ঈশ্বর কি ক্ষমা করেন? গদ্য কবিতা (পর্ব-৭)

 

🙏 গদ্য কবিতা – পর্ব-৭
ঈশ্বর কি ক্ষমা করেন?

আমরা ভুল করি, প্রতিদিন।

মাঝে মাঝে জানি, তবুও করি। আবার অনেক সময় অজান্তেই হেঁটে ফেলি অপরাধের পথে।

তখন প্রশ্ন জাগে— ঈশ্বর কি ক্ষমা করেন?

তুমি বলো— “তওবা করো, ক্ষমা মিলবে।” সে তো নিয়ম। কিন্তু তুমি কি জানো, একজন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়া পাপীর বুকেও ঈশ্বর এসে হাত রাখেন?

আমার ঈশ্বর শাস্তির আগে বোঝান, ধ্বংসের আগে ডাকেন ফিরে, আর যখন কেউ ভেঙে পড়ে নিজের ভেতরেই, তখন ঈশ্বর এসে বসেন তার পাশে।

তুমি বলো, ঈশ্বর ন্যায়পরায়ণ। আমি বলি, তিনি ক্ষমাশীল

আমার ঈশ্বর শাস্তি দিতে ভয় পান না, তবে তিনি অপেক্ষা করেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত— যদি আমি নিজেই বুঝি, আর নিজেকেই ত্যাগ করি।

তুমি মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায় মাথা ঠেকাও। আমি একা ঘরে ঈশ্বরকে বলি— “আমি ভুল করেছি, নিজেকে আর সেই ভুলের কাছে ফেরত পাঠাব না।”

এবং আমি জানি, তিনি শুনেন। কারণ ঈশ্বর রক্ত চান না— তিনি চান অনুশোচনা।

আর যেখানে অনুশোচনা আছে, সেখানেই তাঁর ক্ষমা জেগে ওঠে — ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে, প্রেমে।

তাঁর কাছে ফিরে যাওয়ার নামই তো প্রকৃত ধর্ম।

নিতাই বাবু

নিতাই বাবু

পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে।
মূলত সমাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতিচারণা ও ছন্দনিবদ্ধ রচনায় আগ্রহী।
ভাষার শুদ্ধচর্চা ও সাহিত্যসমৃদ্ধ বাংলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা

পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

Facebook Facebook Twitter Twitter WhatsApp WhatsApp Email Email

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হিন্দুধর্মের আঠারোটি মহাপুরাণ — নাম, বর্ণনা ও গুরুত্ব

হিন্দু ধর্মে শ্রাদ্ধ কবে ও কিভাবে পালন করা হয় — সময়, রীতি ও আধুনিক প্রাসঙ্গিকতা

একাদশী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত দুর্গার মহাযুদ্ধ ও মহিষাসুর বধ