পোস্টগুলি

আলো, সূর্য ও সমাজের আলোকিত মানুষ

ছবি
  ☀️ আলো, সূর্য ও সমাজের আলোকিত মানুষ আমরা সবাই সূর্যকে জানি—প্রতিদিন পূর্ব আকাশে উদিত হয়, আলো ছড়ায়, তাপ দেয়, আমাদের জীবন টিকিয়ে রাখে। কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি, এই সূর্য কাউকে গরিব বলে অবহেলা করে না , কাউকে ধনী বলে বেশি আলো দেয় না, কিংবা পাপী না সাধু—সে হিসেবেও আলোর মাপকাঠি স্থির করে না। সূর্য কেবল নিজের ধর্ম পালন করে—নিঃস্বার্থভাবে আলোকিত করে সবাইকে । কিন্তু মানুষ যখন আলোকিত হয়— শিক্ষায়, প্রতিভায়, প্রজ্ঞায় —তখন তার আলো আর নিঃস্বার্থ থাকে না। সে আলো বিক্রি হয় … ক্ষমতার কাছে, টাকার কাছে, কিংবা স্বার্থের কাছে। আমরা সমাজে যাদের আলোকিত মানুষ বলে জানি, তারা অনেকেই সেই আলোকে একটি মুদ্রায় পরিণত করে ফেলেছে। কারো কণ্ঠস্বর গাইডলাইন ছাড়া পাওয়া যায় না, কারো চিন্তার আলো কেবল ধনিক শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত, আর কেউ কেউ আলো দেখায় এমনভাবে— যেন সে-ই ঈশ্বর! 🌻 প্রকৃত আলোকিত মানুষ কেমন? অথচ প্রকৃত আলোকিত মানুষ সেই, যিনি অন্ধকারকে তুচ্ছ জেনে, নিঃস্বার্থভাবে আলো বিলিয়ে যান । যিনি মানুষের মধ্যকার বিভেদ না দেখে, কেবল মানুষটিকে দেখেন। যিনি জানেন, আলো দিতে হলে প্রদীপ হতে হয়, এবং তেল জো...

একটি ফুলের পাঠশালা

ছবি
  🌸 একটি ফুলের পাঠশালা একটি ফুল… নীরবে ফুটে ওঠে এক সকালে। কারও আমন্ত্রণে নয়, কারও বাহবায় নয়, শুধু নিজের অস্তিত্বেই সে সুন্দর হয়ে ওঠে। সে চায় না ধন্যবাদ, চায় না স্তুতি। তবুও—সে সুবাস ছড়িয়ে দেয় চারদিকে, নিঃস্বার্থভাবে। সবার জন্য। একটি ফুল বলে না, "এই সুবাস কেবল আমার আপনজনদের জন্য", সে ভাগ করে নেয় নিজের রূপ, নিজের ঘ্রাণ— জল বিক্রি করে না, আলো চায় না, নাম কাড়ে না। তবুও, তার সৃষ্টিকে ছুঁয়ে যায় প্রতিটি হৃদয়। অহংকারহীন সে সৌন্দর্য, সেই তো সত্যিকারের জ্ঞান। যেখানে আমরা মানুষ হয়ে প্রতিদিন কারও চেয়ে বড় হতে চাই, সেখানে একটি ফুল নিরবে আমাদের শেখায়— সুন্দর হও, নিঃস্বার্থ হও, বিনয়ী হও। কারণ পৃথিবী কেবল মুখর কণ্ঠস্বর নয়, পৃথিবী শ্রদ্ধা করে নীরব সৌন্দর্যকে, যা অহংকারহীন ভালোবাসায় প্রস্ফুটিত হয়। ✍️ লেখক: নিতাই বাবু নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে। মূলত সমাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতিচারণা ও ছন্দনিবদ্ধ রচনায় আগ্রহী। ভ...

শেষ চিঠি পৃথিবীর মানুষের কাছে

ছবি
  🌑 শেষ চিঠি পৃথিবীর মানুষের কাছে — নিতাই বাবু একদিন, যখন আমি আর থাকবো না, আমার ঘরের দেওয়ালে, বাতাসে, কিংবা কারও স্মৃতিতে যদি থেকে যাই— তখন একটু থেমে আমার এই লেখা পড়ে নিও। এই পৃথিবীকে আমি ভালোবেসেছিলাম জলপাই পাতার মতো শান্ত এক পৃথিবী কল্পনায়, যেখানে শিশুর কান্না যেন শুধুই খুশির বিস্ময়, যেখানে বৃদ্ধের চোখে অনন্ত শ্রান্তি নয়— থাকে শুধু শান্তির নদী। আমি দেখেছি, রোদ উঠে কিন্তু আলো আসে না, মানুষ হাসে কিন্তু ভিতরে কাঁদে, একজন আরেকজনের খুব পাশে থেকেও কি অদ্ভুতভাবে একা একা হেঁটে চলে! তোমরা যারা এখনো বেঁচে আছো, একটু ভালোবাসা দাও— একটু কান পেতে শোনো তোমার নীরব সন্তানের ভেতরের চিৎকার, একটু হাত রাখো তোমার পাশের বৃদ্ধ বাবার কাঁপা কাঁধে। এই পৃথিবীর সবচেয়ে করুণ দুঃখ— মানুষ বেঁচে থেকেও কারও হয়ে বাঁচে না। আমি চলে যাবো, খুব নিঃশব্দে, তবে আমার কণ্ঠে থেকে যাবে একটুকরো আকুতি— "ভালো থেকো, একটু ভালো থেকো সকলের জন্য।" নিতাই বাবু পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো ...

আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি

ছবি
  🕊️ আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি — নিতাই বাবু আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি— না, সিনেমার পর্দায় নয়, ইতিহাস বইয়ের পাতায় নয়, আমি নিজ চোখে দেখেছি আগুনের নিচে পোড়া মাটি, দেখেছি কাঁপতে থাকা শিশুর চোখে পিতৃহীন বিস্ময়, দেখেছি বধ্যভূমির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া নীরব জনপদ। আমি স্বাধীনতা দেখেছি— রক্তের বিনিময়ে কেনা সেই একটুকরো সকাল, যেখানে সূর্য উঠেছিল এক নতুন পতাকা হাতে। আমি দেখেছি, কীভাবে এক জাতি তার অস্তিত্বের জন্য লড়েছিল আগুন আর বুলেটের বিপরীতে দাঁড়িয়ে। আমি দেখেছি বাংলার মা-বোনদের আর্তনাদ, দেখেছি টান পড়ে যাওয়া শাড়ির ভাঁজে একটা স্বাধীন দেশের জেদ আটকে আছে। সেই কান্নার শব্দ আজও বাতাসে বেজে ওঠে, শুধু আমরা কান পেতে শুনি না। আমি দেখেছি লক্ষ লক্ষ মানুষকে জীবন দিতে, তাদের চোখের শেষ দৃষ্টিতে ভেসে উঠেছিল একটি মুক্ত ভূখণ্ডের স্বপ্ন— যেখানে কেউ আর পরাধীন হবে না, কেউ আর মুখ বুজে কাঁদবে না। এই আমি, এক ক্ষুদ্র মানুষ, একটি বড় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। আমি বয়ে বেড়াই সেই অস্থিচূর্ণ করা অতীত, আর বুকের ভিতর আজও জ্বলে— এক অসমাপ্ত বিজয়ের আগুন। ✒️ নিতাই বাবু পুরস্কারপ্...

বিশ্বাস, প্রশ্ন ও অনুভব—গদ্য কবিতা সসিরিজ (পূর্ব-১-১২)

ছবি
  📚 পর্যালোচনা: গদ্য কবিতা সিরিজ – বিশ্বাস, প্রশ্ন ও অনুভব 🌿 ধর্ম নিয়ে যখন বিশ্ব উত্তাল, তখন বাংলা সাহিত্যে এমন একটি গদ্য কবিতা সিরিজ সত্যিই সাহসী এবং আত্মিক এক প্রয়াস। “ঈশ্বর কি বিভক্ত হন?” দিয়ে শুরু এই সিরিজ আমাদের ঈশ্বর, ধর্ম, ভাষা ও ভালোবাসার চিরন্তন দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছে। পরবর্তীতে “তোমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর” , “আমি ঈশ্বরকে কাছে ডাকলাম” অথবা “যেদিন ঈশ্বর কাঁদলেন” — প্রতিটি পর্বে মানবতার সুরই মূল সুর হয়ে ওঠে। 🪔 এই সিরিজ শুধু কবিতা নয়, এক এক পর্ব যেন একেকটি আত্মজিজ্ঞাসা। যেখানে ঈশ্বরকে দেখা হয় নিখাদ মানুষের চোখে— কোনো নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থের ফ্রেমে নয়, বরং অনুভবে, চোখের জলে, শিশুর হাসিতে, প্রেমিকের স্নেহে। 🔍 সিরিজের মূল দর্শন: ❖ ঈশ্বর কোনো একক ধর্মের নয়—তিনি সকলের। ❖ ভালোবাসাই প্রকৃত ধর্ম, ঘৃণা নয়। ❖ প্রার্থনা মুখের শব্দ নয়, হৃদয়ের ভাষা। ❖ ঈশ্বরকে পাওয়া যায় নিঃশব্দ আহ্বানে, প্রতিদিনের মানুষের ভিতর। 📘 পর্বসমূহ: 👉 পর্ব-১: ঈশ্বর কি বিভক্ত হন? 👉 পর্ব-২: তোমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর 👉 পর্ব-৩: হৃদয়ে ধর্...

আমি ঈশ্বরকে কাছে ডাকলাম—গদ্য কবিতা (পর্ব-১১)

ছবি
  📜 গদ্য কবিতা: আমি ঈশ্বরকে কাছে ডাকলাম আমি দাঁড়িয়েছিলাম এক নীরব বিকেলে, যখন পাখিরাও আর গান গায় না, আর শহরের কোলাহলও ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি ঈশ্বরকে কাছে ডাকলাম। কোনো আয়াত, কোনো মন্ত্র, কোনো ঘন্টাধ্বনি ছাড়াই— শুধু মনের নিঃশব্দ ভাষায় বললাম, “তুমি কি একটুখানি বসবে আমার পাশে?” চারদিকে ছায়া নেমে এলো, আর বাতাস নরম হয়ে এল গাল ছুঁয়ে। আমি বুঝলাম— তিনি এসেছেন। তিনি কিছু বলেননি, কিন্তু আমি শুনতে পেলাম হৃদয়ের গভীরে এক অনন্ত সাহসের শব্দ: “তোমার কান্নাও আমার প্রার্থনা, তোমার ভালোবাসাও আমার পূজা।” আমি ঈশ্বরকে বললাম— “তুমি কি সব ধর্মের দেয়াল পেরিয়ে আসতে পারো?” তিনি মুচকি হেসে বললেন— “তোমরা যদি ভালোবাসতে জানো, তবে আমিও পারি।” সেই দিন আমি ঈশ্বরকে কাছ থেকে দেখিনি, কিন্তু আমি বুঝেছি— ঈশ্বর দূরের নয়, খুব নিজের । কেবল ডাকলেই তিনি নেমে আসেন— নাম ছাড়াই, ধর্ম ছাড়াই, নিঃশব্দে। – পর্ব-১১, গদ্য কবিতা সিরিজ নিতাই বাবু পুরস্কারপ্র...

আমার ঈশ্বর নিঃশব্দ—গদ্য কবিতা (পর্ব-১০)

ছবি
  🕯️ গদ্য কবিতা – পর্ব–১০ আমার ঈশ্বর নিঃশব্দ আমি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি, কেউ পাশে দাঁড়ায় না, তখন আমার ঈশ্বর নিঃশব্দে এসে বসে পড়েন আমার পাশে— কিছু বলেন না, শুধু থাকেন। তুমি যখন ‘পবিত্রতা’র খোলসে ঢেকে ফেলো জীবন, আমার ঈশ্বর তখন পলিথিনে মোড়ানো এক শিশুর চোখে জেগে থাকেন। তুমি তাঁকে ডাকো উচ্চ শব্দে— নাম ধরে, আয়াত ধরে, মন্ত্র ধরে। আমি চুপ করে থাকি, কারণ আমার ঈশ্বর শব্দ চেনেন না— তিনি শুধু হৃদয়ের নীরব কাঁপন বোঝেন। তিনি কথা বলেন না। তবু আমি শুনি— আমার ভুলে, আমার কাঁদা মুখে, আমার না-বলা প্রার্থনায় এক অদৃশ্য স্পর্শ হয়ে থাকেন তিনি। তুমি ধর্মের ব্যাখ্যা দাও— তিনি কাদের ঈশ্বর, কোন রাস্তায় যাওয়া যায় তাঁর কাছে। অথচ আমার ঈশ্বর তো পথ চিনিয়ে দেন না, শুধু আমাকে আমার দুঃখ থেকে ডেকে তোলেন। তিনি যখন কাঁদেন, আমি বুঝতে পারি না। কিন্তু যখন আমি কাঁদি, তখন তিনি নিশ্চুপ হয়ে থাকেন— যেন আমিই তাঁর কান্নার প্রতিধ্বনি। আমার ঈশ্বর নিঃশব্দ , কারণ তিনি জানেন— শব্দ যত বাড়ে, তত মিথ্যা ঢেকে দেয় হৃদয়ের সত্য। তিনি বলেন...