পোস্টগুলি

মানুষ কেন সময় সময় অমানুষ হয়ে যায়? – নৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

ছবি
  মানুষ কেন সময় সময় অমানুষ হয়ে যায়? মানুষ হলো জীবনের সর্বোচ্চ সৃষ্টির একটি চমকপ্রদ রূপ। তবুও আমরা প্রায় সময় দেখি মানুষ কখনো কখনো অমানবিক আচরণ করে। এটি কি শুধুমাত্র অনৈতিকতা, নাকি মানব প্রকৃতির এক গভীর বাস্তবতা? আসুন ধাপে ধাপে বিষয়টি বিশ্লেষণ করি। ১. আত্মতৃপ্তি ও লোভ মানুষ প্রায়ই নিজের স্বার্থ, লোভ বা ক্ষমতার জন্য এমন কাজ করে যা অন্যের জন্য ক্ষতিকর। ধন, ক্ষমতা বা প্রভাব অর্জনের জন্য অনেকেই নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ ক্ষমতার জন্য অসৎ পথে অর্থ হাতিয়ে নেয় বা অন্যকে হেয় করার চেষ্টা করে। ২. ভয় ও নিরাপত্তার আকাঙ্ক্ষা কেউ কখনো কখনো ভয় থেকে অমানুষিক কাজ করে। নিজের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, বা জীবনের ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে গিয়ে মানুষ অন্যের প্রতি নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে। কিছু মানুষ অন্যকে ঠকিয়ে বা অবহেলা করে “সুরক্ষিত” থাকতে চায়। ৩. সমাজ ও পরিবেশের প্রভাব মানুষ যে সমাজে জন্মায়, সেই সমাজের পরিবেশ তার আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে। সামাজিক অনিয়ম, বৈষম্য এবং অন্যায়ের দৃশ্যাবলী মানুষকে করুণ বা নিষ্ঠুর করতে পারে। অন্যরা যখন অবাধে অন্যায় করে, তখন অনেকেই সেটাকে স্বাভাবিক...

Pride and Prejudice: জেইন অস্টেনের অনবদ্য সৃষ্টি ও সমাজ বাস্তবতা

ছবি
  Pride and Prejudice: জেইন অস্টেনের অনবদ্য সৃষ্টি “It is a truth universally acknowledged, that a single man in possession of a good fortune, must be in want of a wife.” লেখক পরিচিতি জেইন অস্টেন (Jane Austen) ছিলেন ১৮শ শতকের শেষ ভাগ এবং ১৯শ শতকের প্রথম ভাগের অন্যতম প্রভাবশালী ইংরেজি লেখক। তাঁর জন্ম ১৬ ডিসেম্বর ১৭৭৫ সালে, ইংল্যান্ডে। অস্টেনের উপন্যাসগুলো মূলত সমাজ, নারীর অবস্থান, সম্পর্ক এবং রোমান্স নিয়ে। Pride and Prejudice তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় রচনাগুলোর একটি, যা ১৮১৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের পটভূমি উপন্যাসটির সময়কাল জর্জিয়ান ইংল্যান্ড (১৮শ শতকের শেষভাগ)। সেই সময়ে মেয়েদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত দুর্বল। বাবার সম্পত্তি কেবল ছেলেরা পেত; মেয়েদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করত স্বামীর উপর। তাই বিবাহ ছিল কেবল ভালোবাসার নয়, বরং বেঁচে থাকার সংগ্রাম। মূল চরিত্রগুলো এলিজাবেথ বেনেট – উপন্যাসের নায়িকা। বুদ্ধিমতী, স্বাধীনচেতা এবং সমাজের বাঁধাধরা নিয়ম মানতে অনিচ্ছুক। মিস্টার ডার্সি – ধনী, অহং...

মায়ের সংগ্রাম ও ত্যাগ – ছয় সন্তানকে লালন করার কাহিনি

ছবি
  মায়ের ত্যাগ ও বিদায়ী আত্মার যাত্রা মায়ের ত্যাগ ও বিদায়ী আত্মার যাত্রা ১. শৈশব ও পরিবারের সংগ্রাম আমি ছোটোবেলায় আমাদের চার বোন দুই ভাই—আমার চেয়ে বড়রা সবাই ছিলেন। বাবা চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্‌ এ আউট-অফ সাইট ক্যালেন্ডার মেশিনে কাজ করতেন। আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। হঠাৎ এক দুপুরে, ক্যালেন্ডার মেশিনের কাপড় গালানোর সময় বাবার বাম হাতের পাঁচটি আঙুল মেশিনের মধ্যে চাপা পড়ে। এর পর বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়েছিলেন। সংসার চালানো তখন খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। ২. মায়ের ত্যাগ ও প্রতিকূলতার মোকাবিলা আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জন ছিল বড়দাদা আদর্শের কটন মিলের নামমাত্র বেতন। সে দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব। মা তখন যা করতেন: মিলের কোয়ার্টারের পেছনে দুনদুল (সবজি) গাছ রোপণ করতেন। এই গাছ থেকে প্রচুর ফল পাওয়া যেত, যা বাজারে বিক্রি করে আটা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কিনতেন। আমাদের তিন বেলার খাবার ঠিক রাখতে, মা বাজার থেকে ছোট অল্পমূল্যে আনা আটা দিয়ে রান্না করতেন। মাটির বাউন্ডারিতে গোবর সংগ্রহ করে শুকিয়ে রান্নাঘরে ব্যবহার করতেন, যেন কোনো ক্ষতি না হয়। বিত্তশালীদের খাবারের পানি সংগ...

তীর্থযাত্রা, পাপ-পুণ্য ও মানুষের আচার-আচরণ: গয়া, কাশি ও বৃন্দাবনের বিশ্লেষণ

ছবি
  তীর্থযাত্রা, পাপ-পুণ্য ও মানুষের আচার-আচরণ: গয়া, কাশি ও বৃন্দাবন বিশ্লেষণ তীর্থযাত্রা, পাপ-পুণ্য ও মানুষের আচার-আচরণ: গয়া, কাশি ও বৃন্দাবনের বিশ্লেষণ প্রাচীনকাল থেকে মানুষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রেরণার সন্ধানে পবিত্র তীর্থস্থল ভ্রমণ করেছে। গয়া, কাশি (বারাণসী) ও বৃন্দাবন—এসব স্থান হিন্দু ধর্মে বিশেষভাবে পবিত্র বলে বিবেচিত। মানুষ বিশ্বাস করে যে এই তীর্থস্থানগুলোতে স্নান, পূজা-পাঠ ও পিণ্ডদান করলে আত্মা শুদ্ধ হয়, পূর্বপুরুষদের শান্তি হয় এবং পাপ মুছে যায়। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—শুধুমাত্র তীর্থযাত্রা বা স্নানেই কি সত্যিকারের পাপমুক্তি সম্ভব? ধর্মীয় বিশ্বাস ও তীর্থযাত্রার মাহাত্ম্য হিন্দু ধর্মের শাস্ত্রে গয়া, কাশি এবং বৃন্দাবনের বিশেষ স্থান উল্লেখ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: গয়া: পিতৃকূলের তৃপ্তি ও আত্মার শান্তির জন্য পিণ্ডদান প্রথা। পিতার জন্য পাপশমনের বিশ্বাস। কাশী (বারাণসী): স্নান ও মৃত্যু—এই শহরে মৃত্যু হলে, শাস্ত্র অনুযায়ী মোক্ষ প্রাপ্তি হয়। কারণ কাশীর ঘাট ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে প্রাচীনকাল থেকে মুক্তির স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বৃন্দাবন: ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ...

ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন ও মানুষের আচার-আচরণ: লাঙ্গলবন্ধ স্নানের আলোকে পাপ-পুণ্যের ধারণা

ছবি
  ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন ও মানুষের আচার-আচরণ – লাঙ্গলবন্ধ স্নানের আলোকে পাপ-পুণ্যের ধারণা ধর্মীয় জ্ঞান · আচার-আচরণ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন ও মানুষের আচার-আচরণ লাঙ্গলবন্ধ স্নানের আলোকে পাপ-পুণ্যের ধারণা লেখক: নিতাই বাবু · প্রকাশ: 07 Apr 2016 · হালনাগাদ: 07 Apr 2016 লাঙ্গলবন্ধ ব্রহ্মপুত্র মহাঅষ্টমী পাপ–পুণ্য পরশুরাম সূচিপত্র লাঙ্গলবন্ধ স্নান: প্রেক্ষাপট ও আচরণগত প্রশ্ন পুরাণকথার আলো: পরশুরাম ও ব্রহ্মপুত্র মহাঅষ্টমীর বাস্তব অভিজ্ঞতা: তীর্থ, ভিড় ও চুরি ধর্ম বনাম আচরণ: পাপ-পুণ্যের আসল পাঠ মূল লেখা (হুবহু) লাঙ্গলবন্ধ স্নান: প্রেক্ষাপট ও আচরণগত প্রশ্ন ধর্মীয় আচারে তীর্থস্নান প্রাচীন ও সম্মানিত অনুশীলন। তবে একটি বাস্তব প্রশ্ন থাকে— একটি স্নান কি সত্যিই “পাপ মোচন” করে? লেখক এখানে সংসার ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব তুলে ধরে দেখিয়েছেন, বাহ্য আচার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্তরের শুদ্ধতা আরও জরুরি। মূল ধারণা: পাপ মোচনের আসল ...

পবিত্র ব্রহ্মপুত্র নদে পূণ্যস্নান করে আমি কি পাপ মুক্ত হয়েছি? – লাঙ্গলবন্ধ মহাঅষ্টমী স্নানের কাহিনী

ছবি
  পবিত্র ব্রহ্মপুত্র নদে পূণ্যস্নান করে আমি কি পাপ মুক্ত হয়েছি? নিতাই বাবু Published 06:30pm : Updated : এই চৈত্রমাস আসলেই আমি একটা দুশ্চিন্তায় থাকি সব সময়৷ কারণ হলো লাঙ্গলবন্ধ স্নান ! সারাদিন বাইরে কাজ করে ঘরে আসলেই শুরু হয় ঐ লাঙ্গলবন্ধের প্রেমতলার বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ৷ আর এই আওয়াজ হলো আমার স্ত্রীর গলার আওয়াজ৷ এবার আর ছাড়বো না, এবার যেতেই হবে, মা বাড়ি থেকে এখানে আসছে স্নানে যাওয়ার জন্য, তোমাকে সাথে যেতেই হবে ইত্যাদি ইত্যাদি৷ আমার স্ত্রী আবার খুবই ধার্মিক, স্বামী ভক্তি না থাকলেও গুরুভক্তি আনেক৷ স্বামীর চরণ ছুঁইয়ে ভক্তি না দিলেও গুরুর চরণের আঙ্গুল চেঁটে খাওয়া লোক আমার স্ত্রী৷ যাক সব কথা, কিন্তু আমার কথা হলো যে স্নানে যেয়ে স্নান করলে যদি পাপ মোছনই হতো, তবে মানুষ সারা বছর পাপযুক্ত যত কাজ আছে সব কাজ সম্পাদন করে চৈত্রমাসের এই দিনকার আশায় থাকত৷ সমস্যা নাই পাপের কাজ করার জন্য৷ স্নানতো আছে? লাঙ্গলবন্ধের ব্রহ্মপুত্র নদ তো আছে? সেখানে গিয়ে স্নান করলেই তো পাপমুক্ত হয়ে যাব৷ এসব কথাগুলো আমার স্ত্রীকে শোনালাম, যাতে সে যেন বুঝতে পারে পাপ মোছনের জায়গা লাঙ্গলবন্ধের ব্রহ্মপুত্র নদ নয়, পাপ ম...

আমরা কি সত্যিই বিজ্ঞানমনস্ক? – সনাতনী হিন্দুধর্মের দৃষ্টিকোণ

ছবি
  আমরা কি সত্যিই বিজ্ঞানমনস্ক? - সনাতনী হিন্দুধর্মের দৃষ্টিকোণ প্রকাশক: সনাতন সন্দেশ | সোমবার ১৮ আগস্ট ২০২৫ পৃথিবীতে ধর্ম একটাই আর সেটি হল সনাতনী হিন্দু ধর্ম, বাকিগুলো মানুষ প্রচারিত বিশেষ উপাসনা পদ্ধতি বা ধর্মমত। আমরা অনেক সময়ই এই ধর্ম আর 'ধর্মমত' শব্দদুটি নিয়ে বিভ্রান্ত হই। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বিশেষ মানুষকে 'পূজা' করা হয় বা বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা মূল হিন্দু ধর্মে নেই। হিন্দু ধর্মে গুরুদেবের বিষয়েও বলা হয়েছে, শাস্ত্রে তাঁকে 'শিব জ্ঞানে' মেনে চলতে। সারা পৃথিবীতে মানুষ যখন সভ্য হতে শিখল, গুহা ছেড়ে বাড়িঘর বানিয়ে বাস করতে শুরু করল বা গাছের ছাল-পাতা দিয়ে কাপড় পরতে শিখল, তার বহু আগেই সনাতনী মানুষ বর্ণলিপি তৈরি করল এবং ধর্মগ্রন্থ বেদ রচনা করল। তাই সনাতনী হিন্দুধর্মের অনুসরণ সকল ধর্মমতেই লক্ষ্য করা যায়। সনাতনী হিন্দুধর্মের বিজ্ঞানসম্মত কিছু উদাহরণ: হিন্দু ধর্ম যখন বলে সৃষ্টি শুরু হয়েছিল জলে, তখন তা আমরা বিশ্বাস করি না। অথচ বিজ্ঞানও বলে, পৃথিবীর বুকে প্রথম প্রাণ সৃষ্টিও জলে হয়েছিল। হিন্দু ধর্ম যখন মৎস → কূর্ম → বরাহ → নৃসিংহের কাহিনী বলে, ...