পোস্টগুলি

আত্মজীবনী লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শেষ ক'টি দিনে যা বলতে চাই

ছবি
  শেষ ক'টি দিনে যা বলতে চাই একটা সময় আসে, যখন মানুষ থেমে দাঁড়ায় নিজের ছায়ার মুখোমুখি। আজ আমি তেমন এক মুহূর্তে পৌঁছেছি। জানি না আর কতটা সময় আছে হাতে, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে অনুভব করছি—আমি হয়তো এই সুন্দর পৃথিবীতে আর বেশিদিন নেই। মহান সৃষ্টিকর্তা হয়তো অনেক আশা নিয়ে আমাকে এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন—এই পৃথিবী, এই সমাজ, এই দেশের মানুষের জন্য কিছু করবো বলে। আমি চেষ্টা করেছি। কখনো কলম দিয়ে, কখনো কথা দিয়ে, কখনো নীরবতা দিয়ে সমাজকে বোঝাতে চেয়েছি আমার মনের কথা। তবুও আমি জানি, অনেক কিছুই করতে পারিনি। অনেক সময় ব্যর্থ হয়েছি, পিছিয়ে গেছি, ক্লান্ত হয়েছি। হয়তো সাহস ছিল না, সুযোগ ছিল না, অথবা ছিল না পাশে থাকার মতো কেউ। আজ আমি হাতজোড় করে ক্ষমা চাই—মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে, এই সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে। আমি চাই, আমার এই শেষ ক'টি দিন যেন হয় কিছু দেওয়ার, কিছু জানানোর, কিছু ফিরে পাওয়ার। আমি চাই, আমার লেখা—আমার অনুভব—আমার কথাগুলো থেকে কেউ যদি একটিবার থেমে ভাবে, তাহলেই আমি সার্থক। জানি, এই পৃথিবী চলে যাবে নিজের ছন্দে। আমি থাকি বা না থাকি, নদী বইবে, পাখিরা গাইবে, রোদ ঝরে পড়বে জানালায়। আমি শুধু ...

ব্যর্থ জীবন

ছবি
  ব্যর্থ জীবন কেন এই পৃথিবীতে এলাম? কার উদ্দেশ্যে এই আগমন? বেঁচে থাকবার অর্থ কি শুধুই নিঃশ্বাস নেওয়া আর মৃত্যুর অপেক্ষা করা? এত বছর কেটে গেলো— তবুও আজ নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হয়, কি করলাম আমি এই জীবনে? না পেরেছি নিজের অস্তিত্বের অর্থ খুঁজে পেতে, না পেরেছি মানুষের জীবনে আলো জ্বালাতে। জন্মের পর থেকে কেবলই ছুটেছি। কখনো জীবিকার জন্য, কখনো প্রমাণের জন্য, কখনো আপনজনের ভালোবাসা পাবার আকুতি নিয়ে। তবুও যেন কোথাও পৌঁছাতে পারিনি। শুধু কষ্ট জমেছে বুকের খাঁচায়, শুধু ঋণ বেড়েছে জীবনের কাছে। স্মৃতির খাতায় যদি চোখ রাখি, দেখি সেখানে আছে অপূর্ণতা, অসফলতার দীর্ঘ ছায়া, আর আছে কিছু অনুতাপ— যা রাতে নিঃশব্দে কাঁদিয়ে তোলে। অহংকার করেছিলাম এই দেহ নিয়ে— চেহারা, সামান্য বিদ্যা, সামান্য কিছু সম্পদ। ভেবেছিলাম, এটাই বুঝি আমার অর্জন! কিন্তু মৃত্যু এসে বলে দেবে— "তোর কিছুই তোর নয়, সবই সময়ের ধার।" এই দেহ পুড়ে যাবে চিতার আগুনে, রেখে যাবে একমুঠো ছাই আর কিছু শোকবার্তা। কারও চোখে অশ্রু নাও আসতে পারে, কারও মুখে উচ্চ...

আমার ছোটবেলা

ছবি
আমার ছোটবেলা ✍️ নিতাই বাবু আমার ছোটবেলা খুব সাদামাটা, খুব চুপচাপ। তাতে ছিল না দামি খেলনা, না ছিল চকচকে জামা। তবে ছিল রোদ, ছিল ধুলা, ছিল ঘামের গন্ধ মাখা একটা জীবন্ত জীবন। ভোরবেলায় মায়ের ডাকে উঠত ঘুম। "তাড়াতাড়ি ওঠ, বাজারে যেতে হবে, বই কিনতে পারবি না তাহলে!" আমি ঘুমচোখে ভাবতাম, বই না কিনলে কী হবে? কিন্তু পরে বুঝেছি, একটা বই মানে একটা দরজা— যে দরজা দিয়ে আমি আমার দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে স্বপ্নের দিকে হেঁটে যেতাম। স্কুলে যেতাম ছেঁড়া ব্যাগ আর পায়ে ছেড়া চপ্পল নিয়ে। বন্ধুরা পেছনে তাকিয়ে হাসত—তাদের হেসে ফেলতে দোষ নেই, কারণ তারা জানত না, আমি বাদামও বেচি, আবার অঙ্কও কষি। তারা দেখত কেবল বাদামের ঝুড়ি, আমি দেখতাম তার ভেতরে লুকানো বইয়ের টাকা। অনেক দিন স্কুলের পেছনের বেঞ্চে বসেছি, তবু কখনও পড়া ছেড়ে দিইনি। যেদিন খাতার পাতা শেষ হয়ে যেত, সেদিন রাস্তার মোড়ে আরও একটু বেশি হাঁটতাম। একটা বাদাম বেশি বিক্রি মানে, একটা পৃষ্ঠা বাঁচানো যায়। ছুটির দিনে যখন অন্যরা খেলত ক্রিকেট, আমি গুনতাম কয়টা বাদাম বাকি আছে ঝুড়িতে। তবু মন খারাপ করিনি, ক...

আমি বাদামওয়ালা

ছবি
আমি বাদামওয়ালা নিতাই বাবু: আমি বাদামওয়ালা, শহরের পথের বন্ধু, ডাকি সকাল-বিকেল— “বাদাম লাগবে? খাঁটি বাদাম!” ঝুড়ি ভরা বাদামের পাশে থাকত কিছু স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন দিয়েই কিনতাম বই, খাতা, কলম। বাবা-মা বলতেন, “পড়তে হবে তোকে!” আর আমি বলতাম— “বাদাম বিক্রি করে, হ্যাঁ, পারব আমি!” রোদে পুড়েছি, বৃষ্টিতে ভিজেছি, তবুও হেরেছি না, কারণ আমার কলমের রং ছিল ঘামের মত স্বচ্ছ। পাঠশালার বেঞ্চে বসে ভাবতাম কবিতা, পথের ধুলোয় খুঁজতাম শব্দের দীপ্তি। সেই আমি— আজও লিখি, কাগজে নয় শুধু, হৃদয়ে। আমি বাদামওয়ালা— আর এটাই আমার কবিতা। লেখক পরিচিতি: নিতাই বাবু:  একজন সাহিত্যপ্রেমী, ব্লগার এবং কথাশিল্পী, যিনি বাংলা ভাষার গভীরে ডুবে গিয়ে লিখে চলেছেন জীবনের কথা, সমাজের কথা। তাঁর কবিতায় উঠে আসে আত্মজিজ্ঞাসা, নিঃসঙ্গতা, শৈশবের ক্ষত এবং মানুষের অভ্যন্তরের অন্ধকার। তিনি bdnews24.com ব্লগের একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক। সেখান থেকেই তাঁর লেখালেখির হাতেখড়ি। শেয়ার করুন: 📘 Facebook 🐦 Twitter 📱 WhatsApp পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার ...