পোস্টগুলি

জুলাই ২১, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জীবনচক্র

ছবি
  জন্ম থেকে জীবন শুরু, চিতায় আগুনে হয় শেষ, শৈশব থেকে বৃদ্ধকাল, যৌবনে উত্তাল ধরে কত ছদ্মবেশ। হেঁটে চলে জীবনের পথে, কত শত মুখ দেখি, কত স্মৃতি হয় জড়ো, কিছু হাসি, কিছু কান্না, কিছু চাওয়া, কিছু পাওয়া, আবার কিছু না পাওয়ার শূন্যতা! আশার আলোয় আলোকিত এক নতুন সকাল, কত স্বপ্ন, কত ইচ্ছে, কত উন্মাদনা ধরা দেয় হৃদয়ে। শৈশবের দুরন্তপনা, কৈশোরের বাঁধনহারা উন্মত্ততা, প্রেমের প্রথম স্পর্শ, সবুজ পাতায় লেখা জীবনের নতুন অধ্যায়, আর বার্ধক্যের বিষণ্ণতা। তবুও এই খেলা থেমে থাকে না, জীবন আবার ফিরে আসে নতুন করে নতুন কোনো রূপে, এক জীবন থেকে আরেক জীবনে যেন এক অফুরন্ত নদী! একবার যদি শুরু হয় এই জীবন, তবে এর শেষ কোথায় কে জানে, কে বলতে পারে? জীবনের গল্প চলতেই থাকে, নতুন গল্প তৈরি হয়, আর সেই গল্পে লেখা হয়— নতুন এক ইতিহাস। নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুর...

মাটির ঘর

ছবি
মাটির ঘর — ঠাকুরদার লাল মাটির স্মৃতিতে মাটির ঘর (ঠাকুরদার লাল মাটির স্মৃতিতে) চাটগাঁর হাট থেকে লাল মাটি এনেছিলেন ঠাকুরদা, মাটির গন্ধ মাখা হাতে গড়েছিলেন স্বপ্ন-সদা। এক মুঠো ইচ্ছা, এক ঢেলা মাটি, এক টুকরো আকাশের নিচে উঠল আমাদের ঘরখানি। ছন-ঢাকা ছাদে বৃষ্টি পড়লে, সুর বেজে উঠত — যেন সানাই বাজে! বেলির গাছটা দাওয়ার পাশে, সন্ধ্যায় ফোটাত কুঁড়ি, মাটির ঘর হাসে। আঁধারে কুপি জ্বলে, কুপি জ্বলে মনে, ঘরের কোণে শুয়ে গল্প বলত দাদু জনে। তার কণ্ঠে শোনা যেত ইতিহাসের গান, কেমন করে এনেছিলেন লাল মাটির বয়ান। শীতের সকালে পাটিতে বসে, মা দিত খেজুর রস — উনুনে গরম ভাতে। ঘরের দেয়ালে ছিল ফাটল বহু, তবু ভালোবাসা ছিল প্রতিটা ইটে, প্রতিটা ঘিলে। আজ বহুতল, কংক্রিটের দেয়াল, তবু মনে পড়ে সেই মাটির প্রহরকাল। ঘরের গায়ে ধুলোর গন্ধ, আর ঠাকুরদার হাতে আনা লাল মাটির সন্ধান। নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগ...

ভোরের অপেক্ষা

ছবি
  🌅 গল্প: ভোরের অপেক্ষা রাত পেরিয়ে নতুন একটি দিনের ভোর আসছে। গ্রামের শেষ প্রান্তের মাটির ঘরে বসে অশীতিপর বৃদ্ধ নিমাই দাদা তাকিয়ে আছেন পুরোনো কাঠের জানালা দিয়ে। বাইরের আকাশে এখনও ঘুটঘুটে অন্ধকার, কিন্তু তাঁর চোখে আলো। নয়, বাইরের নয়—ভেতরের আলো। তিনি জানেন, আজ হয়তো তাঁর জীবনের শেষ ভোর। বুকের ব্যথাটা এখন সহ্য হয় না। হাঁটতে পারেন না ঠিকমতো, কথা বলতে গেলেই কাশি চেপে ধরে। তবুও তিনি জানালা খুলে বসে আছেন, ভোর দেখবেন বলে। এই ভোর তাঁর কাছে শুধু সূর্য ওঠার সময় নয়, এটা যেন তাঁর জীবনের শেষ আলো। তিনি অপেক্ষা করছেন ছোট ছেলে সুমনের জন্য। শহর থেকে ফোন করেছিল গতকাল—‘বাবা, কাল আসব’। সেই অপেক্ষার ভোর আজ। নিমাই দাদার হাত কাঁপছে, কপালে ঘাম, কিন্তু চোখে অপেক্ষার আলো। হঠাৎ গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে একটা বাইকের শব্দ। জানালা দিয়ে ঝুঁকে তাকান তিনি। অন্ধকার ভেদ করে আলোয় ভেসে ওঠে সুমনের মুখ। নিমাই দাদা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাসলেন—যেন জীবনের সব দুঃখ লাঘব হয়ে গেল এই এক পলকে। ভোর এসেছিল, তবে সূর্য ওঠার আগেই নিমাই দাদা চোখ বুজলেন। আর সেই মুহূর্তে ঘরের বাইরে ছড়িয়ে পড়ল প্রথম রশ্মির আলো। ছেলে পাশে বসে...