পোস্টগুলি

বাংলা-সাহিত্য লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঈশ্বর ভাবনা

ছবি
  🌿 বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি একেশ্বরবাদী ছিলেন? প্রশ্ন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি একেশ্বরবাদে (Monotheism) বিশ্বাস করতেন? ✅ সংক্ষেপে উত্তর: হ্যাঁ, তিনি মূলত একেশ্বরবাদী ছিলেন , তবে তাঁর একেশ্বরবাদ ছিল আত্মিক ও দার্শনিক ভিত্তির উপর। তিনি গোঁড়া ধর্ম নয়, বরং হৃদয়ের ভেতরকার ঈশ্বরতত্ত্বে বিশ্বাস করতেন। 🕊️ রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর ভাবনা: রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতা, গান, প্রবন্ধ ও চিঠিপত্রে বারবার বলেছেন — ঈশ্বর আমাদের হৃদয়ে, চেতনায়, প্রকৃতিতে। “তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম” – এখানে ঈশ্বর হৃদয়ের নীরব উপস্থিতি। “আমার ঈশ্বর মানুষে মানুষে” – এখানে ঈশ্বর হলেন মানবতার আরাধ্য। “এই যে সুন্দর পৃথিবী, এই যে মানুষের ভালোবাসা — এর মধ্যেই আমি ঈশ্বরকে খুঁজি।” 📿 তিনি কোনো ধর্মীয় গোঁড়ামি মানতেন না: তিনি ব্রাহ্ম সমাজে শিক্ষা পেলেও পরে নিজস্ব ভাবধারায় চলতেন। তাঁর বিশ্বাসের কেন্দ্র ছিল: মানবতা, প্রেম, ও করুণা। 🔍 তাহলে তিনি হিন্দু, ব্রাহ্ম, না নাস্তিক? নাস্তিক ছিলেন না। তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিলেন, তবে তা ছিল যুক্তিবাদী ও কাব্যিক। ধর্মের গোঁড়ামি থেকে মুক্ত একজন মানবতাবাদী কব...

স্বরবর্ণের অক্ষরগুলোর কথোপকথন

ছবি
  🅰️ স্বরবর্ণের অক্ষরগুলোর কথোপকথন অ বলে শোন রে তোরা আমি অসীম , আমিই সেরা! এ নিয়ে তোরা কে করবি আমার সাথে জেরা ? আ বলে আমি আল্লাহর ভক্ত , সেটা তুমি জানো? আরও হলাম আকাশকুসুম , এবার আমায় গুরু মানো! ই বলে আমি কি দেখাতে পারি আমার ইচ্ছাশক্তি ? আমি থাকি ইশারায় , তাই সবাই আমায় করে ভক্তি! ঈ বলে দেখ দেখি! আমি আছি স্বয়ং ঈশ্বরের কৃপায় ! আমার ভক্ত ঈমানদার , তবুও চিনছিস না আমায়? উ বলে আমি আছি সবার উপরে সকল উৎসবে , করো না তুচ্ছ ! একটু খেয়াল করে ভেবে দেখ সবে। ঊ বলে শুনলাম সবার কথা, শুনলাম সব গুণকীর্তন , ঊষালগ্নে আমায় দেখে শুরু করে হরিনাম সংকীর্তন । ঋ বলে শোন সবাই, আমি তোদের ঋণ দিয়ে চালাই, ঋষি , কৃষি যত আছে আমাকে ঋ নামে চিনে সবাই। এ বলে এই যা! এঁরা আমায় কেন দিয়েছে রে বাদ ? এবাদত ছাড়া কি গ্রহণ করতে পেরেছে স্বর্গের স্বাদ ? ঐ বলে চুপ থাক তোরা, ধেয়ে আসছে ঐরাবত ! ক্ষেপে গেলে বিপদ, যতই করিছ তোরা এবাদত ! ও বলে হায়রে কপাল! ওলকচু খাইছনি কোনকালে? ওলকচুতে গলা ধরে , মনে থাকে ইহকাল পরকালে ! ঔ বলে ঘাবড়াবে না! আমি ...

দুঃখের ছায়া

ছবি
  🖤 দুঃখের ছায়া নীরব রাতের কান্না শুনি, চাঁদের আলোয় ভেজে ধূনি। হৃদয় জুড়ে জমে ব্যথা, কেউ বোঝে না, রাখে না কথা। ভাঙা স্বপ্ন কাঁচের মতো, পায়ে লাগে, রক্ত ঝরতো। হাসির আড়াল বিষাদ ভরা, জীবন যেন নিঃশ্বাস ধরা। বন্ধ জানালায় চেয়ে থাকি, আলো আসে, ছুঁয়ে না মাখি। স্মৃতিরা আসে, বসে পাশে, বলে, “তুমি একা নও আশে।” ছোট্ট কিছু কথা, হারানো গান, ভেসে আসে দূর অতীতের প্রাণ। একটি চিঠি, একটি ছবি, ভালোবাসা ছিল, আজ শুধু রবি। মায়ের মুখ, বাবার ছায়া, বন্ধুর হাসি, প্রেমের মায়া। সবই যেন স্বপ্নের মতো, জেগে উঠি, নেই কেউ ততো। দুঃখ আমার সাথী হয়ে, চলে দিন, রাতের ছোঁয়ায়। সে-ই জানে, কতটা কাঁদি, সে-ই বোঝে, কতটা ভাঙি। তবু আশার আলো জ্বলে, একটি নাম, একটি ছলে। ভবিষ্যতের একটুখানি রঙ, দুঃখের মাঝে স্বপ্নের ঢঙ। আমি লিখি, আমি গাই, ব্যথার মাঝে শান্তি পাই। দুঃখ যদি বন্ধু হয়, তবে সে-ই তো হৃদয়ের জয়। ✍️ লেখক পরিচিতি: নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক — ২০১৭ ব্লগ ডট বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম 📚 আরও পড়ুন: 👉 জীবনের ঘটনা | নিতাই বাবু ব্লগ | ...

আমার ছোটবেলা

ছবি
আমার ছোটবেলা ✍️ নিতাই বাবু আমার ছোটবেলা খুব সাদামাটা, খুব চুপচাপ। তাতে ছিল না দামি খেলনা, না ছিল চকচকে জামা। তবে ছিল রোদ, ছিল ধুলা, ছিল ঘামের গন্ধ মাখা একটা জীবন্ত জীবন। ভোরবেলায় মায়ের ডাকে উঠত ঘুম। "তাড়াতাড়ি ওঠ, বাজারে যেতে হবে, বই কিনতে পারবি না তাহলে!" আমি ঘুমচোখে ভাবতাম, বই না কিনলে কী হবে? কিন্তু পরে বুঝেছি, একটা বই মানে একটা দরজা— যে দরজা দিয়ে আমি আমার দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে স্বপ্নের দিকে হেঁটে যেতাম। স্কুলে যেতাম ছেঁড়া ব্যাগ আর পায়ে ছেড়া চপ্পল নিয়ে। বন্ধুরা পেছনে তাকিয়ে হাসত—তাদের হেসে ফেলতে দোষ নেই, কারণ তারা জানত না, আমি বাদামও বেচি, আবার অঙ্কও কষি। তারা দেখত কেবল বাদামের ঝুড়ি, আমি দেখতাম তার ভেতরে লুকানো বইয়ের টাকা। অনেক দিন স্কুলের পেছনের বেঞ্চে বসেছি, তবু কখনও পড়া ছেড়ে দিইনি। যেদিন খাতার পাতা শেষ হয়ে যেত, সেদিন রাস্তার মোড়ে আরও একটু বেশি হাঁটতাম। একটা বাদাম বেশি বিক্রি মানে, একটা পৃষ্ঠা বাঁচানো যায়। ছুটির দিনে যখন অন্যরা খেলত ক্রিকেট, আমি গুনতাম কয়টা বাদাম বাকি আছে ঝুড়িতে। তবু মন খারাপ করিনি, ক...