পোস্টগুলি

আগস্ট ২২, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বিবাহিত মহিলাদের শাঁখা ও সিঁদুর পরার তাৎপর্য ও বিধান

ছবি
  বিবাহিত মহিলাদের শাঁখা ও সিঁদুর পরার তাৎপর্য ও বিধান বিবাহিত মহিলাদের শাঁখা–সিঁদুর পরা কেবল রীতি নয়, এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নির্দেশনাসম্পন্ন। শাঁখা ও সিঁদুর মহিলাদের স্বামীসত্য, পারিবারিক সুখ ও সামাজিক মর্যাদা নির্দেশ করে। ১. শাঁখা–সিঁদুরের সংজ্ঞা ও অর্থ সিঁদুর: লাল রঙের পার্থিব খনিজ দানার গুঁড়া যা কপালের কণা-রেখায় প্রয়োগ করা হয়। শাঁখা: সাদা শাঁখার তৈরি বালা, যা বিবাহিত মহিলারা হাতে পরেন। অর্থ: স্বামীর প্রতি আনুগত্য, সুখী সংসার, পারিবারিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা প্রকাশ। এটি জাগতিক ও আধ্যাত্মিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করে। ২. প্রথাগত বিধান ও নিয়ম নিয়মিত পরিধান: বিবাহের পরপরই শাঁখা ও সিঁদুর পরা শুরু হয়। সিঁদুর কপালে বা মথার মধুভাগে, শাঁখা হাতে ও কব্জিতে পরা হয়। রঙ ও উপকরণ: সিঁদুর লাল, শাঁখা সাদা বা কাঁচের। এটি শক্তি, শুভতা ও সম্পর্ক নির্দেশ করে। ধর্মীয় প্রাসঙ্গিকতা: আধ্যাত্মিক ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। সামাজিক প্রভাব: বিবাহিত মহিলার পরিচিতি, মর্যাদা ও দায়িত্ব প্র...

নারায়ণ পূজা: ব্যাখ্যা, তাৎপর্য ও বিধান

ছবি
  🙏 নারায়ণ পূজা: ব্যাখ্যা, তাৎপর্য, বিধান ও সারমর্ম নারায়ণ—বিষ্ণুর অপর নাম; বিশ্বপালক, কল্যাণ ও ধর্মরক্ষার প্রতীক। প্রতি বৃহস্পতিবার বিশেষত নারায়ণ পূজা করা হয়; নিত্যপ্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নামস্মরণ ও প্রদীপ জ্বালানোও শুভ। নারায়ণ কে? পরমাত্মা, বিশ্বপালক; সৃষ্টির ধারাকে রক্ষা করেন, ধর্ম স্থাপন করেন। কেন পূজা? শান্তি, সমৃদ্ধি, পাপক্ষয়, স্বাস্থ্য, মনোস্থিরতা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য। কবে করবেন? প্রধানত বৃহস্পতিবার; নিত্য সকাল-সন্ধ্যায় নামজপ/প্রদীপ জ্বালানো উত্তম। 🕉️ নারায়ণ পূজার ব্যাখ্যা ‘নারায়ণ’ শব্দের এক প্রচলিত ব্যুৎপত্তি— নর (জল/জীব) + আয়ন (আশ্রয়): যিনি সকলের আশ্রয়। শাস্ত্রে নারায়ণকে পরমসত্তা ও বিশ্বপালক রূপে মানা হয়। নারায়ণ পূজা মানে—ভক্তিভাবে তাঁর শরণ গ্রহণ, নামস্মরণ, বিধিবৎ উপাসনা ও সদাচার-ধর্মাচরণের প্রতিজ্ঞা। ✨ পূজার তাৎপর্য (Why it matters) সকলের কল্যাণ: সংসা...

ত্রিনাথ দেবতা ও ত্রিনাথ পূজা: বিধান, উপকারিতা ও গুরুত্ব

ছবি
  ত্রিনাথ দেবতা এবং ত্রিনাথ পূজার গুরুত্ব ত্রিনাথ দেবতা কী? 'ত্রিনাথ' শব্দের অর্থ ত্রি = তিন এবং নাথ = প্রভু / পালনকর্তা । অর্থাৎ, ত্রিনাথ দেবতা হলেন ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা) , বিশ্নু (পালনকর্তা) এবং শিব/মহেশ্বর (সংহারকর্তা) এর মিলিত শক্তি ও কার্যকলাপের প্রতীক। ত্রিনাথ পূজা মূলত এই তিন দেবতার একত্রিত আরাধনা। ত্রিনাথ পূজার বিধান দিন ও সময়: সাধারণত শনিবার বা বিশেষ উৎসবের দিন পূজা করা হয়। স্থান: ঘরে বা মন্দিরে ত্রিনাথ দেবতার মূর্তি বা ছবি স্থাপন করে পূজা করা যায়। প্রদীপ জ্বালানো: প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো। তেল বা ঘি ব্যবহার করা উচিত। ফলাফল: জীবনপথের বাধা দূর হয়, পরিবারে শান্তি আসে, আর্থিক ও মানসিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। কেন ত্রিনাথ পূজা করা হয়? সৃষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে। সকল দিক থেকে রক্ষা ও আশীর্বাদ প্রার্থনা। আধ্যাত্মিক উন্নতি ও ভক্তি বৃদ্ধি। পরিবারে শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি আনা। সংক্ষেপে ...

গৃহলক্ষ্মী পূজা: কেন করবেন ও এর উপকারিতা কী

ছবি
  🏠 গৃহলক্ষ্মী পূজা কেন করবেন? এর উপকারিতা কী গৃহলক্ষ্মী পূজা হলো এক প্রাচীন হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যা মূলত **গৃহে সম্পদ, সমৃদ্ধি এবং সুখ-শান্তি বৃদ্ধি** করার জন্য করা হয়। শাস্ত্রানুযায়ী, এটি প্রতি বৃহস্পতিবার নিয়মিত পালিত হয়। প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল এবং সন্ধ্যার সময়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করলে, গৃহের সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পায়। এই পূজার মাধ্যমে মা লক্ষ্মী দয়ালু হয়ে ঘরে প্রবেশ করেন এবং অশুভ শক্তি দূরে থাকে। গৃহলক্ষ্মী পূজার প্রধান উপকারিতা: 💰 অর্থনৈতিক সমস্যা কমানো এবং ধন-সম্পদের প্রবাহ বৃদ্ধি। 🏡 পরিবারের মধ্যে সুখ-শান্তি এবং মিলন বৃদ্ধি। ✨ জীবনের বাধা ও সমস্যার প্রতি সহনশীলতা বৃদ্ধি। 🙏 ভক্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি। 🌸 মানসিক স্থিরতা এবং শান্তির অনুভূতি। পূজা করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে: 🪔 প্রদীপ জ্বালানোর জন্য তিল তেল, সরষের তেল বা ঘি ব্যবহার করুন। 🧽 হাতে তেল লেগে থাকলে পরিস্কার কাপড় দিয়ে মোছা জরুরি। 🔹 একসাথে সর্বোচ্চ ২-৩টি প্রদীপ জ্বালানো শ্রেয়। ...

প্রদীপ জ্বালানোর মাহাত্ম্য: কোন দেবতার সামনে প্রদীপ জ্বালালে কী ফল মেলে

ছবি
  প্রদীপ জ্বালানোর মাহাত্ম্য ও দেবতার আশীর্বাদ প্রদীপ জ্বালানোর মাহাত্ম্য ও দেবতার আশীর্বাদ আমাদের নিত্য পূজোয় প্রদীপ জ্বালানো এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বাস করা হয় যে প্রদীপ ছাড়া কোনও পূজা সম্পূর্ণ হয় না। শাস্ত্র অনুযায়ী কিছু দেব-দেবীর সামনে নিয়মিত প্রদীপ জ্বালালে জীবনের নানা সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়। কোন দেবতার সামনে প্রদীপ জ্বালালে কী ফল মেলে? সূর্য দেব: প্রতিদিন প্রদীপ জ্বালালে শরীর সুস্থ থাকে, রোগ-শোক ধারে কাছে আসে না। রবিবার বিশেষভাবে পূজার দিন। রাধা-কৃষ্ণ: প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালালে মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়া যায়, দাম্পত্য জীবনে শান্তি আসে। তবে সকালবেলায় প্রদীপ জ্বালানো উচিত নয়। পঞ্চমুখি হনুমান: প্রদীপ জ্বালালে খারাপ স্বপ্ন দূর হয়, ভয় কেটে যায় এবং বাড়িতে খারাপ শক্তি প্রবেশ করতে পারে না। কুবের দেব: প্রতিদিন উত্তর দিকে কুবের দেবের সামনে প্রদীপ জ্বালালে অর্থনৈতিক সমস্যা দূর হয়, সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়। গণেশ দেব: অফিসে বেরোনোর আগে গণেশ দেবের সামনে প্রদীপ জ্বালালে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি হয় এবং পরিবারে সমৃদ্ধি আসে। রাম-...

ভক্তিযোগ: ভক্তির আসল অর্থ ও সাধনার তিনটি মাত্রা

ছবি
  ভক্তিযোগ: ভক্তির আসল অর্থ ও সাধনার তিনটি মাত্রা ভক্তিযোগ: ভক্তির আসল অর্থ ও সাধনার তিনটি মাত্রা চতুর্বিধ যোগসাধনার অন্যতম হল ভক্তিযোগ । বর্তমানে 'ভক্তি' কিংবা 'ভক্ত' শব্দটির কিছুটা ভুল প্রয়োগ আমরা শুনতে পাই। যেমন — কোনও মঠ বা মন্দিরে সমাগত দর্শনার্থীদেরকে 'ভক্ত' বলা হয়, কিংবা 'সাধু ও ভক্ত' বলে আলাদা শ্রেণি ধরা হয়। কিন্তু ঠাকুর-স্বামীজির অনুধ্যানে ভক্তি একটি আধ্যাত্মিক সাধন-পথ । যিনি ভক্ত, তিনিই সাধক বা সাধু। তাই ভক্ত ও সাধু আলাদা কোনও শ্রেণি নয়। যোগের চারপথ অধ্যাত্ম-সাধনার যোগ চারপ্রকার: জ্ঞানযোগ কর্মযোগ রাজযোগ ভক্তিযোগ সাধক নিজের ক্ষমতা ও রুচি অনুযায়ী পথ বেছে নিতে পারেন। তবে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ভক্তিযোগই সহজতম ও মধুরতম । "ভক্তিযোগে ভক্তিই একাধারে উদ্দেশ্য এবং উপায় দুইই।" — স্বামী বিবেকানন্দ ভক্তির স্বরূপ ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ শেখালেন, 'ভক্তিকামনা কামনার মধ্যে নয়' । অন্য কামনা মানুষের বদ্ধতা বাড়ায়, কিন্তু ভক্তির কামনায় আত্মার আচ্ছাদন ক্ষীয়মান হ...

ঈশ্বর ও ভগবান: শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ও ভক্তির আলোকে সত্য অনুসন্ধান

ছবি
  ✨ ঈশ্বর, ভগবান না ব্রহ্ম?—শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ও ভক্তির দৃষ্টিতে সত্য অনুসন্ধান ✨ আজ সন্ধ্যা বেলায় এক সাধক ব্যক্তি আমায় ফোন করেছিলেন। তিনি যথেষ্ট পণ্ডিত ব্যক্তি বলেই শুনেছি। আমার “সতীপীঠ” পোস্ট প্রসঙ্গে তিনি কথা বলছিলেন। তিনি বললেন—ভগবান ও ঈশ্বর দুটি পৃথক বিষয় এবং শ্রীকৃষ্ণ নাকি ভগবান নন। তিনি বেদের উদাহরণ সহ অনেক যুক্তি দিলেন। আবার যখন আমি ৩৩ কোটি দেবতা প্রসঙ্গে বললাম, তখন তিনি হেসে উঠলেন, যেন তাচ্ছিল্য করলেন। অবশেষে আমি ফোন কলটি কেটে দিলাম। 🔱 ঈশ্বর প্রসঙ্গে 'ঈশ্বর' শব্দের উৎপত্তি সংস্কৃত ব্যাকরণের ‘ঈশ’ ধাতু থেকে, যার অর্থ কর্তৃত্ব করা । তাই যিনি সকলের কর্তা, তিনিই ঈশ্বর। ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নিয়ন্তা, সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা। তাঁর রূপ অনন্ত, নাম অনন্ত, ব্যাপ্তি অনন্ত। 💠 ভক্ত ও জ্ঞানীর দৃষ্টিতে সাধকের কাছে ঈশ্বর সাকার ও নিরাকার উভয় রূপে ধরা দেন। ভক্তের কাছে তিনি সাকার ভগবান, জ্ঞানীর কাছে তিনি নিরাকার ব্রহ্ম। ভগ...