এ এক আজব দেশে বাস করছি: অন্যায়, চাঁদাবাজি ও নজরদারির ছায়া

এ এক আজব দেশে বাস করছি: অন্যায়, চাঁদাবাজি ও নজরদারির ছায়া

বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতা বিরাজ করছে—"জায়গায় জায়গায় চাঁদাবাজি, গুম, খুন, আহাজারি, সত্য বললেই নজরদারি।" এর সাথে যোগ হয়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস।

চাঁদাবাজির জাল

শিল্পাঞ্চল, বাজার, পরিবহন ও নির্মাণ—সবখানেই চাঁদাবাজির প্রভাব। ব্যবসায়ীরা দিনের পর দিন অবৈধ অর্থ আদায়ের শিকার হচ্ছেন, অথচ ন্যায়বিচার নেই। এর ফলে:

  • অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
  • স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে।
  • বিনিয়োগকারীর আস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে।

চাঁদাবাজির মাধ্যমে রাজনীতিকরা অর্থ সংগ্রহ করছেন, যেখানে সাধারণ মানুষ শোষণের শিকার।

গুম, খুন ও আতঙ্কের রাজনীতি

মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গুম ও খুন এখন রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের বিরোধী বা পুরোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যরা:

  • মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
  • রাজনৈতিক ক্ষমতা Consolidation এর জন্য নাগরিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।
  • শহর ও গ্রামে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছে।

সংখ্যালঘু নির্যাতন: এক অব্যাহত ব্যথা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি পোড়ানো ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা বারবার ঘটছে। প্রশাসনিক তৎপরতার অভাব ও বিচারহীনতা এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। কিছু সাম্প্রতিক উদাহরণ:

  • জনসমক্ষে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা।
  • মসজিদ, মন্দিরে আগুন দেওয়া ও প্রার্থীদের উপর হামলা।
  • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা ভাঙচুর করে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান

স্বাধীনতার নায়কদের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার বদলে, কখনো কখনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ:

  • গলায় জুতার মালা পরিয়ে অসম্মান।
  • পদোন্নতি বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা।
  • সামাজিকভাবে ন্যাক্কারজনকভাবে জনগণের সামনে অপমান।

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস

যে শিক্ষাঙ্গন মানুষের মেধা, মনন ও নৈতিকতা গঠনের কেন্দ্র হওয়ার কথা, সেখানে আজ শিক্ষকরা নিজেরাই হামলার শিকার। ঘটনা যেমন:

  • জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা।
  • শারীরিক নির্যাতন ও ভয় দেখানো।
  • শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অধিকার হুমকির মুখে পড়া।

সত্য বলার শাস্তি ও নজরদারি

গণমাধ্যম কর্মী, সামাজিক কর্মী কিংবা সাধারণ নাগরিক—যে কেউ সত্য বললেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশ করলেই:

  • নজরদারি ও ভয় দেখানো।
  • আইনগত হয়রানি বা রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হওয়া।
  • সত্য প্রকাশের জন্য জীবনের ঝুঁকি নেওয়া।

উপসংহার

এ এক আজব দেশে বাস করছি—যেখানে অন্যায় শক্তিশালী, ন্যায়বিচার দুর্বল, সত্য বলা সাহসিকতা, আর নীরব থাকা নিরাপত্তার প্রতীক। সংখ্যালঘু নির্যাতন, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা—সব মিলিয়ে এই বাস্তবতা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন:

  • শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলন।
  • জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা।
  • সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ।
  • সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা।

এখনই সময়—সত্য বলার, নীরবতা ভঙ্গ করার এবং দেশের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের।

নিতাই বাবু এর ছবি
নিতাই বাবু

পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে।

মূলত সমাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতিচারণা ও ছন্দনিবদ্ধ রচনায় আগ্রহী। ভাষার শুদ্ধচর্চা ও সাহিত্যসমৃদ্ধ বাংলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

🌐 ব্লগ: নিতাই বাবু ব্লগ | জীবনের ঘটনা | চ্যাটজিপিটি ভাবনা

পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

আজকের ভিউ: 0 | মোট ভিউ: 0
এই পোস্টটি পড়েছেন: 0 জন

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার শৈশবের বন্ধু— শীতলক্ষ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঈশ্বর ভাবনা

মা নাই যার, সংসার অরণ্য তার