পোস্টগুলি

এ এক আজব দেশে বাস করছি: অন্যায়, চাঁদাবাজি ও নজরদারির ছায়া

ছবি
এ এক আজব দেশে বাস করছি: অন্যায়, চাঁদাবাজি ও নজরদারির ছায়া বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতা বিরাজ করছে— "জায়গায় জায়গায় চাঁদাবাজি, গুম, খুন, আহাজারি, সত্য বললেই নজরদারি।" এর সাথে যোগ হয়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস। চাঁদাবাজির জাল শিল্পাঞ্চল, বাজার, পরিবহন ও নির্মাণ—সবখানেই চাঁদাবাজির প্রভাব। ব্যবসায়ীরা দিনের পর দিন অবৈধ অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন, অথচ ন্যায়বিচার নেই। এর ফলে: অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। বিনিয়োগকারীর আস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে। চাঁদাবাজির মাধ্যমে রাজনীতিকরা অর্থ সংগ্রহ করছেন, যেখানে সাধারণ মানুষ শোষণের শিকার। গুম, খুন ও আতঙ্কের রাজনীতি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গুম ও খুন এখন রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের বিরোধী বা পুরোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যরা: মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক ক্ষমতা Consolidation এর জন্য নাগরিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়...

বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি

ছবি
বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রচলন রয়েছে, যেমন হিন্দু ধর্ম , ইসলাম ধর্ম , বৌদ্ধ ধর্ম , খ্রিস্ট ধর্ম , ইহুদি ধর্ম , নাদারা এবং আরও অনেক ছোট-বড় ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান। এসব ধর্ম ও বিশ্বাসের বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও তাদের মূল উদ্দেশ্য মানব জীবনের উন্নতি, শান্তি এবং সমৃদ্ধি অর্জন। প্রত্যেকটি ধর্মই শিক্ষা দেয় ভালোবাসা , সহিষ্ণুতা , দয়া , ন্যায়পরায়ণতা এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মূল্যবোধ । আচার-অনুষ্ঠানের পার্থক্য থাকলেও, মানবিক মূল্যবোধে সকল ধর্ম একসূত্রে গাঁথা। "ধর্ম কোনো বিভাজন নয়, বরং মানুষের মধ্যে একতা ও সংহতির সেতুবন্ধন।" আমাদের উচিত পারস্পরিক ভিন্নতাকে গ্রহণ করে, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলা। কারণ আমরা সবাই একই সূর্যের আলোয় আলোকিত, যার অন্তরে রয়েছে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এক অপার শক্তি। সুতরাং, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, ইহুদি, নাদারা কিংবা অন্য যে কোনো ধর্মের অনুসারী হোন, আমরা সবাই এক মানবজাতি; যার একমাত্র ল...

ব্যঞ্জনবর্ণের কথপোকথন

ছবি
  ব্যঞ্জনবর্ণের কথপোকথন ✨ ব্যঞ্জনবর্ণের কথপোকথন ✨ ক: বলে কী যে করি, সহ্য হয় না স্বরবর্ণের বাড়াবাড়ি, আমি থাকি শ্রীকৃষ্ণের বাড়ি, মা কালীরও সাধন করি। খ: বলে খ্যান্ত কর তোর জারিজুরি, প্রশংসার ফুলঝুরি, আমি থাকি খোদার বাড়ি, আমার সাথে এত বাহাদুরি? গ: বলে শোন রে গাধা, গাড়ি ছাড়া তোদের গন্তব্যে বাধা, আমি থাকি গাড়িতে সদা, সেই গাড়িতে চড়ে কৃষ্ণের রাধা। ঘ: বলে গ তুই বড় গাধা, গাড়িতে দেখিস না ঘোড়া বাঁধা, আমার ঘোড়ার রং সাদা, সেই গাড়িতেই রাধা চলে সদা। ঙ: বলে কই যাই আমি, বলে দাও আমার অন্তরজামি, কৃষকের লাঙলে আমি, সেই লাঙল টেনে মরিও আমি। চ: বলে চেয়ে চেয়ে দেখি আমি, সবুজের এই লীলাভূমি, ফসলভরা যত জমি, চাষাবাদে হয় জানি আমি তুমি। ছ: বলে আর রক্ষা নাই, দেশ ছেড়ে কোন দেশে যাই, ঘরবাড়ি পুড়েও হয় ছাই, এই কথা কি কারো মনে নাই? জ: বলে এর আর কথা নাই, জীবনটা যেন হলো ছাই, জান ছাড়া যে কারোর রক্ষা নাই, সেই কথা স্মরণ নাই! ঝ: বলে আমি হলাম ঝড়-তুফান, প্রলয় করি এই জাহান, ঝাড়ুর বাড়ি দিব রে শয়তান, আমার ভয়ে কাঁপে দালান। ঞ: বলে শুনেছ ঝ’র বয়ান! ঝ নাকি বড় ক্ষমতাবান? মিঞা ভুইঞা যত পালোয়ান, সবার...

বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি

ছবি
  বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রচলন রয়েছে, যেমন হিন্দু ধর্ম , ইসলাম ধর্ম , বৌদ্ধ ধর্ম , খ্রিস্ট ধর্ম , ইহুদি ধর্ম , নাদারা এবং আরও অনেক ছোট-বড় ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান। এসব ধর্ম ও বিশ্বাসের বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও তাদের মূল উদ্দেশ্য মানব জীবনের উন্নতি, শান্তি এবং সমৃদ্ধি অর্জন। প্রত্যেকটি ধর্মই শিক্ষা দেয় ভালোবাসা , সহিষ্ণুতা , দয়া , ন্যায়পরায়ণতা এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মূল্যবোধ । আচার-অনুষ্ঠানের পার্থক্য থাকলেও, মানবিক মূল্যবোধে সকল ধর্ম একসূত্রে গাঁথা। "ধর্ম কোনো বিভাজন নয়, বরং মানুষের মধ্যে একতা ও সংহতির সেতুবন্ধন।" আমাদের উচিত পারস্পরিক ভিন্নতাকে গ্রহণ করে, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলা। কারণ আমরা সবাই একই সূর্যের আলোয় আলোকিত, যার অন্তরে রয়েছে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এক অপার শক্তি। সুতরাং, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, ইহুদি, নাদারা কিংবা অন্য যে কোনো ধর্মের অনুসারী হোন, আমরা সবাই এক মানবজাতি; যার একমাত্র...

আস্থা হারানো নেত্রী — শেখ হাসিনা ও তাঁর পিতার সৃষ্ট ফলার প্রতি মানুষের বিচ্ছিন্নতা

ছবি
  আস্থা হারানো নেত্রী — শেখ হাসিনা ও তাঁর পিতার সৃষ্ট ফলার প্রতি মানুষের বিচ্ছিন্নতা আস্থা হারানো নেত্রী — শেখ হাসিনা ও তাঁর পিতার সৃষ্ট ফলার প্রতি মানুষের বিচ্ছিন্নতা শেখ হাসিনা, তুমি দেশের মানুষের কাছে আর সেই আস্থা রাখো না যা এককালীন তোমার পিতার হাতে গড়ে উঠেছিল। সেই ফলার, যাকে তুমি ধ্বংসাত্মক নীতিমালা ও স্বার্থপরতার মিশেলে এমনভাবে সাজিয়ে রেখেছো, যা আজকের জনগণ স্পষ্ট দেখতে পারছে। তোমার বাবার নামের আশ্রয়ে গড়ে ওঠা সেই পাথেয়, যা একসময় গণতান্ত্রিক স্বপ্ন ও উন্নতির প্রতীক ছিল, আজ সে পথ হারিয়েছে তার আলো। মানুষ বুঝতে পেরেছে, সেখানে আর নেই স্বচ্ছতা, নেই ন্যায় ও সাম্যের বাণী। তুমি সেই পথকে এমনভাবে বিকৃত করেছো যে, সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের জোয়ার থমকে গেছে। তোমার শাসনের অধীনে তৈরি সেই কাঠামো—যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্রিক, যেখানে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির গন্ধ সর্বত্র ঘুরছে—সেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বপ্ন কিছুমাত্র মূল্য রাখে না। তারা আর তোমার বা তোমার বাবার সৃষ্ট ফসলের প্রতি বিশ্বাস রাখতে চায় না, কারণ তারা দেখেছে সেই ফলগুলো বিষাক্ত, যা তাদের জীবনকে বিষিয়ে...

মধ্য আয়ের দেশ – আমাদের অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথচলা

ছবি
  🌾 মধ্য আয়ের দেশ – আমাদের অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথচলা 🌾 বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যাত্রা একসময় ছিল শূন্য থেকে শুরু করা একটি লড়াই। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো, দারিদ্র্যের শেকড়বদ্ধ পরিস্থিতি—সবকিছু যেন একটি ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু গত পাঁচ দশকে আমরা প্রমাণ করেছি, দৃঢ় মনোবল, সঠিক পরিকল্পনা ও মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম যে কোনো অসম্ভবকেও সম্ভব করে তুলতে পারে। আজ আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি, বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশের কাতারে । এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক উন্নয়ন কৌশল। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পোশাক শিল্পে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় জয়লাভ, প্রবাসী আয় এবং নারীশক্তির কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিকে দিয়েছে শক্ত ভিত। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার প্রসার ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নতি, বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিয়েছে। 📈 অর্থনৈতিক অর্জন প্রতি ব্যক্তি আয় (GNI per capita) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র্যের হার বিগত দুই দশকে নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ও রপ্ত...

আগে ছিলাম ভালো ছিলাম — চাঁদা, ভয় ও হারানো মানুষ

ছবি
  আগে ছিলাম ভালো ছিলাম — চাঁদা, ভয় ও হারানো মানুষ আগে ছিলাম ভালো ছিলাম — চাঁদা, ভয় ও হারানো মানুষ একসময় আমরা ভালো ছিলাম। না, সেই ভালো থাকা মানে ছিল না ধন-সম্পদে ভরপুর জীবন। ছিল মন খুলে হাসি, সন্ধ্যায় উঠোনে বসে গল্প করা, এক কাপ চায়ের আড্ডা, আর অজস্র চেনা মুখের নির্ভেজাল সম্পর্ক। কেউ কারো দরজায় গেলে “ভয়” শব্দটা ছিল না অভিধানে। আজকাল সে শব্দ বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকে—নিঃশব্দ আতঙ্কের মতো। কারো দরজায় কড়া নাড়লেই মনে হয়—কেউ এসে চাঁদা চাইবে, কেউ হুমকি দেবে, কিংবা কারো ক্ষতি করবে। এ যেন অচেনা শহরে পরিচিত মুখগুলোকেও হারিয়ে ফেলা। চাঁদার গল্প আগে চাঁদা মানে ছিল পুজোর তহবিল, বা খেলাধুলার ক্লাবের জন্য স্বেচ্ছা অনুদান। এখন চাঁদা মানে ভয়। আপনি না দিলে—আপনার ব্যবসা, আপনার সংসার, এমনকি আপনার জীবনও নিরাপদ নয়—এ কথাটা সবাই বুঝে গেছে। চাঁদা হয়ে গেছে “শর্তহীন কর”। যেখানে গণতন্ত্র থেমে গেছে, আর সমাজের বিবেক বিক্রি হয়ে গেছে ক্ষমতার কাছে। ভয়ের শহর ভয় এখন বাজারের সবজির মতো—প্রতিদিনের কেনাকাটায় লেগেই আছে। রাতের অন্ধকারে কারো হঠাৎ ফোন, ...