পোস্টগুলি

শীতলক্ষ্যা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শীতলক্ষ্যা নদী – এক নদীর আত্মকথা

ছবি
  🌊 শীতলক্ষ্যা নদী – এক নদীর আত্মকথা শীতলক্ষ্যা, তুমি নীরব এক সাক্ষী, কালের কণ্ঠে বাজে তোমার গল্প-গান। ঢেউয়ের পর ঢেউয়ে শোনা যায় শত কথা— সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, হাহাকার আর প্রাণ। তোমার তীরে গড়ে ওঠে শিল্পের শহর, কলের ধোঁয়ায় আকাশ ঝাপসা হলেও— প্রাণে তবুও ছড়িয়ে থাকে জীবন-উচ্ছ্বাস, চলার ছন্দ, শ্রমের গান, ভালোবাসা ঢেউ। নাবিকেরা গায় সুরে সুরে সারি গান, জেলেরা ফেলে জাল, গলায় আশার সুর। তোমার বুকে খেলে যায় পালতোলা নৌকা, স্টিমারের ভেঁপু যেন দূরের স্বপ্নদূত। তুমি কভু শান্ত, কভু হয়ে ওঠো উত্তাল, তোমার স্রোত যেন হৃদয়ের হাহাকার। তুমি শুধু নদী নও, তুমি ইতিহাস, তুমি সংস্কৃতির প্রাণ, জনপদের কাব্যধ্বনি। তোমার জলে মিশে আছে ঘাম আর আশা, স্বপ্ন আর কান্না, আত্মা আর ইতিহাস। তুমি অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য এক কণ্ঠস্বর— বুকে তোমার বাজে জীবনের আর্তনাদ। শীতলক্ষ্যা, প্রিয় নদী, বয়ে চলো চিরকাল, তোমার শীতল পরশে থাকুক শান্তি ও ছায়া। তোমার কুল কুল ধ্বনি হোক ঘুমপাড়ানি গান, তোমার জলে জেগে থাকুক আমাদের প্রাণ। ✍️ কবি:নিতাই বাবু| উৎসর্গ: প্রিয় শীতলক্ষ্যা নদী | ...

নগর খাঁনপুরের পুকুরপাড়ে

ছবি
 নগর খাঁনপুরের পুকুরপাড়ে শীতলক্ষ্যার কোলঘেঁষে একটি পুরনো মহল্লা— নগর খাঁনপুর । পাড়ার দক্ষিণ পাশে একটি বড় পুকুর, যার ঘাটে কাকভোরে আসে বৃদ্ধেরা স্নান করতে, আর দুপুরে নেমে পড়ে ছেলেরা জলে। এই পুকুরঘাটেই একদিন বিনয়ের জীবনের মোড় ঘুরে যায়। বিনয় পাল—এক দরিদ্র হিন্দু পরিবারে জন্ম। বাবা ছিলেন নরসুন্দর, পুকুরপাড়ে কাঠের চৌকিতে বসে দাড়ি কামাতেন। বিনয় হাফশার্ট আর ছেঁড়া চটের ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেত, স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে শিক্ষক হবার। একদিন পুকুরঘাটে বসে থাকতেই হঠাৎ চোখে পড়ে এক অচেনা মেয়েকে—চুলে সাদা ফিতা, হাতে জলভরা কলসি। মেয়েটি জিজ্ঞেস করে, “এই পুকুরে সবাই গোসল করে?” বিনয় কিছু বলতে পারে না, শুধু চুপচাপ তাকিয়ে থাকে। মেয়েটির নাম সুমনা সরকার —শহর থেকে বদলি হয়ে আসা বাবার সঙ্গে নতুন বাসা নিয়েছে নগর খাঁনপুরে। সেদিন থেকেই প্রতিদিন দেখা, গল্প, আর এক মধুর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে পুকুরপাড়ে। কিন্তু সুখ চিরকাল থাকে না। হঠাৎ একদিন সুমনা জানায়—তাদের আবার শহরে ফিরে যেতে হবে। শেষ বিকেলে পুকুরপাড়ে সুমনা বসে থাকে, চুপচাপ। বিনয় কাঁপা হাতে দেয় একটি কাঠের পেনসি...