে আছে। সেই কান্নার শব্দ আজও বাতাসে বেজে ওঠে, শুধু আমরা কান পেতে শুনি না। আমি দেখেছি লক্ষ লক্ষ মানুষকে জীবন দিতে, তাদের চোখের শেষ দৃষ্টিতে ভেসে উঠেছিল একটি মুক্ত ভূখণ্ডের স্বপ্ন— যেখানে কেউ আর পরাধীন হবে না, কেউ আর মুখ বুজে কাঁদবে না। এই আমি, এক ক্ষুদ্র মানুষ, একটি বড় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। আমি বয়ে বেড়াই সেই অস্থিচূর্ণ করা অতীত, আর বুকের ভিতর আজও জ্বলে— এক অসমাপ্ত বিজয়ের আগুন। ✒️ নিতাই বাবু পুরস্কারপ্...

স্বাধীনতা-পরবর্তী: নোয়াখালী থেকে নারায়ণগঞ্জ

ছবি
   স্বাধীনতা-পরবর্তী: নোয়াখালী থেকে নারায়ণগঞ্জ — এক জীবন্ত দলিল ✍️ নিতাই বাবু) (জন্ম: ৮ জুন ১৯৬৩, মাহাতাবপুর, নোয়াখালী | বর্তমান নিবাস: নারায়ণগঞ্জ) 🌾 মাহাতাবপুর: আমার শৈশবের স্বর্গভূমি আমার জন্ম ১৯৬৩ সালের ৮ই জুন, নোয়াখালীর চৌমুহনী থানার অন্তর্গত বজরা রেলস্টেশনের পাশের গ্রাম মাহাতাবপুরে। আমাদের পরিবার ছিল গ্রামের মধ্যে অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত হিন্দু পরিবার। আমার শৈশব যেন ছিল এক নির্মল সময়ের রঙিন ক্যানভাস — ট্রেনের হুইসেল, পাশের খালের জেলেদের মাছ ধরা, আম-কাঁঠালের বাগানে খেলাধুলা, আর সন্ধ্যায় হারিকেনের আলোয় গল্পে মেতে ওঠা। 🔥 একাত্তরের আগুনে আমাদের উঠোন ১৯৭১ সালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। আমার জ্যাঠা ছিলেন পাকিস্তান আমলে পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করা একজন দেশপ্রেমিক মানুষ। তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে আমাদের বাড়ি হয়ে ওঠে মুক্তিবাহিনীর এক গোপন ঘাঁটি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধারা এসে জড়ো হতেন, আমার জ্যাঠার সঙ্গে যুদ্ধের পরিকল্পনা করতেন। অস্ত্রও আনা হতো গোপনে। শিশুরা দূরে থাকত, তবু টের পাওয়া যেত সবকিছু। ⚔️ স্বাধীনতা, কিন্তু শান্তি ন...

গ্রামাঞ্চল ছেড়ে বন্দরের পথে: বাদাম বিক্রির শৈশব স্মৃতি

ছবি
🩵 গ্রামাঞ্চল ছেড়ে বন্দরের পথে: বাদাম বিক্রির শৈশবের দিনলিপি ✍️ লেখক: পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক নিতাই বাবু 📍 স্থান: নোয়াখালীর মহাতাবপুর, গ্রাম - থেকে - লক্ষ্মণখোলা, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ১৯৬৩ সালের জুনে আমার জন্ম, সেই অবহেলিত গ্রাম মহাতাবপুর -এ। গ্রামের পাশেই বাজরা রেলস্টেশন, আর দূরে কোথাও ছিল যুদ্ধের গন্ধ। বাবা তখন নারায়ণগঞ্জের এক ছোট চাকুরে, মাটি দিয়ে ঘেরা একটা দোচালা ঘর আর মা'র আঁচলে বাধা শান্তি ছিল আমাদের পৃথিবী। ১৯৬৮ সালে আমি ভর্তি হই মহাতাবপুর ফ্রি প্রাইমারি স্কুলে । পা জোড়া ছিল খালি, মাথায় ছিল ধুলো, আর কাঁধে ছালার ব্যাগে কয়েকটা বই। খাতার পাতা ভরে উঠতো কাঁচা হাতের অক্ষরে, কিন্তু মনের আকাশে আঁকা হতো স্বপ্নের রং। ১৯৭১ সালে দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো। দেশ স্বাধীন হবার পর গ্রামে ডাকাতে উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আমরা আর গ্রামে থাকতে পারিনি। আমাদের পরিবার চলে আসে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় । আমি ভর্তি হই লক্ষ্মণখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে । সেখানেও অভাব পিছু ছাড়েনি। ক্লাসের ফাঁকে বাদাম বিক্রি করতাম বাজারে, সেই টা...