আমার ঈশ্বর নিঃশব্দ—গদ্য কবিতা (পর্ব-১০)
🕯️ গদ্য কবিতা – পর্ব–১০
আমার ঈশ্বর নিঃশব্দ
আমি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি, কেউ পাশে দাঁড়ায় না, তখন আমার ঈশ্বর নিঃশব্দে এসে বসে পড়েন আমার পাশে— কিছু বলেন না, শুধু থাকেন।
তুমি যখন ‘পবিত্রতা’র খোলসে ঢেকে ফেলো জীবন, আমার ঈশ্বর তখন পলিথিনে মোড়ানো এক শিশুর চোখে জেগে থাকেন। তুমি তাঁকে ডাকো উচ্চ শব্দে— নাম ধরে, আয়াত ধরে, মন্ত্র ধরে। আমি চুপ করে থাকি, কারণ আমার ঈশ্বর শব্দ চেনেন না— তিনি শুধু হৃদয়ের নীরব কাঁপন বোঝেন।
তিনি কথা বলেন না। তবু আমি শুনি— আমার ভুলে, আমার কাঁদা মুখে, আমার না-বলা প্রার্থনায় এক অদৃশ্য স্পর্শ হয়ে থাকেন তিনি।
তুমি ধর্মের ব্যাখ্যা দাও— তিনি কাদের ঈশ্বর, কোন রাস্তায় যাওয়া যায় তাঁর কাছে। অথচ আমার ঈশ্বর তো পথ চিনিয়ে দেন না, শুধু আমাকে আমার দুঃখ থেকে ডেকে তোলেন।
তিনি যখন কাঁদেন, আমি বুঝতে পারি না। কিন্তু যখন আমি কাঁদি, তখন তিনি নিশ্চুপ হয়ে থাকেন— যেন আমিই তাঁর কান্নার প্রতিধ্বনি।
আমার ঈশ্বর নিঃশব্দ, কারণ তিনি জানেন— শব্দ যত বাড়ে, তত মিথ্যা ঢেকে দেয় হৃদয়ের সত্য।
তিনি বলেন না “আমি আছি”। কিন্তু যখন আমি একা হয়ে যাই, তখন বুঝি— কেবল তিনি ছাড়া কেউ নেই আমার সাথে।
— একজন নিঃশব্দ প্রার্থনাকারী
|
নিতাই বাবু
পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে। 🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা |

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
nitaibabunitaibabu@gmail.com