পোস্টগুলি

ঈশ্বর লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভক্তিযোগ: ভক্তির আসল অর্থ ও সাধনার তিনটি মাত্রা

ছবি
  ভক্তিযোগ: ভক্তির আসল অর্থ ও সাধনার তিনটি মাত্রা ভক্তিযোগ: ভক্তির আসল অর্থ ও সাধনার তিনটি মাত্রা চতুর্বিধ যোগসাধনার অন্যতম হল ভক্তিযোগ । বর্তমানে 'ভক্তি' কিংবা 'ভক্ত' শব্দটির কিছুটা ভুল প্রয়োগ আমরা শুনতে পাই। যেমন — কোনও মঠ বা মন্দিরে সমাগত দর্শনার্থীদেরকে 'ভক্ত' বলা হয়, কিংবা 'সাধু ও ভক্ত' বলে আলাদা শ্রেণি ধরা হয়। কিন্তু ঠাকুর-স্বামীজির অনুধ্যানে ভক্তি একটি আধ্যাত্মিক সাধন-পথ । যিনি ভক্ত, তিনিই সাধক বা সাধু। তাই ভক্ত ও সাধু আলাদা কোনও শ্রেণি নয়। যোগের চারপথ অধ্যাত্ম-সাধনার যোগ চারপ্রকার: জ্ঞানযোগ কর্মযোগ রাজযোগ ভক্তিযোগ সাধক নিজের ক্ষমতা ও রুচি অনুযায়ী পথ বেছে নিতে পারেন। তবে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ভক্তিযোগই সহজতম ও মধুরতম । "ভক্তিযোগে ভক্তিই একাধারে উদ্দেশ্য এবং উপায় দুইই।" — স্বামী বিবেকানন্দ ভক্তির স্বরূপ ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ শেখালেন, 'ভক্তিকামনা কামনার মধ্যে নয়' । অন্য কামনা মানুষের বদ্ধতা বাড়ায়, কিন্তু ভক্তির কামনায় আত্মার আচ্ছাদন ক্ষীয়মান হ...

ঈশ্বর ও ভগবান: শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ও ভক্তির আলোকে সত্য অনুসন্ধান

ছবি
  ✨ ঈশ্বর, ভগবান না ব্রহ্ম?—শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ও ভক্তির দৃষ্টিতে সত্য অনুসন্ধান ✨ আজ সন্ধ্যা বেলায় এক সাধক ব্যক্তি আমায় ফোন করেছিলেন। তিনি যথেষ্ট পণ্ডিত ব্যক্তি বলেই শুনেছি। আমার “সতীপীঠ” পোস্ট প্রসঙ্গে তিনি কথা বলছিলেন। তিনি বললেন—ভগবান ও ঈশ্বর দুটি পৃথক বিষয় এবং শ্রীকৃষ্ণ নাকি ভগবান নন। তিনি বেদের উদাহরণ সহ অনেক যুক্তি দিলেন। আবার যখন আমি ৩৩ কোটি দেবতা প্রসঙ্গে বললাম, তখন তিনি হেসে উঠলেন, যেন তাচ্ছিল্য করলেন। অবশেষে আমি ফোন কলটি কেটে দিলাম। 🔱 ঈশ্বর প্রসঙ্গে 'ঈশ্বর' শব্দের উৎপত্তি সংস্কৃত ব্যাকরণের ‘ঈশ’ ধাতু থেকে, যার অর্থ কর্তৃত্ব করা । তাই যিনি সকলের কর্তা, তিনিই ঈশ্বর। ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নিয়ন্তা, সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা। তাঁর রূপ অনন্ত, নাম অনন্ত, ব্যাপ্তি অনন্ত। 💠 ভক্ত ও জ্ঞানীর দৃষ্টিতে সাধকের কাছে ঈশ্বর সাকার ও নিরাকার উভয় রূপে ধরা দেন। ভক্তের কাছে তিনি সাকার ভগবান, জ্ঞানীর কাছে তিনি নিরাকার ব্রহ্ম। ভগ...

বিশ্বাস, প্রশ্ন ও অনুভব—গদ্য কবিতা সসিরিজ (পূর্ব-১-১২)

ছবি
  📚 পর্যালোচনা: গদ্য কবিতা সিরিজ – বিশ্বাস, প্রশ্ন ও অনুভব 🌿 ধর্ম নিয়ে যখন বিশ্ব উত্তাল, তখন বাংলা সাহিত্যে এমন একটি গদ্য কবিতা সিরিজ সত্যিই সাহসী এবং আত্মিক এক প্রয়াস। “ঈশ্বর কি বিভক্ত হন?” দিয়ে শুরু এই সিরিজ আমাদের ঈশ্বর, ধর্ম, ভাষা ও ভালোবাসার চিরন্তন দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছে। পরবর্তীতে “তোমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর” , “আমি ঈশ্বরকে কাছে ডাকলাম” অথবা “যেদিন ঈশ্বর কাঁদলেন” — প্রতিটি পর্বে মানবতার সুরই মূল সুর হয়ে ওঠে। 🪔 এই সিরিজ শুধু কবিতা নয়, এক এক পর্ব যেন একেকটি আত্মজিজ্ঞাসা। যেখানে ঈশ্বরকে দেখা হয় নিখাদ মানুষের চোখে— কোনো নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থের ফ্রেমে নয়, বরং অনুভবে, চোখের জলে, শিশুর হাসিতে, প্রেমিকের স্নেহে। 🔍 সিরিজের মূল দর্শন: ❖ ঈশ্বর কোনো একক ধর্মের নয়—তিনি সকলের। ❖ ভালোবাসাই প্রকৃত ধর্ম, ঘৃণা নয়। ❖ প্রার্থনা মুখের শব্দ নয়, হৃদয়ের ভাষা। ❖ ঈশ্বরকে পাওয়া যায় নিঃশব্দ আহ্বানে, প্রতিদিনের মানুষের ভিতর। 📘 পর্বসমূহ: 👉 পর্ব-১: ঈশ্বর কি বিভক্ত হন? 👉 পর্ব-২: তোমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর 👉 পর্ব-৩: হৃদয়ে ধর্...

আমি ঈশ্বরকে কাছে ডাকলাম—গদ্য কবিতা (পর্ব-১১)

ছবি
  📜 গদ্য কবিতা: আমি ঈশ্বরকে কাছে ডাকলাম আমি দাঁড়িয়েছিলাম এক নীরব বিকেলে, যখন পাখিরাও আর গান গায় না, আর শহরের কোলাহলও ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি ঈশ্বরকে কাছে ডাকলাম। কোনো আয়াত, কোনো মন্ত্র, কোনো ঘন্টাধ্বনি ছাড়াই— শুধু মনের নিঃশব্দ ভাষায় বললাম, “তুমি কি একটুখানি বসবে আমার পাশে?” চারদিকে ছায়া নেমে এলো, আর বাতাস নরম হয়ে এল গাল ছুঁয়ে। আমি বুঝলাম— তিনি এসেছেন। তিনি কিছু বলেননি, কিন্তু আমি শুনতে পেলাম হৃদয়ের গভীরে এক অনন্ত সাহসের শব্দ: “তোমার কান্নাও আমার প্রার্থনা, তোমার ভালোবাসাও আমার পূজা।” আমি ঈশ্বরকে বললাম— “তুমি কি সব ধর্মের দেয়াল পেরিয়ে আসতে পারো?” তিনি মুচকি হেসে বললেন— “তোমরা যদি ভালোবাসতে জানো, তবে আমিও পারি।” সেই দিন আমি ঈশ্বরকে কাছ থেকে দেখিনি, কিন্তু আমি বুঝেছি— ঈশ্বর দূরের নয়, খুব নিজের । কেবল ডাকলেই তিনি নেমে আসেন— নাম ছাড়াই, ধর্ম ছাড়াই, নিঃশব্দে। – পর্ব-১১, গদ্য কবিতা সিরিজ নিতাই বাবু পুরস্কারপ্র...

আমার ঈশ্বর নিঃশব্দ—গদ্য কবিতা (পর্ব-১০)

ছবি
  🕯️ গদ্য কবিতা – পর্ব–১০ আমার ঈশ্বর নিঃশব্দ আমি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি, কেউ পাশে দাঁড়ায় না, তখন আমার ঈশ্বর নিঃশব্দে এসে বসে পড়েন আমার পাশে— কিছু বলেন না, শুধু থাকেন। তুমি যখন ‘পবিত্রতা’র খোলসে ঢেকে ফেলো জীবন, আমার ঈশ্বর তখন পলিথিনে মোড়ানো এক শিশুর চোখে জেগে থাকেন। তুমি তাঁকে ডাকো উচ্চ শব্দে— নাম ধরে, আয়াত ধরে, মন্ত্র ধরে। আমি চুপ করে থাকি, কারণ আমার ঈশ্বর শব্দ চেনেন না— তিনি শুধু হৃদয়ের নীরব কাঁপন বোঝেন। তিনি কথা বলেন না। তবু আমি শুনি— আমার ভুলে, আমার কাঁদা মুখে, আমার না-বলা প্রার্থনায় এক অদৃশ্য স্পর্শ হয়ে থাকেন তিনি। তুমি ধর্মের ব্যাখ্যা দাও— তিনি কাদের ঈশ্বর, কোন রাস্তায় যাওয়া যায় তাঁর কাছে। অথচ আমার ঈশ্বর তো পথ চিনিয়ে দেন না, শুধু আমাকে আমার দুঃখ থেকে ডেকে তোলেন। তিনি যখন কাঁদেন, আমি বুঝতে পারি না। কিন্তু যখন আমি কাঁদি, তখন তিনি নিশ্চুপ হয়ে থাকেন— যেন আমিই তাঁর কান্নার প্রতিধ্বনি। আমার ঈশ্বর নিঃশব্দ , কারণ তিনি জানেন— শব্দ যত বাড়ে, তত মিথ্যা ঢেকে দেয় হৃদয়ের সত্য। তিনি বলেন...

যেদিন ঈশ্বর কাঁদলেন—গদ্য কবিতা (পর্ব-৯)

ছবি
  🕯️ গদ্য কবিতা – পর্ব–৯ যেদিন ঈশ্বর কাঁদলেন সেদিন আকাশ ছিল রক্তিম। বাতাসে ছিল পচা লাশের গন্ধ। শিশুর কান্না মিশে গিয়েছিল গোলাগুলির শব্দে। আর ঠিক তখনই, ঈশ্বর কাঁদলেন। তাঁর চোখে জল ছিল না— কারণ মানুষের কান্না এতটাই গভীর ছিল, যে ঈশ্বরের নিজস্ব চোখকেই ম্লান লাগছিল তাদের সামনে। তিনি কাঁদলেন এক মায়ের আর্তনাদে, যে হারিয়েছিল তার একমাত্র সন্তানকে, কাঁদলেন সেই পিতার শূন্য দৃষ্টিতে, যে শেষবার ছেলের মুখ ছুঁতে পারেনি। তাঁর কান্না জমে ছিল মাটির গভীরে, যেখানে মানুষের রক্ত লেগে ছিল ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবিতে। ঈশ্বর বললেন না কিছুই। কারণ তিনি জানেন— সব ধর্ম মিলেও যদি একটিও প্রাণ বাঁচাতে না পারে, তবে তা শুধু নিয়মের খোলস । ঈশ্বর তখন মানুষ হতে চাইলেন— যেন কাউকে জড়িয়ে ধরতে পারেন, যেন কারও হাত ধরে বলতে পারেন, “আমি আছি, আর কাঁদতে দিও না।” কিন্তু মানুষ তখন ঈশ্বরকে খুঁজছিল মন্দিরে, কেউ গীর্জায়, কেউ কাবায়, কেউ প্রতিমার চোখে— অথচ ঈশ্বর দাঁড়িয়েছিলেন বারান্দায় এক অনাথ শিশুর পাশে, যার কোনো ধর্ম ছিল না, ছিল শুধু ক্ষুধা...

ঈশ্বর কি ঘর চেনে? গদ্য কবিতা (পর্ব-৪)

ছবি
  🪔 গদ্য কবিতা – পর্ব-৪: ঈশ্বর কি ঘরঈশ্বর চেনে? ঈশ্বর কি ঘর চেনে? চেনে কি দেয়ালের রং, চেনে কি মাথার উপর ছাদ? চেনে কি মসজিদের মিনার, মন্দিরের গম্বুজ, গির্জার ক্রুশ? নাকি তিনি থাকেন শুধু— যেখানে মানুষ ভালোবাসে, আর বাঁচতে চায়? আমি দেখি, অনেকেই ঘর বানায় ঈশ্বরের নামে, তাতে লিখে রাখে— "এখানে কেবল সৎ লোকের প্রবেশ।" কিন্তু কীভাবে বুঝবে কে সৎ আর কে নয়? যে ক্ষুধার্তের পেটে ভাত নেই, তার পবিত্রতা কি সনদের দরকার? তোমরা বলো, ঈশ্বর নির্দিষ্ট ঘরে থাকেন, কেউ বলে, থাকেন উপসনালয়ে, কেউ বলে, রথযাত্রার রশিতে, আবার কেউ বলে, মোমবাতির আলোয়। আমি বলি— ঈশ্বর ঘর চেনেন না, তাঁর ঘর নেই, তাঁর ঠিকানা শুধু হৃদয়। তিনি যখন আসেন, তখন দেয়াল ভাঙে, ভেতরের ঘরের পাপ পরিষ্কার হয়, আর মানুষে মানুষে মিলনের সেতু গড়ে ওঠে। ঈশ্বর কি ঘর চেনে? হয়তো চেনেন না, তাই প্রতিদিন তিনি নতুন নতুন হৃদয়ে জন্ম নেন, একেকটা করুণ মুখে, একেকটা সাহসী মমতার ছোঁয়ায়। — নিতাই বাবু নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুর...

হৃদয়ে ধর্ম— গদ্য কবিতা (পর্ব-৩)

ছবি
  📘 গদ্য কবিতা: হৃদয়ের ধর্ম আমার বিশ্বাস, ঈশ্বর কারো একার নয়। তিনি সেই শিশুটিরও, যে ভাতের বদলে বিকেলে বাতাস খায়, আবার তারও, যে দামি আসনে বসে তাঁকে ডাকে ঘন্টার শব্দে। তোমার প্রার্থনা হয়তো আয়তুনের সুরে, আমার হয় মৌন ধ্যানের গভীর নিঃশ্বাসে— কিন্তু তবু কি হৃদয়ের অনুরণন এক নয়? আমি দেখেছি, ঈশ্বরের চোখ ভিজে যায় যখন কেউ ক্ষুধার্ত পাখিটিকে মুঠো চাল ছুঁড়ে দেয়। আমি শুনেছি, তাঁর নিঃশব্দ প্রশ্রয় এক মায়ের শীতার্ত সন্তানের গায়ে চাদর জড়িয়ে দেয়। তিনি সেখানে নেই—যেখানে গর্জে ওঠে ঘৃণার স্লোগান। তিনি সেখানে আছেন—যেখানে একজন মানুষ আরেকজন মানুষের চোখে "মানুষ" হয়ে ওঠে। ধর্ম যদি মানুষকে মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে সে ধর্ম নয়— বরং একটি ভুল বোঝা নিয়মের কারাগার। আমার ধর্ম হৃদয়ের , যেখানে বিশ্বাস নেই দেয়ালে, আছে ভালোবাসায়, নেই ভয়, আছে সম্মান। যেখানে চোখে জল সেখানে ঈশ্বরের আসন। আর যেখানে ভালোবাসা সেখানেই সত্যিকারের ধর্ম । নিতাই বাবু পুরস্ক...