পোস্টগুলি

আধ্যাত্মিক লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

যেদিন ঈশ্বর কাঁদলেন—গদ্য কবিতা (পর্ব-৯)

ছবি
  🕯️ গদ্য কবিতা – পর্ব–৯ যেদিন ঈশ্বর কাঁদলেন সেদিন আকাশ ছিল রক্তিম। বাতাসে ছিল পচা লাশের গন্ধ। শিশুর কান্না মিশে গিয়েছিল গোলাগুলির শব্দে। আর ঠিক তখনই, ঈশ্বর কাঁদলেন। তাঁর চোখে জল ছিল না— কারণ মানুষের কান্না এতটাই গভীর ছিল, যে ঈশ্বরের নিজস্ব চোখকেই ম্লান লাগছিল তাদের সামনে। তিনি কাঁদলেন এক মায়ের আর্তনাদে, যে হারিয়েছিল তার একমাত্র সন্তানকে, কাঁদলেন সেই পিতার শূন্য দৃষ্টিতে, যে শেষবার ছেলের মুখ ছুঁতে পারেনি। তাঁর কান্না জমে ছিল মাটির গভীরে, যেখানে মানুষের রক্ত লেগে ছিল ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবিতে। ঈশ্বর বললেন না কিছুই। কারণ তিনি জানেন— সব ধর্ম মিলেও যদি একটিও প্রাণ বাঁচাতে না পারে, তবে তা শুধু নিয়মের খোলস । ঈশ্বর তখন মানুষ হতে চাইলেন— যেন কাউকে জড়িয়ে ধরতে পারেন, যেন কারও হাত ধরে বলতে পারেন, “আমি আছি, আর কাঁদতে দিও না।” কিন্তু মানুষ তখন ঈশ্বরকে খুঁজছিল মন্দিরে, কেউ গীর্জায়, কেউ কাবায়, কেউ প্রতিমার চোখে— অথচ ঈশ্বর দাঁড়িয়েছিলেন বারান্দায় এক অনাথ শিশুর পাশে, যার কোনো ধর্ম ছিল না, ছিল শুধু ক্ষুধা...

ঈশ্বরের চিঠি —গদ্য কবিতা (পর্ব-৮)

ছবি
  💌 গদ্য কবিতা – পর্ব-৮ ঈশ্বরের চিঠি প্রিয় মানুষ, আমি জানি, তুমি অনেক ব্যস্ত। জীবনের দৌড়ে তুমি কখনো কাঁদো, কখনো হাসো, কখনো পাপ করো, কখনো প্রেমে পড়ো। আমি সব দেখি, তবু চুপ থাকি। তুমি ভাবো আমি দূরে আছি— আকাশে, মিনারে, বা কোনো ধর্মগ্রন্থে আটকে। অথচ আমি আছি তোমার ভিতরে, যখন তুমি চুপ করে কারও কাঁধে হাত রাখো, কিংবা মা'র কপালে একটু তেল মেখে দাও। তুমি প্রার্থনা ভুলে গেছ? কোনো ক্ষতি নেই। আমি তোমার কান্নার ভাষাও বুঝি। তুমি হয়তো পাপ করেছ, তাও আমি তোমাকে ত্যাগ করিনি। আমি প্রতিদিন অপেক্ষা করি— তুমি একবার নিজেকে ক্ষমা করো, তাহলেই আমিও ক্ষমা করব। তুমি যদি ভাবো, আমি শাস্তির ঈশ্বর— তবে তুমি আমাকে চিনোনি। আমি ভালোবাসার ঈশ্বর। আমি চাই তুমি ভেঙে পড়ো না, জেগে উঠো। তুমি যদি কখনো একা অনুভব করো, চোখ বুজে আমার নাম নিও না, বরং তাকাও আয়নায়— আমি তোমার মাঝেই আছি, কণ্ঠে নয়, হৃদয়ে আমার বসবাস । ভালো থেকো, মানুষ হও, বাকিটা আমি আছি। —তোমার ঈশ্বর ...

ঈশ্বর কি ক্ষমা করেন? গদ্য কবিতা (পর্ব-৭)

ছবি
  🙏 গদ্য কবিতা – পর্ব-৭ ঈশ্বর কি ক্ষমা করেন? আমরা ভুল করি, প্রতিদিন। মাঝে মাঝে জানি, তবুও করি। আবার অনেক সময় অজান্তেই হেঁটে ফেলি অপরাধের পথে। তখন প্রশ্ন জাগে— ঈশ্বর কি ক্ষমা করেন? তুমি বলো— “তওবা করো, ক্ষমা মিলবে।” সে তো নিয়ম। কিন্তু তুমি কি জানো, একজন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়া পাপীর বুকেও ঈশ্বর এসে হাত রাখেন? আমার ঈশ্বর শাস্তির আগে বোঝান, ধ্বংসের আগে ডাকেন ফিরে, আর যখন কেউ ভেঙে পড়ে নিজের ভেতরেই, তখন ঈশ্বর এসে বসেন তার পাশে। তুমি বলো, ঈশ্বর ন্যায়পরায়ণ। আমি বলি, তিনি ক্ষমাশীল । আমার ঈশ্বর শাস্তি দিতে ভয় পান না, তবে তিনি অপেক্ষা করেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত— যদি আমি নিজেই বুঝি, আর নিজেকেই ত্যাগ করি। তুমি মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায় মাথা ঠেকাও। আমি একা ঘরে ঈশ্বরকে বলি— “আমি ভুল করেছি, নিজেকে আর সেই ভুলের কাছে ফেরত পাঠাব না।” এবং আমি জানি, তিনি শুনেন। কারণ ঈশ্বর রক্ত চান না— তিনি চান অনুশোচনা। আর যেখানে অনুশোচনা আছে, সেখানেই তাঁর ক্ষমা জেগে ওঠে — ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে, প্রেমে। তাঁর কাছে ...