ঈশ্বর কি বিভক্ত হন? গদ্য কবিতা (পর্ব-১)
🕊️ গদ্য কবিতা: ঈশ্বর কি বিভক্ত হন?
আমি চেয়ে দেখি, আকাশ সব মানুষের জন্যই নীল।
নদীর জলে আলাদা কোনো ধর্ম লেখা থাকে না।
সূর্য উঠে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান-ইহুদি সব ঘরের উঠোনে,
আর চাঁদ রাতের নির্জনে সবার ঘুমে সমান জ্যোৎস্না ছড়িয়ে দেয়।
তবু কেন আমি শুনি—
তুমি ‘ঈশ্বর’ বলো, সে নাকি আমার ‘আল্লাহ’ নয়?
তুমি ‘গড’ বলো, সে নাকি ‘ব্রহ্ম’ হতে পারে না?
তোমার ঈশ্বর পবিত্র, আর আমারটা নাকি কুসংস্কার?
আমি হাঁটি, দেখি সবাই ঈশ্বর খোঁজে,
কিন্তু কেউ কাউকে মানুষ ভাবে না।
মন্দিরে পাথর, মসজিদে মিনার, গির্জায় ক্রুশ—
ঈশ্বর সবখানে চুপ।
তিনি চুপ, কারণ তিনি দেখেন
মানুষ তাঁর নামে মানুষকে হত্যা করে।
আমি ভাবি, ঈশ্বর কি এতটাই দুর্বল,
যে আমার টিপ পরা, অন্য কারো টুপি পরা,
কিংবা কারও প্রার্থনার ভাষা শুনে কাঁপেন?
তাহলে তো ঈশ্বর নন,
তিনি আমাদের ভয়ের পুতুল।
আমি বিশ্বাস করি, ঈশ্বর একজন—
যিনি নাম চেনেন না,
ভাষা বোঝেন না,
শুধু হৃদয়ের স্পন্দন শোনেন।
যেখানে চোখে জল, সেখানেই তাঁর আসন।
যেখানে ভালোবাসা, সেখানেই তাঁর ধ্যান।
আর যেখানে ঘৃণা, সেখানে তিনি নির্বাসিত।
তাই আমি একদিন আর কোনো ধর্ম চাইনি—
আমি চেয়েছি শুধু মানুষ।
আর ঈশ্বরকে ডেকেছি সেই নামেই—
যে নাম রক্তে নয়, প্রেমে লেখা।
|
নিতাই বাবু
পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে। 🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা |

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
nitaibabunitaibabu@gmail.com