পোস্টগুলি

মানবতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

পশু বলি দিয়ে শাপমুক্তি সম্ভব নয় — সঠিক উপলব্ধি

ছবি
  পশু বলি দিয়ে কি শাপমুক্তি পাওয়া যায়? 🐐 পশু বলি দিয়ে কি সত্যিই শাপমুক্তি পাওয়া যায়? মানুষ যখন বিপদে পড়ে, দুঃখ–কষ্টে পড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানত বা প্রার্থনা করে। অনেকে মন্দিরে গিয়ে দেব-দেবীর নামে পশু বলির মানত করে থাকে। যেমন— “মা, আমার অসুখ সারিয়ে দাও, আমি তোমার মন্দিরে একটা পাঠা বলি দেব।” কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমার শাপমুক্তির জন্য কেন একটি নিরীহ প্রাণী কে প্রাণ দিতে হবে? ওই প্রাণীর কি এমন দায় পড়েছে যে, সে আমার মুক্তির জন্য মারা যাবে? 🔎 শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ বেদ–উপনিষদ থেকে গীতা পর্যন্ত কোথাও বলা হয়নি যে পশু হত্যা করলে পাপ মুক্তি হবে। বরং শাস্ত্রের মূল বাণী হলো— “অহিংসা পরমো ধর্মঃ” , অর্থাৎ অহিংসাই সর্বোচ্চ ধর্ম। দেবতা কোনোদিন রক্ত বা মাংস চান না। তাঁরা চান অন্তরের ভক্তি, সততা ও সৎকর্ম। ❌ পশু বলির ভুল ধারণা অনেকেই মনে করে থাকেন, পশু বলি দিলে দেবতা খুশি হন। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। দেব-দেবীরা মাংসখেকো নন, রক্তপায়ী নন । এটি মূলত কুসংস্কার, যা যুগে যুগে কিছু মানুষের স্বার্থে চালু হয়েছিল। একজন মানুষ নিজের কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে গিয়ে যদি আরেকটি নিরীহ প্র...

মানুষ কেন মানুষের পূজারী বা সহযোগী হয় না? — বাস্তব উদাহরণসহ বিশ্লেষণ

ছবি
  মানুষ মানুষের পূজারী হয় না কেন? — সাহায্য-সহযোগিতার অভাবের কারণ ও সমাধান মানুষ মানুষের পূজারী হয় না কেন? — সাহায্য-সহযোগিতার অভাবের কারণ ও সমাধান লেখা: নিতাই বাবু • সমাজ ও নৈতিকতা আমরা প্রায়শই বলি—“মানুষ মানুষের পক্ষে হলে সমাজ সুন্দর হবে।” কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় অনেক সময় মানুষ অপরের কষ্টে পাশে দাঁড়ায় না। প্রশ্ন হল—কেন মানুষ মানুষের পূজারী (অর্থাৎ নিঃস্বার্থভাবে একে অপরকে পূজার মতো সম্মান ও সহায়তা) হয় না? নিচে কারণ, উদাহরণ ও সম্ভাব্য সমাধান বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো। মূল কারণগুলো ১. স্বার্থপরতা ও প্রতিযোগিতা আধুনিক জীবনে ব্যক্তিগত সাফল্য ও প্রতিযোগিতার চাপ অনেক। প্রচুর মানুষ নিজ স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। আর্থিক নিরাপত্তা, পদোন্নতি বা সামাজিক মর্যাদা অনেক সময় অন্যকে সাহায্য করার ইচ্ছাকে দমন করে। উদাহরণ: অফিসে একজন সহকর্মী সমস্যায় পড়লে অনেকেই সরাসরি সাহায্য না করে ভাবতে থাকে—“যদি সে আমার তুলনায় এগিয়ে চলে?” ২. ভয় ও অনাস্থা কেউ কাউকে সাহায্য করলে আইনগত জটিলতা বা ...

মানুষ নামের অমানুষ-গুলো : মানবতার অবক্ষয় ও সামাজিক বাস্তবতা

ছবি
  মানুষ নামের অমানুষ-গুলো পৃথিবীতে মানুষ নামের জীবটি নাকি সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। কিন্তু সব সময় কি মানুষ সত্যিই মানুষ হয়ে বেঁচে থাকে? ইতিহাস আর বর্তমান আমাদের দেখায়—সবাই মানুষ হলেও, সবার আচরণ মানবিক নয়। যারা নিজেদের স্বার্থ, লোভ, নিষ্ঠুরতা বা অমানবিক কাজ দিয়ে অন্যের ক্ষতি করে, তারাই আসলে “মানুষ নামের অমানুষ” । অমানুষ হওয়ার রূপগুলো লোভ ও স্বার্থপরতা: যারা নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের ক্ষতি করে, তারা মানবিকতার মুখোশ পরে অমানবিক কাজ করে। নিষ্ঠুরতা ও সহিংসতা: হত্যা, নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা, শিশুশ্রম—এসবই অমানুষের চিহ্ন। ভণ্ডামি: সমাজে ভদ্রতার মুখোশ পরে ভেতরে অমানুষ হয়ে থাকা লোকদের পাওয়া যায় প্রচুর। অন্যায়ের সহযোগী: যারা চুপ করে অন্যায়ের পাশে দাঁড়ায়, তারাও অমানুষেরই অংশ। ইতিহাসে ও সমাজে অমানুষ ইতিহাসের পাতায় আমরা দেখি—যুদ্ধ, দাসপ্রথা, উপনিবেশবাদ, গণহত্যা, দুর্নীতি—সবই মানুষের হাতে তৈরি। অথচ এসব কাজ যারা করেছে, তারা মানুষ হিসেবেই জন্ম নিয়েছিল। আজকের সমাজেও আমরা দেখি দুর্নীতিবাজ নেতা, লোভী ব্যবস...

বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি

ছবি
বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রচলন রয়েছে, যেমন হিন্দু ধর্ম , ইসলাম ধর্ম , বৌদ্ধ ধর্ম , খ্রিস্ট ধর্ম , ইহুদি ধর্ম , নাদারা এবং আরও অনেক ছোট-বড় ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান। এসব ধর্ম ও বিশ্বাসের বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও তাদের মূল উদ্দেশ্য মানব জীবনের উন্নতি, শান্তি এবং সমৃদ্ধি অর্জন। প্রত্যেকটি ধর্মই শিক্ষা দেয় ভালোবাসা , সহিষ্ণুতা , দয়া , ন্যায়পরায়ণতা এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মূল্যবোধ । আচার-অনুষ্ঠানের পার্থক্য থাকলেও, মানবিক মূল্যবোধে সকল ধর্ম একসূত্রে গাঁথা। "ধর্ম কোনো বিভাজন নয়, বরং মানুষের মধ্যে একতা ও সংহতির সেতুবন্ধন।" আমাদের উচিত পারস্পরিক ভিন্নতাকে গ্রহণ করে, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলা। কারণ আমরা সবাই একই সূর্যের আলোয় আলোকিত, যার অন্তরে রয়েছে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এক অপার শক্তি। সুতরাং, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, ইহুদি, নাদারা কিংবা অন্য যে কোনো ধর্মের অনুসারী হোন, আমরা সবাই এক মানবজাতি; যার একমাত্র ল...

আলো, সূর্য ও সমাজের আলোকিত মানুষ

ছবি
  ☀️ আলো, সূর্য ও সমাজের আলোকিত মানুষ আমরা সবাই সূর্যকে জানি—প্রতিদিন পূর্ব আকাশে উদিত হয়, আলো ছড়ায়, তাপ দেয়, আমাদের জীবন টিকিয়ে রাখে। কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি, এই সূর্য কাউকে গরিব বলে অবহেলা করে না , কাউকে ধনী বলে বেশি আলো দেয় না, কিংবা পাপী না সাধু—সে হিসেবেও আলোর মাপকাঠি স্থির করে না। সূর্য কেবল নিজের ধর্ম পালন করে—নিঃস্বার্থভাবে আলোকিত করে সবাইকে । কিন্তু মানুষ যখন আলোকিত হয়— শিক্ষায়, প্রতিভায়, প্রজ্ঞায় —তখন তার আলো আর নিঃস্বার্থ থাকে না। সে আলো বিক্রি হয় … ক্ষমতার কাছে, টাকার কাছে, কিংবা স্বার্থের কাছে। আমরা সমাজে যাদের আলোকিত মানুষ বলে জানি, তারা অনেকেই সেই আলোকে একটি মুদ্রায় পরিণত করে ফেলেছে। কারো কণ্ঠস্বর গাইডলাইন ছাড়া পাওয়া যায় না, কারো চিন্তার আলো কেবল ধনিক শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত, আর কেউ কেউ আলো দেখায় এমনভাবে— যেন সে-ই ঈশ্বর! 🌻 প্রকৃত আলোকিত মানুষ কেমন? অথচ প্রকৃত আলোকিত মানুষ সেই, যিনি অন্ধকারকে তুচ্ছ জেনে, নিঃস্বার্থভাবে আলো বিলিয়ে যান । যিনি মানুষের মধ্যকার বিভেদ না দেখে, কেবল মানুষটিকে দেখেন। যিনি জানেন, আলো দিতে হলে প্রদীপ হতে হয়, এবং তেল জো...

একটি ফুলের পাঠশালা

ছবি
  🌸 একটি ফুলের পাঠশালা একটি ফুল… নীরবে ফুটে ওঠে এক সকালে। কারও আমন্ত্রণে নয়, কারও বাহবায় নয়, শুধু নিজের অস্তিত্বেই সে সুন্দর হয়ে ওঠে। সে চায় না ধন্যবাদ, চায় না স্তুতি। তবুও—সে সুবাস ছড়িয়ে দেয় চারদিকে, নিঃস্বার্থভাবে। সবার জন্য। একটি ফুল বলে না, "এই সুবাস কেবল আমার আপনজনদের জন্য", সে ভাগ করে নেয় নিজের রূপ, নিজের ঘ্রাণ— জল বিক্রি করে না, আলো চায় না, নাম কাড়ে না। তবুও, তার সৃষ্টিকে ছুঁয়ে যায় প্রতিটি হৃদয়। অহংকারহীন সে সৌন্দর্য, সেই তো সত্যিকারের জ্ঞান। যেখানে আমরা মানুষ হয়ে প্রতিদিন কারও চেয়ে বড় হতে চাই, সেখানে একটি ফুল নিরবে আমাদের শেখায়— সুন্দর হও, নিঃস্বার্থ হও, বিনয়ী হও। কারণ পৃথিবী কেবল মুখর কণ্ঠস্বর নয়, পৃথিবী শ্রদ্ধা করে নীরব সৌন্দর্যকে, যা অহংকারহীন ভালোবাসায় প্রস্ফুটিত হয়। ✍️ লেখক: নিতাই বাবু নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে। মূলত সমাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতিচারণা ও ছন্দনিবদ্ধ রচনায় আগ্রহী। ভ...

শেষ চিঠি পৃথিবীর মানুষের কাছে

ছবি
  🌑 শেষ চিঠি পৃথিবীর মানুষের কাছে — নিতাই বাবু একদিন, যখন আমি আর থাকবো না, আমার ঘরের দেওয়ালে, বাতাসে, কিংবা কারও স্মৃতিতে যদি থেকে যাই— তখন একটু থেমে আমার এই লেখা পড়ে নিও। এই পৃথিবীকে আমি ভালোবেসেছিলাম জলপাই পাতার মতো শান্ত এক পৃথিবী কল্পনায়, যেখানে শিশুর কান্না যেন শুধুই খুশির বিস্ময়, যেখানে বৃদ্ধের চোখে অনন্ত শ্রান্তি নয়— থাকে শুধু শান্তির নদী। আমি দেখেছি, রোদ উঠে কিন্তু আলো আসে না, মানুষ হাসে কিন্তু ভিতরে কাঁদে, একজন আরেকজনের খুব পাশে থেকেও কি অদ্ভুতভাবে একা একা হেঁটে চলে! তোমরা যারা এখনো বেঁচে আছো, একটু ভালোবাসা দাও— একটু কান পেতে শোনো তোমার নীরব সন্তানের ভেতরের চিৎকার, একটু হাত রাখো তোমার পাশের বৃদ্ধ বাবার কাঁপা কাঁধে। এই পৃথিবীর সবচেয়ে করুণ দুঃখ— মানুষ বেঁচে থেকেও কারও হয়ে বাঁচে না। আমি চলে যাবো, খুব নিঃশব্দে, তবে আমার কণ্ঠে থেকে যাবে একটুকরো আকুতি— "ভালো থেকো, একটু ভালো থেকো সকলের জন্য।" নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো ...

যেদিন ঈশ্বর কাঁদলেন—গদ্য কবিতা (পর্ব-৯)

ছবি
  🕯️ গদ্য কবিতা – পর্ব–৯ যেদিন ঈশ্বর কাঁদলেন সেদিন আকাশ ছিল রক্তিম। বাতাসে ছিল পচা লাশের গন্ধ। শিশুর কান্না মিশে গিয়েছিল গোলাগুলির শব্দে। আর ঠিক তখনই, ঈশ্বর কাঁদলেন। তাঁর চোখে জল ছিল না— কারণ মানুষের কান্না এতটাই গভীর ছিল, যে ঈশ্বরের নিজস্ব চোখকেই ম্লান লাগছিল তাদের সামনে। তিনি কাঁদলেন এক মায়ের আর্তনাদে, যে হারিয়েছিল তার একমাত্র সন্তানকে, কাঁদলেন সেই পিতার শূন্য দৃষ্টিতে, যে শেষবার ছেলের মুখ ছুঁতে পারেনি। তাঁর কান্না জমে ছিল মাটির গভীরে, যেখানে মানুষের রক্ত লেগে ছিল ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবিতে। ঈশ্বর বললেন না কিছুই। কারণ তিনি জানেন— সব ধর্ম মিলেও যদি একটিও প্রাণ বাঁচাতে না পারে, তবে তা শুধু নিয়মের খোলস । ঈশ্বর তখন মানুষ হতে চাইলেন— যেন কাউকে জড়িয়ে ধরতে পারেন, যেন কারও হাত ধরে বলতে পারেন, “আমি আছি, আর কাঁদতে দিও না।” কিন্তু মানুষ তখন ঈশ্বরকে খুঁজছিল মন্দিরে, কেউ গীর্জায়, কেউ কাবায়, কেউ প্রতিমার চোখে— অথচ ঈশ্বর দাঁড়িয়েছিলেন বারান্দায় এক অনাথ শিশুর পাশে, যার কোনো ধর্ম ছিল না, ছিল শুধু ক্ষুধা...

ঈশ্বরের চিঠি —গদ্য কবিতা (পর্ব-৮)

ছবি
  💌 গদ্য কবিতা – পর্ব-৮ ঈশ্বরের চিঠি প্রিয় মানুষ, আমি জানি, তুমি অনেক ব্যস্ত। জীবনের দৌড়ে তুমি কখনো কাঁদো, কখনো হাসো, কখনো পাপ করো, কখনো প্রেমে পড়ো। আমি সব দেখি, তবু চুপ থাকি। তুমি ভাবো আমি দূরে আছি— আকাশে, মিনারে, বা কোনো ধর্মগ্রন্থে আটকে। অথচ আমি আছি তোমার ভিতরে, যখন তুমি চুপ করে কারও কাঁধে হাত রাখো, কিংবা মা'র কপালে একটু তেল মেখে দাও। তুমি প্রার্থনা ভুলে গেছ? কোনো ক্ষতি নেই। আমি তোমার কান্নার ভাষাও বুঝি। তুমি হয়তো পাপ করেছ, তাও আমি তোমাকে ত্যাগ করিনি। আমি প্রতিদিন অপেক্ষা করি— তুমি একবার নিজেকে ক্ষমা করো, তাহলেই আমিও ক্ষমা করব। তুমি যদি ভাবো, আমি শাস্তির ঈশ্বর— তবে তুমি আমাকে চিনোনি। আমি ভালোবাসার ঈশ্বর। আমি চাই তুমি ভেঙে পড়ো না, জেগে উঠো। তুমি যদি কখনো একা অনুভব করো, চোখ বুজে আমার নাম নিও না, বরং তাকাও আয়নায়— আমি তোমার মাঝেই আছি, কণ্ঠে নয়, হৃদয়ে আমার বসবাস । ভালো থেকো, মানুষ হও, বাকিটা আমি আছি। —তোমার ঈশ্বর ...

ঈশ্বর কি ক্ষমা করেন? গদ্য কবিতা (পর্ব-৭)

ছবি
  🙏 গদ্য কবিতা – পর্ব-৭ ঈশ্বর কি ক্ষমা করেন? আমরা ভুল করি, প্রতিদিন। মাঝে মাঝে জানি, তবুও করি। আবার অনেক সময় অজান্তেই হেঁটে ফেলি অপরাধের পথে। তখন প্রশ্ন জাগে— ঈশ্বর কি ক্ষমা করেন? তুমি বলো— “তওবা করো, ক্ষমা মিলবে।” সে তো নিয়ম। কিন্তু তুমি কি জানো, একজন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়া পাপীর বুকেও ঈশ্বর এসে হাত রাখেন? আমার ঈশ্বর শাস্তির আগে বোঝান, ধ্বংসের আগে ডাকেন ফিরে, আর যখন কেউ ভেঙে পড়ে নিজের ভেতরেই, তখন ঈশ্বর এসে বসেন তার পাশে। তুমি বলো, ঈশ্বর ন্যায়পরায়ণ। আমি বলি, তিনি ক্ষমাশীল । আমার ঈশ্বর শাস্তি দিতে ভয় পান না, তবে তিনি অপেক্ষা করেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত— যদি আমি নিজেই বুঝি, আর নিজেকেই ত্যাগ করি। তুমি মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায় মাথা ঠেকাও। আমি একা ঘরে ঈশ্বরকে বলি— “আমি ভুল করেছি, নিজেকে আর সেই ভুলের কাছে ফেরত পাঠাব না।” এবং আমি জানি, তিনি শুনেন। কারণ ঈশ্বর রক্ত চান না— তিনি চান অনুশোচনা। আর যেখানে অনুশোচনা আছে, সেখানেই তাঁর ক্ষমা জেগে ওঠে — ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে, প্রেমে। তাঁর কাছে ...

ঈশ্বরকে যদি কাছে পেতাম— গদ্য কবিতা (পর্ব-৬)

ছবি
  🪔 গদ্য কবিতা – পর্ব-৬: ঈশ্বরকে যদি কাছে পেতাম… ঈশ্বরকে যদি কাছে পেতাম, জিজ্ঞেস করতাম— এত কষ্ট দিয়ে কেন পাঠালে? ভাঙা ঘর, অনাহারী শিশু, বৃদ্ধ মায়ের কাঁপা হাত এসব কি তোমার ইচ্ছার ফল? আমি হয়তো কাঁদে ফেলতাম, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বলতে চাইতাম— “তুমি কি দেখো না? তোমার নামে কত হত্যা, ঘৃণা, দ্বন্দ্ব?” ঈশ্বরকে যদি কাছে পেতাম, একটিবার জড়িয়ে ধরতাম তাঁকে বলতাম— "তুমি কি জানো, তোমাকে না দেখতে পেয়ে কত রাতে ঘুম আসেনি?” আমি চাইতাম না সোনার মন্দির, চাইতাম না কোনো ধর্মের প্রমাণ, শুধু একটা হাত রাখতেন আমার কাঁধে আর বলতেন, “আমি আছি, পাশে আছি।” ঈশ্বরকে যদি কাছে পেতাম, বলতাম— “চলো, একদিন পথে হাঁটি, দেখো কত মানুষ তোমায় ডাকে কিন্তু কেউ পায় না— কেবল ঘরভরা নিয়ম আর ভয়!” আমি তাঁর চোখে চোখ রেখে বলতাম, “ভালোবাসা শেখাও, ভয় নয়। মানবতা শেখাও, ধর্ম নয়। কারণ তুমি যদি ঈশ্বর হও, তবে তোমার প্রথম নাম হওয়া উচিত— ভালোবাসা ।” — নিতাই বাবু নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চল...