ভোরের অপেক্ষা

 

🌅 গল্প: ভোরের অপেক্ষা

রাত পেরিয়ে নতুন একটি দিনের ভোর আসছে। গ্রামের শেষ প্রান্তের মাটির ঘরে বসে অশীতিপর বৃদ্ধ নিমাই দাদা তাকিয়ে আছেন পুরোনো কাঠের জানালা দিয়ে। বাইরের আকাশে এখনও ঘুটঘুটে অন্ধকার, কিন্তু তাঁর চোখে আলো। নয়, বাইরের নয়—ভেতরের আলো।

তিনি জানেন, আজ হয়তো তাঁর জীবনের শেষ ভোর। বুকের ব্যথাটা এখন সহ্য হয় না। হাঁটতে পারেন না ঠিকমতো, কথা বলতে গেলেই কাশি চেপে ধরে। তবুও তিনি জানালা খুলে বসে আছেন, ভোর দেখবেন বলে।

এই ভোর তাঁর কাছে শুধু সূর্য ওঠার সময় নয়, এটা যেন তাঁর জীবনের শেষ আলো। তিনি অপেক্ষা করছেন ছোট ছেলে সুমনের জন্য। শহর থেকে ফোন করেছিল গতকাল—‘বাবা, কাল আসব’। সেই অপেক্ষার ভোর আজ। নিমাই দাদার হাত কাঁপছে, কপালে ঘাম, কিন্তু চোখে অপেক্ষার আলো।

হঠাৎ গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে একটা বাইকের শব্দ। জানালা দিয়ে ঝুঁকে তাকান তিনি। অন্ধকার ভেদ করে আলোয় ভেসে ওঠে সুমনের মুখ। নিমাই দাদা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাসলেন—যেন জীবনের সব দুঃখ লাঘব হয়ে গেল এই এক পলকে।

ভোর এসেছিল, তবে সূর্য ওঠার আগেই নিমাই দাদা চোখ বুজলেন। আর সেই মুহূর্তে ঘরের বাইরে ছড়িয়ে পড়ল প্রথম রশ্মির আলো। ছেলে পাশে বসে কান্না করছে, কিন্তু দাদার মুখে প্রশান্তির হাসি—কারণ তিনি তাঁর শেষ ভোরে ছেলেকে পেয়েছেন।

🌐 আরও পড়ুন:


নিতাই বাবু

নিতাই বাবু

পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে।
মূলত সমাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতিচারণা ও ছন্দনিবদ্ধ রচনায় আগ্রহী।
ভাষার শুদ্ধচর্চা ও সাহিত্যসমৃদ্ধ বাংলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা

পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

Facebook Facebook Twitter Twitter WhatsApp WhatsApp Email Email

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার শৈশবের বন্ধু— শীতলক্ষ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঈশ্বর ভাবনা

মা নাই যার, সংসার অরণ্য তার