পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভক্তি ও প্রেমের দর্শন — পর্ব-২২

ছবি
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভক্তি ও প্রেমের দর্শন — পর্ব-২২ | নিতাই বাবু শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভক্তি ও প্রেমের দর্শন — পর্ব-২২ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে ভক্তি র কথা বলেছেন। ভক্তি কেবল আনুষ্ঠানিক পূজা নয়, বরং ভগবানের প্রতি গভীর প্রেম, বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণ । এই অধ্যায়ে আমরা ভক্তির প্রকৃত রূপ এবং এর জীবনমুখী প্রয়োগ আলোচনা করব। 🌸 ভক্তির রূপ শ্রবণ: ঈশ্বরের কীর্তন ও লীলা শ্রবণ করা। কীর্তন: ভগবানের নাম ও গুণগান করা। স্মরণ: প্রতিদিন ভগবানকে স্মরণে রাখা। সেবন: নিঃস্বার্থভাবে অন্যের সেবা করা। 💖 প্রেমের দর্শন ভক্তি তখনই পূর্ণতা পায় যখন তার সঙ্গে প্রেম যুক্ত হয়। গীতা শেখায়— ঈশ্বরের প্রতি প্রেমই হলো মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার শ্রেষ্ঠ উপায়। ভগবান বলেন, “যে ভক্ত আমাকে প্রেমসহকারে আহ্বান করে, আমি তার সঙ্গেই থাকি।” 🌱 জীবনে ভক্তির প্রয়োগ অহংকার ত্যাগ করে বিনম্র হওয়া। প্রতিটি কাজে ভগবানের নাম স্মরণ করা। অন্যের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো। সাধারণ জীবনযাপন করে আত্মিক উন্নতি সাধন। 🔔 উপসংহার ভক্তি ও প্রেম কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং জীব...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় আধ্যাত্মিক শান্তি ও আত্মোন্নয়ন — পর্ব-২১

ছবি
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় আধ্যাত্মিক শান্তি ও আত্মোন্নয়ন — পর্ব-২১ | নিতাই বাবু শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় আধ্যাত্মিক শান্তি ও আত্মোন্নয়ন — পর্ব-২১ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে আধ্যাত্মিক শান্তি ও আত্মোন্নয়ন -এর কথা বলে। এই অধ্যায়ে আমরা দেখব কীভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণী আধুনিক মানুষকে অভ্যন্তরীণ শান্তি, মানসিক স্থিরতা এবং নৈতিক উন্নতির পথে পরিচালিত করতে পারে। ✨ আধ্যাত্মিক শান্তির মূল দিক নিরাসক্তি: ফলের প্রতি আসক্তি না রেখে কর্তব্যপালন করা। ধ্যান: মনের ভেতরে ভগবানের স্মরণে স্থির হয়ে থাকা। সমতা: সুখ-দুঃখ, জয়-পরাজয়ে সমভাবে থাকা। 🌱 আত্মোন্নয়নের পথ জ্ঞানচর্চা: জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে শাস্ত্র অধ্যয়ন। কর্মযোগ: নিঃস্বার্থভাবে সমাজ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা। ভক্তি: হৃদয়ে ঈশ্বরের প্রতি প্রেম ও বিশ্বাস গড়ে তোলা। 💡 আধুনিক জীবনে প্রয়োগ আজকের ব্যস্ত, প্রতিযোগিতামূলক জীবনে মানুষের মধ্যে চাপ, দুশ্চিন্তা ও অসন্তোষ বেড়েই চলছে। এ অবস্থায় গীতার শিক্ষা মানুষকে অন্তরের শান্তি , নৈতিক দৃঢ়তা এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি র পথে পরিচা...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সার্বজনীন প্রাসঙ্গিকতা ও আধুনিক জীবনে প্রয়োগ — পর্ব-২০

ছবি
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ২০: গীতার আধুনিক প্রয়োগ ও প্রতিফলন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ২০: গীতার আধুনিক প্রয়োগ ও প্রতিফলন এই পর্বে আমরা দেখব—গীতা কীভাবে আধুনিক জীবনের সমস্যায় উপকারী হতে পারে, এবং ছোট ছোট দৈনন্দিন অনুশীলনে গীতার শিক্ষা কীভাবে প্রয়োগ করা যায়। গীতা ও আধুনিক জীবনের দ্বন্দ্ব আজকের দ্রুতগামী জীবন—কর্মচাপ, মানসিক উদ্বেগ, অস্থির সম্পর্ক—এসবের মোকাবিলায় গীতার মূল শিক্ষা খুবই প্রাসঙ্গিক। শ্রীকৃষ্ণের নীতি—কর্মনিষ্ঠা, অলোকাভাস, আত্মসংযম—আমাদের মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে দিতে পারে। গীতার জ্ঞান কেবল তত্ত্ব নয়; এটি আচরণগত নির্দেশনা, যা আধুনিক মানসিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম। প্রয়োগের সহজ উপায় (ডেইলি টিপস) ধ্যান ও সংক্ষিপ্ত ব্রেক: প্রতিদিন সকালে ৫–১০ মিনিট ধ্যান বা মাইন্ডফুল ব্রিদিং। মন স্থির হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্পষ্টতা আসে। কর্মে মনোযোগ: কাজটি সম্পাদন করুন নিষ্ঠার সাথে — ফলের অতিরিক্ত চিন্তা না করে। এতে চাপ কমে এবং কর্মদক্ষতা বাড়ে। স্ব-পরীক্ষা: দিনে একবার কাজ ও কথার বিশ্লেষণ করুন—কী ভালো হ’লো, কোথায় ক্ষতি হলো—শুদ্ধিকরণ চালিয়ে যান। ...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৯: জ্ঞান থেকে আচরণে — প্রয়োগ ও বাস্তবতা

ছবি
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৯: জ্ঞান থেকে আচরণে — প্রয়োগ ও বাস্তবতা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৯: জ্ঞান থেকে আচরণে — প্রয়োগ ও বাস্তবতা এই পর্বে আমরা গীতার তত্ত্বকে দৈনন্দিন আচরণে কীভাবে লাগাবো — তার প্রাথমিক নীতি ও ধাপে ধাপে প্রয়োগ আলোচনা করবো। ১। জ্ঞানকে আচরণে রূপান্তর কেন জরুরি? শুধু তত্ত্ব শেখা যথেষ্ট নয়—জ্ঞান তখনই জীবনের সার্থক হয় যখন তা আমাদের আচরণে বদলে আনে। গীতা শেখায় যে আত্ম-অভ্যাস বদলালে প্রতিটি কর্ম পবিত্র হয়। জ্ঞান যদি কেবল মাথায় থাকেন, তাহলে তা শুষ্ক পরিচ্ছদে পরিণত হয়; কায়িক ও মনস্তাত্ত্বিক অনুশীলনের মাধ্যমে সেটাই জীবনযাত্রায় রূপ নেয়। ২। বাস্তব জীবনে প্রয়োগের চারটি ধাপ অবগতি (Awareness): প্রথমে নিজের আচরণ, অভ্যাস ও মানসিক অবস্থা চিনতে হবে — সুস্পষ্ট স্ব-অনুশীলন জরুরি। অভ্যাস গঠন (Practice): প্রতিদিন ছোট, পরিমিত অনুশীলন—যেমন ধ্যান, সতর্ক শ্বাসপ্রশ্বাস, সংযমী ভাষা—এসব ধীরে ধীরে আচরণে প্রজ্ঞা আনে। নিয়মিত মূল্যায়ন (Reflect): সপ্তাহিক বা মাসিকভাবে নিজের কাজ-চলন মূল্যায়ন করুন—কোথায় পরিবর্তন ঘটছে, কোথায় আবার প...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার উপসংহার ও সর্বশেষ শিক্ষা — পর্ব-১৮

ছবি
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বিশ্বাস ও আচার-ব্যবহার — পর্ব-১৮ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বিশ্বাস ও আচার-ব্যবহার — পর্ব-১৮ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা আমাদের জীবনের আধ্যাত্মিক, নৈতিক এবং দৈনন্দিন আচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এই পর্বে আমরা বিশ্বাস ও আচার-ব্যবহারের মূলনীতিগুলো বিশ্লেষণ করব। ভগবদ্গীতায় বিশ্বাস মূলত তিনটি অংশে ভাগ করা যেতে পারে — দেবীয় বিশ্বাস, অধিবাসিক বা দৈনন্দিন বিশ্বাস এবং আত্মিক বিশ্বাস । এগুলো প্রতিটি মানুষের আচরণ ও চিন্তাধারার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। আচার-ব্যবহার মানে হলো যে কাজগুলো আমরা নিয়মিত করি, তা সৎ ও ধার্মিকভাবে করা। গীতার শিক্ষা অনুযায়ী, কেবল কাজের ফলাফল না ভেবে কাজের প্রতি আন্তরিকতা এবং নৈতিকতা বজায় রাখা জরুরি। এই জন্যই আমাদের জীবনে নিয়মিতভাবে ধ্যান, সৎকর্ম ও সদাচার পালন করা প্রয়োজন। গীতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো — “কর্ম করো, ফলের আশা ব্যতীত” । এই নীতিকে জীবনে আচার-ব্যবহারের সাথে মিলিয়ে চলা মানে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজকে সৎভাবে এবং পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে করা। সর্বোপরি, বিশ্বাস ও আচার-ব্যবহারের মধ্য দিয়ে মানুষ নিজেকে অনন্যভাবে আ...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বিশ্বাস ও আচার-ব্যবহার পর্ব—১৭

ছবি
  পর্ব ১৭: বিশ্বাস ও আচার-ব্যবহার শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের বিশ্বাস ও আচরণের মধ্যে তিনটি ভিন্ন প্রকারের গুণ প্রতিফলিত হয়। এগুলো হলো সৎ বিশ্বাস, মধুর বিশ্বাস এবং অসত্য বা বিভ্রান্ত বিশ্বাস। প্রত্যেকটি বিশ্বাসই মানুষের আচরণ, দায়িত্ব ও জীবনধারাকে প্রভাবিত করে। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি তার বিশ্বাসকে সম্যকভাবে বিশ্লেষণ করে, যা তাকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে পরিচালিত করে। ভালো বিশ্বাস এবং সৎ আচরণে পরিপূর্ণ মানুষ যেকোনো কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। তাঁর কথাবার্তা, কর্ম ও চিন্তাধারা সবই ধারাবাহিকভাবে সৎ ও মানবিক হয়। অপরদিকে, বিভ্রান্ত বা অসৎ বিশ্বাস মানুষের মনকে বিভ্রান্ত করে এবং তার জীবনে অশান্তি ও সমস্যার সৃষ্টি করে। এই পর্বে, শ্রীকৃষ্ণ সঠিক বিশ্বাস, আচার-ব্যবহার এবং নৈতিকতার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন, যা একজন ব্যক্তিকে আধ্যাত্মিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। বিশ্বাস ও আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের অন্তরের সত্যকে চেনার চেষ্টা করে, তার জীবন ধারাবাহিকভাবে উন্নতির দিকে যায়। তিনি কেবল আচার-ব্যবহারই নয়, মনোভাব, ধ্য...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৬: দেবী ও অসুরী গুণ

ছবি
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৬ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৬ পর্ব-১৬-এ আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো “দেবী এবং অসুরী গুণ”। এই অধ্যায়ে কৃশ্ণ জ্ঞান দেন মানুষের আচরণ, চিন্তা ও চারিত্রিক গুণাবলীর ভিত্তিতে তাদের শ্রেণীবিন্যাস নিয়ে। গুনগুলি মূলত দুই প্রকারের – দেবী গুণ এবং অসুরী গুণ। দেবী গুণাবলী দেবী গুণাধারীরা সদাচারী, সহনশীল, ধৈর্যশীল, সত্যবাদী ও আত্মনিয়ন্ত্রণে দক্ষ। এরা দয়ালু, সৎ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং ধর্মময়। এই গুণাবলীর ফলে ব্যক্তির মন শান্ত, জ্ঞান উন্নত এবং জীবনে সমৃদ্ধি আসে। কৃষ্ণ বলেন, যে ব্যক্তি সদা নিয়মিত আত্ম-অনুশীলন, দান, সত্যনিষ্ঠা এবং সহিষ্ণুতা পালন করে , সে দেবী গুণধারী। তার জীবন নৈতিক, শুভাচার্যাপূর্ণ এবং সকলের জন্য প্রেরণাদায়ক হয়। অসুরী গুণাবলী অসুরী গুণাবলীর মানুষ অহংকারী, রাগী, অসহিষ্ণু, অসত, লোভী এবং অন্যায়ে লিপ্ত। এরা শৃঙ্খলাহীন, মিথ্যা, হিংস্র এবং দানশীল নয়। এ ধরনের আচরণ মানুষের জীবনে অশান্তি ও ব্যর্থতা নিয়ে আসে। কৃষ্ণ সতর্ক করেন যে, যে ব্যক্তি অহংকার, হিংসা, অশান্তি ও মিথ্যা কথা বলার অভ্যাস রাখে, সে অসুরী গুণাবলীর অধিকারী। এই গুণগুলি তাকে...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৫: জীব, আত্মা ও মুক্তির দিকনির্দেশনা

ছবি
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৫ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৫ শ্রীভগবদ্গীতার এই পঞ্চদশ অধ্যায়ে জীবের প্রকৃতি, আত্মার সত্য এবং এই জগতের কাঠামো নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। এখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে কর্ম, জ্ঞান এবং ভক্তি সমন্বয়ের মাধ্যমে জীব মুক্তি লাভ করতে পারে। কৃষ্ণ বলেছেন, "প্রকৃতি ও আত্মার মধ্যে পার্থক্য বুঝে, জীব তার ঋণমুক্তি লাভ করে। যে ব্যক্তি সংসার ও পদার্থের মোহ ত্যাগ করে, তিনিই চিরস্থায়ী শান্তি এবং জ্ঞান লাভ করে।" এই অধ্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জীবনের ত্রিফলক চরিত্র বা জগতের অস্থায়ী প্রকৃতির ব্যাখ্যা। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সমস্ত পদার্থ চলে গেলেও, আত্মা চিরন্তন। মানব জীবনও একটি বৃক্ষের মতো—মূল ঈশ্বরের, শিকড় সংসারের, পাতা ও ফল অস্থায়ী। যে ব্যক্তি এই জীবনচক্রের সত্য বোঝে, মোহ ও অহংকার ত্যাগ করে, সে ঈশ্বরের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে চিরস্থায়ী শান্তি অর্জন করতে পারে। অধ্যায়টি কর্ম ও জ্ঞান সমন্বয়ের মাধ্যমে আত্মা এবং প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্ক বোঝায়। সংক্ষেপে, পর্ব-১৫ শিক্ষা দেয় কিভাবে চিরন্তন আত্মা এবং অস্থায়ী দেহের মধ্যে পার্থক্য চেনা...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৪: ত্রিগুণবিষয়ক শিক্ষা

ছবি
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৪ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৪: ত্রিগুণবিষয়ক শিক্ষা শ্রীকৃষ্ণ আর্জুনকে শিক্ষা দেন যে, এই পৃথিবীতে সব জীবনে তিনটি গুণ প্রভাবিত করে—সততা (সৎ), রাগ (আগ্রহ/ক্লেশ) এবং অজ্ঞতা (মূঢ়তা)। এগুলোর সংমিশ্রণে মানুষের চরিত্র, মনোভাব এবং কর্ম তৈরি হয়। এই তিনটি গুণকে মিলিয়ে বলা হয় ত্রিগুণ । সততা গুণে মানুষ দয়াশীল, পরিশ্রমী ও জ্ঞানার্জনমুখী হয়। রাগ গুণ মানুষের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা, লোভ ও ইন্দ্রিয়সুখের আবেগ তৈরি করে। অজ্ঞতা গুণ মানুষকে উদাসীন, অলস ও মূঢ়তায় নিমজ্জিত করে। এই তিন গুণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে, এবং কাজের ফল ও আচরণও এই গুণগুলোর প্রভাবে নির্ধারিত হয়। শ্রীকৃষ্ণ আর্জুনকে বলেন যে, যোগের মাধ্যমে একজন মানুষ ত্রিগুণের প্রভাবে স্বাধীন হতে পারে। যখন মন, বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয়গুলো নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন মানুষ সত্যিকারের মুক্তি ও শান্তি পায়। এই পর্বে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা রাখে এবং ত্রিগুণের প্রভাবে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসে, তারই প্রকৃত ধ্যান ও মুক্তি সম্ভব। এই শিক্ষা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আমাদের দৈনন্দিন জ...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৩: আত্মা, প্রাকৃতি ও জ্ঞান

ছবি
  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৩ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা – পর্ব ১৩: আত্মা, প্রাকৃতি ও জ্ঞান পর্ব-১৩-এ, মহাভারত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৃষ্ণ আর অর্জুনের মধ্যে গভীর দর্শন ও তত্ত্বের আলোচনা দেখা যায়। এই অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু হল আত্মা (Purusha), প্রাকৃতিক শক্তি (Prakriti) এবং জ্ঞান (Jnana) । কৃষ্ণ ব্যাখ্যা করেছেন কিভাবে আত্মা অসীম, অক্ষয় এবং প্রাকৃতির উপর নির্ভরশীল নয়। আত্মা নিরবিচ্ছিন্ন সত্য যা জন্ম ও মৃত্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। এই অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, জীবনের মূল উদ্দেশ্য হল জ্ঞান অর্জন ও আত্মা-বোধের মাধ্যমে মোক্ষ বা মুক্তি লাভ। কৃষ্ণ উল্লেখ করেছেন যে জ্ঞান ও সৎকর্মের সংমিশ্রণই মানুষের জীবনের প্রকৃত প্রাপ্তি। অর্জুন জানতে চায় কিভাবে মানুষ প্রকৃতিকে চিনে আত্মাকে আলাদা করতে পারে। কৃষ্ণ বোঝান যে, প্রকৃতি অচেতন, পরিবর্তনশীল এবং আত্মার সংস্পর্শে যে ব্যক্তি সচেতনভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে, সে সত্যিকারের জ্ঞানী হয়। পর্বটি আত্ম-জ্ঞান, প্রকৃতির প্রকৃতি এবং ব্রহ্মানন্দের সন্ধান করার মূল তত্ত্বকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে। এটি শিক্ষায়, দর্শনে এবং দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলনের জন্য অত্...

শ্রীমদ্ভগবদগীতা – পর্ব ১২ | ভক্তি যোগের মহিমা ও সহজপথ

ছবি
  শ্রীমদ্ভগবদগীতা – পর্ব ১২: ভক্তি যোগের মহিমা ও সহজপথ ভক্তি যোগের মূল ধারণা: পর্ব-১২তে মহান শিক্ষাগুরু শ্রীকৃষ্ণ আর্জুনকে ভক্তি যোগের পথ সম্পর্কে বিস্তারিত শিক্ষা দেন। এই পর্বটি মূলত ভক্তির গুরুত্ব, তার সহজলভ্যতা এবং মানব জীবনে ভক্তির প্রভাবের ওপর আলোকপাত করে। ভক্তি যোগ বলতে বোঝায় ঈশ্বরের প্রতি স্নেহ, সমর্পণ ও বিশ্বাস, যা নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উভয় বিকাশে সহায়ক। ঈশ্বরের প্রতি আস্থা ও প্রেম: শ্রীকৃষ্ণ বলেন, ঈশ্বরকে যিনি পূর্ণ বিশ্বাস ও আন্তরিক হৃদয়ে ভালোবাসেন, তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও স্থির ও আনন্দিত থাকেন। ভক্তি যোগে কঠোর সাধনার প্রয়োজন নেই; নিয়মিত প্রার্থনা, মনন ও সৎকর্মের মাধ্যমে যে কেউ সহজে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। ভক্তি যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত এবং এটি যে কোনো ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থার মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। মন ও আত্মার পরিশুদ্ধি: এই পর্বে শ্রীকৃষ্ণ আরও বলেন যে, ভক্তি যোগের মাধ্যমে আত্মা ধীরে ধীরে নির্ভীক, শান্ত ও সমবেদী হয়ে ওঠে। ভক্তের মন সর্বদা ঈশ্বরের স্মরণে লিপ্ত থাকে, ফলে সে অহঙ্কার, হিংসা ও কামনামুক্ত...