Pride and Prejudice: জেইন অস্টেনের অনবদ্য সৃষ্টি ও সমাজ বাস্তবতা
Pride and Prejudice: জেইন অস্টেনের অনবদ্য সৃষ্টি
“It is a truth universally acknowledged, that a single man in possession of a good fortune, must be in want of a wife.”
লেখক পরিচিতি
জেইন অস্টেন (Jane Austen) ছিলেন ১৮শ শতকের শেষ ভাগ এবং ১৯শ শতকের প্রথম ভাগের অন্যতম প্রভাবশালী ইংরেজি লেখক। তাঁর জন্ম ১৬ ডিসেম্বর ১৭৭৫ সালে, ইংল্যান্ডে। অস্টেনের উপন্যাসগুলো মূলত সমাজ, নারীর অবস্থান, সম্পর্ক এবং রোমান্স নিয়ে। Pride and Prejudice তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় রচনাগুলোর একটি, যা ১৮১৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
উপন্যাসের পটভূমি
উপন্যাসটির সময়কাল জর্জিয়ান ইংল্যান্ড (১৮শ শতকের শেষভাগ)। সেই সময়ে মেয়েদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত দুর্বল। বাবার সম্পত্তি কেবল ছেলেরা পেত; মেয়েদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করত স্বামীর উপর। তাই বিবাহ ছিল কেবল ভালোবাসার নয়, বরং বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
মূল চরিত্রগুলো
- এলিজাবেথ বেনেট – উপন্যাসের নায়িকা। বুদ্ধিমতী, স্বাধীনচেতা এবং সমাজের বাঁধাধরা নিয়ম মানতে অনিচ্ছুক।
- মিস্টার ডার্সি – ধনী, অহংকারী হলেও পরিশেষে নম্র এবং ভালোবাসার যোগ্য চরিত্র।
- মিসেস বেনেট – এলিজাবেথের মা, যার একমাত্র উদ্দেশ্য মেয়েদের ধনী ঘরে বিয়ে দেওয়া।
- মিস্টার কলিন্স – হাস্যকর হলেও সমাজে প্রতিষ্ঠিত একজন পাদ্রী।
- জেন বেনেট – এলিজাবেথের বোন, সৌন্দর্য ও ভদ্রতায় অনন্য।
গল্পের সংক্ষেপ
কাহিনির শুরু হয় বেনেট পরিবারকে ঘিরে, যাদের পাঁচ কন্যা। মিসেস বেনেট তাদের বিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া। এ সময় ধনী ভদ্রলোক মিস্টার বিংলি পাড়ায় আসেন। তাঁর সঙ্গে জেন বেনেটের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অন্যদিকে এলিজাবেথ প্রথম দেখায় মিস্টার ডার্সির অহংকারে ক্ষুব্ধ হন। ডার্সিও এলিজাবেথের স্বাধীনচেতা মনোভাবকে ভুলভাবে বোঝেন। নানা ভুল বোঝাবুঝি, গুজব ও সামাজিক চাপের মধ্য দিয়ে এগোয় গল্প। শেষে এলিজাবেথ ও ডার্সি একে অপরকে নতুনভাবে চিনতে শেখেন এবং ভালোবাসায় আবদ্ধ হন।
প্রধান থিম
- Pride (অহংকার) – ডার্সির অহংকার তাঁকে এলিজাবেথকে অবমূল্যায়ন করতে বাধ্য করে।
- Prejudice (পূর্বধারণা) – এলিজাবেথও প্রথমে ডার্সিকে ভুলভাবে বিচার করেন।
- সামাজিক চাপ – ধনী-গরিব বৈষম্য, বিবাহ বাজারের নির্মম বাস্তবতা।
- ভালোবাসা বনাম অর্থ – বিয়ে কি সত্যিই অর্থ ও মর্যাদার জন্য, নাকি মনের মিলের জন্য?
সমাজের প্রতিচ্ছবি
উপন্যাসে দেখানো হয়েছে, মেয়েদের শৈশব থেকেই শেখানো হতো—“ভালো স্বামী ছাড়া জীবনের মূল্য নেই”। তাই ধনী পুরুষকে ঘিরে মেয়েদের বাবা-মায়ের প্রতিযোগিতা চলত। ধনী পুরুষেরা আবার ধনী ঘরের মেয়েই চাইত। ফলে ছেলে-মেয়ের নিজের পছন্দের কোনো দাম থাকত না।
সিনেমা ও টিভি রূপান্তর
Pride and Prejudice বহুবার সিনেমা ও টিভি সিরিজে রূপান্তরিত হয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো:
- ১৯৪০ সালের সিনেমা (Greer Garson & Laurence Olivier অভিনীত)
- ১৯৯৫ সালের টিভি সিরিজ (Colin Firth as Darcy)
- ২০০৫ সালের সিনেমা (Keira Knightley as Elizabeth)
পাঠকের জন্য শিক্ষা
এই উপন্যাস আমাদের শেখায়— ভালোবাসা ও বিবাহ কেবল অর্থ বা সামাজিক মর্যাদার জন্য নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও সত্যিকারের সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল।
উপসংহার
Pride and Prejudice আজও পড়া হয় সারা বিশ্বে। এটি শুধু এক যুগের গল্প নয়, বরং মানুষের মনের গল্প। অহংকার, ভুল ধারণা, সামাজিক চাপের মধ্যেও ভালোবাসা জিতে যায় – এটাই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় বার্তা।
এই পোস্টটি সহযোগিতায় ও তথ্য-সহ তৈরি করা হয়েছে:
ChatGPT by OpenAI
তথ্য ও নির্দেশনা সাধারণ শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। কপিরাইট আইন বা রীতিনীতি পরামর্শ গ্রহনের ক্ষেত্রে যথাযথ সাহিত্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
তথ্যসূত্র
- Jane Austen, Pride and Prejudice (1813)
- Encyclopaedia Britannica
- IMDb: Pride and Prejudice adaptations
|
নিতাই বাবু
🏆 পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। 🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা |

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
nitaibabunitaibabu@gmail.com