পোস্টগুলি

দুঃখের ছায়া

ছবি
  🖤 দুঃখের ছায়া নীরব রাতের কান্না শুনি, চাঁদের আলোয় ভেজে ধূনি। হৃদয় জুড়ে জমে ব্যথা, কেউ বোঝে না, রাখে না কথা। ভাঙা স্বপ্ন কাঁচের মতো, পায়ে লাগে, রক্ত ঝরতো। হাসির আড়াল বিষাদ ভরা, জীবন যেন নিঃশ্বাস ধরা। বন্ধ জানালায় চেয়ে থাকি, আলো আসে, ছুঁয়ে না মাখি। স্মৃতিরা আসে, বসে পাশে, বলে, “তুমি একা নও আশে।” ছোট্ট কিছু কথা, হারানো গান, ভেসে আসে দূর অতীতের প্রাণ। একটি চিঠি, একটি ছবি, ভালোবাসা ছিল, আজ শুধু রবি। মায়ের মুখ, বাবার ছায়া, বন্ধুর হাসি, প্রেমের মায়া। সবই যেন স্বপ্নের মতো, জেগে উঠি, নেই কেউ ততো। দুঃখ আমার সাথী হয়ে, চলে দিন, রাতের ছোঁয়ায়। সে-ই জানে, কতটা কাঁদি, সে-ই বোঝে, কতটা ভাঙি। তবু আশার আলো জ্বলে, একটি নাম, একটি ছলে। ভবিষ্যতের একটুখানি রঙ, দুঃখের মাঝে স্বপ্নের ঢঙ। আমি লিখি, আমি গাই, ব্যথার মাঝে শান্তি পাই। দুঃখ যদি বন্ধু হয়, তবে সে-ই তো হৃদয়ের জয়। ✍️ লেখক পরিচিতি: নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক — ২০১৭ ব্লগ ডট বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম 📚 আরও পড়ুন: 👉 জীবনের ঘটনা | নিতাই বাবু ব্লগ | ...

গদ্য কবিতা: এখনো বেঁচে আছি…

ছবি
  ✍️ গদ্য কবিতা: "এখনো বেঁচে আছি…" লেখক: নিতাই বাবু আমি এখনো বেঁচে আছি… কারণ, এখনও অনেক কিছু দেখা বাকি। দেখেছি আগুনে পুড়তে বাংলার মাটি, রক্তে ভেসে যেতে সরু খাল আর কাঁচা পথ। দেখেছি মা-বোনের আর্তনাদে কেঁপে উঠতে আকাশ, সেই আকাশ এখনো মাথার ওপর। আমি ছিলাম ছোট, তবুও চোখে আঁকা সব দৃশ্য— নির্মমতা, নির্যাতন, ভয়ের ছায়া, বুকে গেঁথে আছে এখনো। আজ দেখি আরেক রূপ, দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ আজও চলে... তফাৎ শুধু—আজ হানাদার বিদেশি নয়, আজকের রক্তচক্ষু আমাদেরই কাঁধে ব্যাজধারী! আজ যারা চালায় গুলি, ফাটায় বোমা, তারা আমাদেরই রক্ত। আজ যাদের হাতে পঙ্গু হয় যুবক, তাদের ডান হাতে জাতীয় পতাকা, বাম হাতে রাইফেল! কী নিদারুণ ব্যথা! যে স্বাধীনতার জন্য ত্রিশ লক্ষ প্রাণ, লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম উৎসর্গ, আজ সেই দেশের বুকে গর্জে ওঠে রাষ্ট্রীয় বর্বরতা। আরো কষ্ট হয় যখন দেখি— আমাদেরই পাশের বাড়ির লোকটা, দুধেভাতে বড় হওয়া ছেলেটা, হিংসার চোখে মিছিল দেখে, চুপচাপ সহযোগিতা করে দমনযন্ত্রকে। ঠিক যেমন ১৯৭১-এ— আমাদেরই কিছু মানুষ হয়েছিলো সহিংসতার বন্ধু। তখন শত্রু ছিল বাইরে, এখন শত্রু আমাদের ভিতরে। দেখেছি ২০২৪ সালে ...

অক্ষরের মেলা

ছবি
  📚 অক্ষরের মেলা 📚 ✍️ স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের ছড়া আ -কে বলে আদর করে, আ -কারেতে নামটা ধরে। ই-উ এসে দেয় যে হাসি, ঋ বলে, “আমিও আসি!” এ -ও আছে, ঐ -ও পরে, ও -ও বলে, “আমি থাকি পড়ে!” ঔ নাচে ঢেউয়ের তালে, স্বরবর্ণ থাকে লেখার জালে। কিন্তু দেখো, ব্যঞ্জন দল , আটত্রিশ জনের একটাই বল! ক–খ গ–ঘ , হায় রে ভাই, চ–ছ জ–ঝ , বলে উপায় নাই! ট–ঠ ড–ঢ টানাটানি, ত–থ দ–ধ শোনায় মধুর বাণী। প–ফ ব–ভ দারুণ রাগে, ম–য র–ল কেন আগেভাগে? শ–ষ–স একসাথে হাঁটে, হ বলে, “আমিও আছি পাঁটে!” ক্ষ–ত্র–জ্ঞ জটিল বটে, তবুও তারা চলে একজোটে! স্বর আর ব্যঞ্জন মিলে, শব্দের পিঠে ছন্দ গিলে। বাংলা ভাষা বাজে হৃদয়তারে, গল্প বলে সুখে-দুঃখে, ছন্দ-সঞ্চারে। ✍️ লেখক: নিতাই বাবু 🏅 পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭ 🌐 ব্লগ ডট বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম 🔗 শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সঙ্গে: Facebook Twitter WhatsApp Email

কেউ এগিয়ে এলো না!

ছবি
  "একটা মানুষও এগিয়ে এলো না!" নিহতের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন— “এতো মানুষ মিলে একটা মানুষকে মারলো, একটা মানুষও এগিয়ে এলো না…” তার কণ্ঠে কান্না ছিলো, কিন্তু তার কথায় ছিলো এক ভয়ংকর প্রশ্নের দহন। তাঁর স্বামীকে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে হত্যা করা হলো, আর চারপাশে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে থাকলো— তাকিয়ে থাকলো। কেউ কিছু বললো না, কেউ হাত বাড়ালো না। কেউ প্রতিবাদ করলো না। কেউ সাহস দেখালো না। এখন প্রশ্ন জাগে… এই দেশের মানুষ কী তবে খুনিদের মৌন সমর্থক? নাকি সবাই শুধু নীরব দর্শক? নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা কি সত্যের পাশে না দাঁড়ানোর অন্য নাম নয়? ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ কি খুনের অনুমোদন নয়? একটি সমাজের ভয়, নির্বাকতা, আর আত্মকেন্দ্রিকতা যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে থামিয়ে দেয়, তখন অপরাধীরা সাহস পায়—আর নিরীহরা প্রাণ হারায়। এই ঘটনায় শুধু একজন মানুষ মারা যায়নি, আসলে আহত হয়েছে আমাদের মানবতা। মারা গেছে নৈতিকতা। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা সেই শত শত মানুষ— তারা কি সত্যিই নিরাপদ? 🕯️ আমরা কি এক ভয়াবহ নির্লিপ্তির যুগে প্রবেশ করলাম, যেখানে ন্যায়বোধ নেই, প্রতিবাদ নেই, শুধু আছে চোখ, কিন্তু নেই দৃষ্টি...

দূর হোক শিবলিঙ্গ নিয়ে ভুল ধারণা – একটি তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ

ছবি
  🔱 দূর হোক শিবলিঙ্গ নিয়ে ভুল ধারণা আমরা সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী , তাই বর্তমানে এই উপমহাদেশে আমরা ‘ হিন্দু ’ নামে পরিচিত। এ কারণে অনেকসময় আমাদের মুসলমান বন্ধু রা কিংবা আশেপাশের মানুষ নানা প্রশ্ন করে থাকেন। কেউ বলে ফেলেন — চাড়াল, মালাউন, ডেডাইয়া, বিধর্মী ইত্যাদি। আবার কেউ প্রশ্ন করে — সনাতন ধর্মের মানুষ মৃত্যুর পর পোড়ানো হয় কেন? বারো মাসে তেরো পূজা বলতে কী বোঝায়? ৩৩ কোটি দেবতার নাম জানা আছে? লিঙ্গ পূজা করা হয় কেন? মাটির মূর্তি বানিয়ে এত টাকা খরচ করে পূজা করে, আবার ফেলে দেওয়া হয় কেন? এসব প্রশ্নের পেছনে একটা বড় কারণ হল ভুল ধারণা আর সঠিক তথ্যের অভাব । অনেকেই মনে করেন, হিন্দু ধর্ম মানেই মূর্তিপূজা ও হরিনাম সংকীর্তন — যা একটি একরৈখিক ভুল ধারণা। 📜 ‘হিন্দু’ শব্দের উৎপত্তি ও বৈদিক ব্যাখ্যা ‘হিন্দু’ শব্দটি বৈদিক শাস্ত্রে নেই , এটি ঊনবিংশ শতাব্দীতে গঠিত একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক শ্রেণি নির্দেশক শব্দ। মূলত ‘সিন্ধু’ নদীর পাশ্ববর্তী বাসিন্দাদের পারস্যবাসীরা উচ্চারণ করত ‘হিন্দু’। এ থেকেই নামকরণ। তবে ‘হিন্দু’ শব্দটি ‘হিংসা করেন না’ হিংসা আর অহংকারে ...

আমি লিখতে চাই

ছবি
  লিখতে চাই পৃথিবী নিয়ে… এই বিশাল পৃথিবীতে আমি কেন এলাম — এই প্রশ্নটা বারবার ফিরে আসে। মা-বাবার কোলে জন্ম নিলেও, আমার আসার পেছনে কি শুধু জৈবিক কারণ? না কি কোনো অদৃশ্য হাত আমাকে নামিয়ে দিয়েছে এই মাটির গ্রহে — কিছু শেখানোর, কিছু ভুল শোধরানোর, কিছু ভালোবাসার দায় দিয়ে? এই পৃথিবী — যেখানে নদী আছে, পাখি আছে, কাঁদে মানুষ, হাসে শিশুরা — এত সুন্দর হয়েও এত ভঙ্গুর কেন? কেন এতো হিংসা, যুদ্ধ, লোভ? কেন এত ক্লান্ত দুঃখ জমে থাকে বাতাসে? আমি লিখতে চাই এই পৃথিবীর যত অপূর্ণতা নিয়ে, আবার লিখতে চাই তার অপার সৌন্দর্য নিয়েও — যে সৌন্দর্য আমাকে প্রতিদিন বাঁচিয়ে রাখে। লিখতে চাই সংসার নিয়ে… সংসার — শব্দটা ছোট হলেও, এর ভেতরেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দুজন মানুষ যখন পাশে দাঁড়ায়, তখন শুধু শরীর নয়, দুটি জীবন জড়ায় — আশা, ভরসা, দুঃখ, ক্লান্তি, কষ্ট, স্বপ্ন নিয়ে। সংসার মানে একটা ঘর, কিছু দেয়াল, কিছু ব্যবহৃত বাসন নয় — সংসার মানে একটা পৃথিবী, যেটা গড়া যায় আবার ভেঙেও যায়। লিখতে চাই সেই ঘরবন্দি হাসিমুখগুলো...

ছিলাম প্রকাশ্যে, এখন আলো-আঁধারে

ছবি
  ছিলাম প্রকাশ্যে, এখ আলো-আঁধারে একদিন ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুমটা যেন ছিল কোনো নরম হাতের আশীর্বাদ, শান্তির চাদরে মোড়ানো এক অচেনা যাত্রা। ঘুমের ঘোরে আমি এমন এক স্বপ্নে প্রবেশ করলাম, যেটা আমার পূর্বজীবনের কোনো গল্প নয়—এ যেন ভবিষ্যতের, বা তারও ওপারে কোনো অলিখিত অধ্যায়। স্বপ্নে আমি আনন্দে ভেসে বেড়াচ্ছিলাম। হালকা আলো, শীতল বাতাস, গায়ে গায়ে নরম তরঙ্গের মতো ভেসে আসা হাসির ছায়া—যেন স্বর্গের সীমানায় হেঁটে বেড়াচ্ছি আমি। না কোনো দুঃখ, না কোনো ক্লান্তি, না কোনো সময়ের গলা টিপে ধরা বাঁধন। কেবল প্রশান্তি আর মুক্তির গান। এই অপার্থিব অনুভবের মাঝে হঠাৎই কানে আসে এক কান্নার শব্দ। খুব পরিচিত। ঘরের ভেতরের কেউ যেন কাঁদছে—চিৎকার করে বলছে, "ওঠো না কেন? শুনছো না? আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছো?" আমি চোখ ফেরালাম। দেখি আমারই ঘরের মেঝেতে আমি শুয়ে আছি—নিস্তব্ধ, নিশ্চল। আমার চারপাশে পরিবার, আত্মীয়, প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে কাঁদছে। আমি সবই দেখছি, শুনছি, কিন্তু আমার শরীরে ফিরতে পারছি না। যেন সেই দেহ হয়ে উঠেছে একটি শূন্য ঘর, যার প্রতিটি দরজা-জানালা বন্ধ। আমি অনেক চেষ্টা করেও ভেতরে ঢুকতে পারছি ...