পোস্টগুলি

নিতাই-বাবু লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

স্বপ্নের ডানায়

ছবি
  🌌 স্বপ্নের ডানায় — নিতাই বাবু যখন ঘুমিয়ে পড়ি নিঃশব্দ রাতে, দেহ পড়ে থাকে চুপচাপ প্রহরপাতে। আমি উড়ে যাই— একা, নিঃশঙ্ক মনে, মহাকাশের মেঘের পাহাড় জোছনার বনে। ফেলে আসা পৃথিবীর শব্দহীন ঘর, দেহের খাঁচা ভুলে, ডানা মেলে পরপর। ওখানে নেই দুঃখ, নেই হিসেবের হিস্যা, শুধু এক পাখি আমি, নীহারিকা বিষ্টা। তারা তারা জ্বলে, জেগে থাকে আকাশ, চাঁদের কোলে নিই আমি প্রশান্তির আশ। স্বপ্নের ভিতর দেখি অন্য এক পথ, যেখানে নেই হিংসা, নেই স্বার্থলিপ্ত মোহ। জীবনের ব্যথা, ক্ষোভ, বেদনার ব্যাকুলতা, ওখানে সব সয়ে যায় এক মধুর নিস্তব্ধতা। কে আমি, কোথা থেকে এলাম— এসব ভুলে, উড়ি আমি নির্ভার, হৃদয়ের গহীনে ঢুকে। জানি না কতক্ষণ থাকি ঐ উড়ানে, ক্ষণিকের ঘোরে পাই আমি শান্তির টানে। তারপর হঠাৎ ভোর হয়, ভাঙে ঘুমের পর্দা, আবার ফিরি আমি দেহে— ভোরের ছায়া ধরে। তবু রয়ে যায় বুকের ভেতর একটা শিহরণ— একটুখানি আলো, যা বলে— "স্বপ্ন শুধু ঘুম নয়, এ জীবনেরও এক গোপন চলোচলা!" ...

ভোরের অপেক্ষা

ছবি
  🌅 গল্প: ভোরের অপেক্ষা রাত পেরিয়ে নতুন একটি দিনের ভোর আসছে। গ্রামের শেষ প্রান্তের মাটির ঘরে বসে অশীতিপর বৃদ্ধ নিমাই দাদা তাকিয়ে আছেন পুরোনো কাঠের জানালা দিয়ে। বাইরের আকাশে এখনও ঘুটঘুটে অন্ধকার, কিন্তু তাঁর চোখে আলো। নয়, বাইরের নয়—ভেতরের আলো। তিনি জানেন, আজ হয়তো তাঁর জীবনের শেষ ভোর। বুকের ব্যথাটা এখন সহ্য হয় না। হাঁটতে পারেন না ঠিকমতো, কথা বলতে গেলেই কাশি চেপে ধরে। তবুও তিনি জানালা খুলে বসে আছেন, ভোর দেখবেন বলে। এই ভোর তাঁর কাছে শুধু সূর্য ওঠার সময় নয়, এটা যেন তাঁর জীবনের শেষ আলো। তিনি অপেক্ষা করছেন ছোট ছেলে সুমনের জন্য। শহর থেকে ফোন করেছিল গতকাল—‘বাবা, কাল আসব’। সেই অপেক্ষার ভোর আজ। নিমাই দাদার হাত কাঁপছে, কপালে ঘাম, কিন্তু চোখে অপেক্ষার আলো। হঠাৎ গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে একটা বাইকের শব্দ। জানালা দিয়ে ঝুঁকে তাকান তিনি। অন্ধকার ভেদ করে আলোয় ভেসে ওঠে সুমনের মুখ। নিমাই দাদা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাসলেন—যেন জীবনের সব দুঃখ লাঘব হয়ে গেল এই এক পলকে। ভোর এসেছিল, তবে সূর্য ওঠার আগেই নিমাই দাদা চোখ বুজলেন। আর সেই মুহূর্তে ঘরের বাইরে ছড়িয়ে পড়ল প্রথম রশ্মির আলো। ছেলে পাশে বসে...

স্বরবর্ণের অক্ষরগুলোর কথোপকথন

ছবি
  🅰️ স্বরবর্ণের অক্ষরগুলোর কথোপকথন অ বলে শোন রে তোরা আমি অসীম , আমিই সেরা! এ নিয়ে তোরা কে করবি আমার সাথে জেরা ? আ বলে আমি আল্লাহর ভক্ত , সেটা তুমি জানো? আরও হলাম আকাশকুসুম , এবার আমায় গুরু মানো! ই বলে আমি কি দেখাতে পারি আমার ইচ্ছাশক্তি ? আমি থাকি ইশারায় , তাই সবাই আমায় করে ভক্তি! ঈ বলে দেখ দেখি! আমি আছি স্বয়ং ঈশ্বরের কৃপায় ! আমার ভক্ত ঈমানদার , তবুও চিনছিস না আমায়? উ বলে আমি আছি সবার উপরে সকল উৎসবে , করো না তুচ্ছ ! একটু খেয়াল করে ভেবে দেখ সবে। ঊ বলে শুনলাম সবার কথা, শুনলাম সব গুণকীর্তন , ঊষালগ্নে আমায় দেখে শুরু করে হরিনাম সংকীর্তন । ঋ বলে শোন সবাই, আমি তোদের ঋণ দিয়ে চালাই, ঋষি , কৃষি যত আছে আমাকে ঋ নামে চিনে সবাই। এ বলে এই যা! এঁরা আমায় কেন দিয়েছে রে বাদ ? এবাদত ছাড়া কি গ্রহণ করতে পেরেছে স্বর্গের স্বাদ ? ঐ বলে চুপ থাক তোরা, ধেয়ে আসছে ঐরাবত ! ক্ষেপে গেলে বিপদ, যতই করিছ তোরা এবাদত ! ও বলে হায়রে কপাল! ওলকচু খাইছনি কোনকালে? ওলকচুতে গলা ধরে , মনে থাকে ইহকাল পরকালে ! ঔ বলে ঘাবড়াবে না! আমি ...

শেষ ক'টি দিনে যা বলতে চাই

ছবি
  শেষ ক'টি দিনে যা বলতে চাই একটা সময় আসে, যখন মানুষ থেমে দাঁড়ায় নিজের ছায়ার মুখোমুখি। আজ আমি তেমন এক মুহূর্তে পৌঁছেছি। জানি না আর কতটা সময় আছে হাতে, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে অনুভব করছি—আমি হয়তো এই সুন্দর পৃথিবীতে আর বেশিদিন নেই। মহান সৃষ্টিকর্তা হয়তো অনেক আশা নিয়ে আমাকে এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন—এই পৃথিবী, এই সমাজ, এই দেশের মানুষের জন্য কিছু করবো বলে। আমি চেষ্টা করেছি। কখনো কলম দিয়ে, কখনো কথা দিয়ে, কখনো নীরবতা দিয়ে সমাজকে বোঝাতে চেয়েছি আমার মনের কথা। তবুও আমি জানি, অনেক কিছুই করতে পারিনি। অনেক সময় ব্যর্থ হয়েছি, পিছিয়ে গেছি, ক্লান্ত হয়েছি। হয়তো সাহস ছিল না, সুযোগ ছিল না, অথবা ছিল না পাশে থাকার মতো কেউ। আজ আমি হাতজোড় করে ক্ষমা চাই—মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে, এই সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে। আমি চাই, আমার এই শেষ ক'টি দিন যেন হয় কিছু দেওয়ার, কিছু জানানোর, কিছু ফিরে পাওয়ার। আমি চাই, আমার লেখা—আমার অনুভব—আমার কথাগুলো থেকে কেউ যদি একটিবার থেমে ভাবে, তাহলেই আমি সার্থক। জানি, এই পৃথিবী চলে যাবে নিজের ছন্দে। আমি থাকি বা না থাকি, নদী বইবে, পাখিরা গাইবে, রোদ ঝরে পড়বে জানালায়। আমি শুধু ...

শ্মশানের জীবন্ত

ছবি
  🖤 কবিতা: শ্মশানের জীবন্ত শ্মশানের জীবন্ত জীবিত, অথচ মৃতের বেশে — ভয়ানক এক অভিনয়! প্রাণের ভেতর প্রাণহীন দেশ, হৃদয়ে নীরব মৃত্যুর জয়। শেষকৃত্যের গন্ধ বাতাসে, চেতনায় অন্ত্যেষ্টির গান, জাগ্রত এক সমাধি দেহে, জীবন-মরণ একাকার জান। আত্মার শবযাত্রা চলে নীরবে, প্রহর গুনে বিষণ্ন দিন, ছায়ার মতো হেঁটে চলে, নিঃশব্দ শোকের এক কঠিন কিনারায়। আলো হারায় অন্ধকারে, নিভে যায় প্রাণের দীপ, আশার প্রদীপ চূর্ণ হয়ে পড়ে, অন্তরে বিষণ্ন রূপ। তবুও বেঁচে থাকা এক অভিশাপ— যেন শ্মশানের জীবন্ত ছায়া, জীবনেরই অন্তিম চাপ। নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক — ২০১৭ সাহিত্য, সমাজ এবং সৃজনশীলতায় তাঁর পদচারণা ব্যাপক। নিয়মিত লেখেন ব্লগ, কবিতা ও সমাজ ভাবনার নানা বিষয়ে।

দুঃখের ছায়া

ছবি
  🖤 দুঃখের ছায়া নীরব রাতের কান্না শুনি, চাঁদের আলোয় ভেজে ধূনি। হৃদয় জুড়ে জমে ব্যথা, কেউ বোঝে না, রাখে না কথা। ভাঙা স্বপ্ন কাঁচের মতো, পায়ে লাগে, রক্ত ঝরতো। হাসির আড়াল বিষাদ ভরা, জীবন যেন নিঃশ্বাস ধরা। বন্ধ জানালায় চেয়ে থাকি, আলো আসে, ছুঁয়ে না মাখি। স্মৃতিরা আসে, বসে পাশে, বলে, “তুমি একা নও আশে।” ছোট্ট কিছু কথা, হারানো গান, ভেসে আসে দূর অতীতের প্রাণ। একটি চিঠি, একটি ছবি, ভালোবাসা ছিল, আজ শুধু রবি। মায়ের মুখ, বাবার ছায়া, বন্ধুর হাসি, প্রেমের মায়া। সবই যেন স্বপ্নের মতো, জেগে উঠি, নেই কেউ ততো। দুঃখ আমার সাথী হয়ে, চলে দিন, রাতের ছোঁয়ায়। সে-ই জানে, কতটা কাঁদি, সে-ই বোঝে, কতটা ভাঙি। তবু আশার আলো জ্বলে, একটি নাম, একটি ছলে। ভবিষ্যতের একটুখানি রঙ, দুঃখের মাঝে স্বপ্নের ঢঙ। আমি লিখি, আমি গাই, ব্যথার মাঝে শান্তি পাই। দুঃখ যদি বন্ধু হয়, তবে সে-ই তো হৃদয়ের জয়। ✍️ লেখক পরিচিতি: নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক — ২০১৭ ব্লগ ডট বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম 📚 আরও পড়ুন: 👉 জীবনের ঘটনা | নিতাই বাবু ব্লগ | ...

গদ্য কবিতা: এখনো বেঁচে আছি…

ছবি
  ✍️ গদ্য কবিতা: "এখনো বেঁচে আছি…" লেখক: নিতাই বাবু আমি এখনো বেঁচে আছি… কারণ, এখনও অনেক কিছু দেখা বাকি। দেখেছি আগুনে পুড়তে বাংলার মাটি, রক্তে ভেসে যেতে সরু খাল আর কাঁচা পথ। দেখেছি মা-বোনের আর্তনাদে কেঁপে উঠতে আকাশ, সেই আকাশ এখনো মাথার ওপর। আমি ছিলাম ছোট, তবুও চোখে আঁকা সব দৃশ্য— নির্মমতা, নির্যাতন, ভয়ের ছায়া, বুকে গেঁথে আছে এখনো। আজ দেখি আরেক রূপ, দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ আজও চলে... তফাৎ শুধু—আজ হানাদার বিদেশি নয়, আজকের রক্তচক্ষু আমাদেরই কাঁধে ব্যাজধারী! আজ যারা চালায় গুলি, ফাটায় বোমা, তারা আমাদেরই রক্ত। আজ যাদের হাতে পঙ্গু হয় যুবক, তাদের ডান হাতে জাতীয় পতাকা, বাম হাতে রাইফেল! কী নিদারুণ ব্যথা! যে স্বাধীনতার জন্য ত্রিশ লক্ষ প্রাণ, লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম উৎসর্গ, আজ সেই দেশের বুকে গর্জে ওঠে রাষ্ট্রীয় বর্বরতা। আরো কষ্ট হয় যখন দেখি— আমাদেরই পাশের বাড়ির লোকটা, দুধেভাতে বড় হওয়া ছেলেটা, হিংসার চোখে মিছিল দেখে, চুপচাপ সহযোগিতা করে দমনযন্ত্রকে। ঠিক যেমন ১৯৭১-এ— আমাদেরই কিছু মানুষ হয়েছিলো সহিংসতার বন্ধু। তখন শত্রু ছিল বাইরে, এখন শত্রু আমাদের ভিতরে। দেখেছি ২০২৪ সালে ...

সৃষ্টিকর্তা একজন

ছবি
✨ সৃষ্টিকর্তা একজন ✨ কতো ধর্মের কতো মানুষ সৃষ্টিকর্তা হলো একজন, ধর্ম হোক ভিন্ন ভিন্ন মানুষ মানুষের আপনজন। তুমি রাজা আমি প্রজা পার্থক্য শুধু এখানে, মৃত্যুর পরে চলে যাবো আমরা সবাই একস্থানে। কেউ খাচ্ছে কোরমা পোলাও কেউ পঁচা পান্তাভাত, কেউ ঘুমায় লেপ তোষকে কেউ জাগে রাত। কেউ থাকে দালান কোঠায় কেউ থাকে রাস্তায়, সবার দিনই যাচ্ছে চলে সবারই রাত পোহায়। আমি গরিব তুমি ধনী রক্তের বর্ণ একরকম, মানবজাতির হাসি কান্না হয়না তো দুইরকম! কেউ বলে আল্লাহ রসূল কেউ বলে ভগবান, কেউ বলে গড ঈশ্বর সৃষ্টিকর্তা বড়ই মহান। ✍️ লেখক পরিচিতি: নিতাই চন্দ্র পাল (নিতাই বাবু) — একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্লগার, যিনি bdnews24.com-এর ব্লগ প্ল্যাটফর্মে লেখেন। তিনি সমাজ, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে লেখালেখিতে সিদ্ধহস্ত। তাঁর কলমে উঠে আসে জীবন, যৌবন ও যন্ত্রণার নিখুঁত চিত্র। 📘 ফেসবুকে লেখক: fb.com/srinitai.srinitai ...