ব্যঞ্জনবর্ণের কথপোকথন

 

ব্যঞ্জনবর্ণের কথপোকথন

✨ ব্যঞ্জনবর্ণের কথপোকথন ✨

ক: বলে কী যে করি, সহ্য হয় না স্বরবর্ণের বাড়াবাড়ি,
আমি থাকি শ্রীকৃষ্ণের বাড়ি, মা কালীরও সাধন করি।
খ: বলে খ্যান্ত কর তোর জারিজুরি, প্রশংসার ফুলঝুরি,
আমি থাকি খোদার বাড়ি, আমার সাথে এত বাহাদুরি?
গ: বলে শোন রে গাধা, গাড়ি ছাড়া তোদের গন্তব্যে বাধা,
আমি থাকি গাড়িতে সদা, সেই গাড়িতে চড়ে কৃষ্ণের রাধা।
ঘ: বলে গ তুই বড় গাধা, গাড়িতে দেখিস না ঘোড়া বাঁধা,
আমার ঘোড়ার রং সাদা, সেই গাড়িতেই রাধা চলে সদা।
ঙ: বলে কই যাই আমি, বলে দাও আমার অন্তরজামি,
কৃষকের লাঙলে আমি, সেই লাঙল টেনে মরিও আমি।
চ: বলে চেয়ে চেয়ে দেখি আমি, সবুজের এই লীলাভূমি,
ফসলভরা যত জমি, চাষাবাদে হয় জানি আমি তুমি।
ছ: বলে আর রক্ষা নাই, দেশ ছেড়ে কোন দেশে যাই,
ঘরবাড়ি পুড়েও হয় ছাই, এই কথা কি কারো মনে নাই?
জ: বলে এর আর কথা নাই, জীবনটা যেন হলো ছাই,
জান ছাড়া যে কারোর রক্ষা নাই, সেই কথা স্মরণ নাই!
ঝ: বলে আমি হলাম ঝড়-তুফান, প্রলয় করি এই জাহান,
ঝাড়ুর বাড়ি দিব রে শয়তান, আমার ভয়ে কাঁপে দালান।
ঞ: বলে শুনেছ ঝ’র বয়ান! ঝ নাকি বড় ক্ষমতাবান?
মিঞা ভুইঞা যত পালোয়ান, সবার উপরে স্রষ্টা মহান!
ট: বলে শুনছো টেংরা, ওরা ঝ-ঞ কেমন করছে জেরা,
আমি ট কি বাস্তহারা, এই বটবৃক্ষ নামটি দিয়েছে কারা?
ঠ: বলে পড়লে ঠেলা, বাড়ি ছাড়া হবি তোরা দিশেহারা,
আমাকে ঠকায় যারা, ঠকতে ঠকতেই হবে জীবন সারা!
ড: বলে ডাকপিয়ন দিয়েছে ডাক, দিও না আর হাঁকডাক,
তোরাও পারলে ডাকতে থাক, অহংকার নিপাত যাক!
ণ: বলে গণতন্ত্রের হাঁকডাক, যখন নেতারা দেয় রে ডাক,
ঠাণ্ডা কাশি গোল্লায় যাক, সবাই বলে গণতন্ত্র মুক্তি পাক।
ত: বলে দেখা যাবে সবশেষে, তালগাছে উঠবে শেষে,
যতই তাল-বালি করুক না সে, ততই ফাঁসবে অবশেষে।
থ: বলে নেতারা থাকে আশেপাশে, যখন নির্বাচন আসে,
থেকে থেকে মুচকি হাসে, নির্বাচন শেষে থাকে না পাশে।
দ: বলে দাঁতের বিষে যাচ্ছি মারা, কী করি বল তোরা,
দাঁতের মর্ম বুঝে কারা? দাঁত নাই যাদের, বুঝে তারা!
ধ: বলে চলে না ধন ছাড়া, পেটের ক্ষুধায় দিশেহারা,
ধন-দৌলত চায় না কারা? এর শোকেই কেউ যায় মারা!
ন: বলে বর্ষাকালে নাইওর আসে, নতুন জামাই শুধু হাসে,
শালা-শালিরা পাশে বসে, সময় কাটায় তারা রঙরসে।
প: বলে পাখিরা সব উড়ে এসে, গান গায় ডালে বসে,
বাবুই পাখি দেখে হাসে, ভিজে কাতর হয় আষাঢ় মাসে।
ফ: বলে ফালাফালি যতই করিস, স্রষ্টাকে স্মরণে রাখিস,
ফাঁদে পড়ে কেন কাঁদিস, সময় থাকতে একবার ভাবিস।
ব: বলে ভাই বন্ধু ভেবে দেখিস, বন্ধুর কথা মনে রাখিস,
বন্ধুর রীতি ঠিক রাখিস, বন্ধুর দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখিস।
ভ: বলে বন্ধুরা কোথায় গেলি, সবাই মিলে হাসি খেলি,
ভালোবাসার কথা বলি, বুক মিলিয়ে করি কোলাকুলি।
ম: বলে খুলে বল খোলাখুলি, মনের কথা খুলে বলি,
মায়ের মুখে শুনেছি বুলি, অসৎ পথে যেন না চলি।
য: বলে আমার জীবন যায়, আমাকে দিয়ে ফলা বানায়,
ফলার খোঁচা কে না খায়, আমার কেন বদনাম গায়?
র: বলে বাঁচাও আমায়, আমাকে যে রাক্ষসে দৌড়ায়,
আমি আছি রাক্ষসের জ্বালায়, কে করবে রক্ষা আমায়?
ল: বলে নে বাবা ঠেলা সামলা, এ দেখি বড় ঝামেলা,
লাঠিসোঁটা নিয়ে করো হামলা, না হয় করো মামলা।
শ: বলে শালা-শালি দৌড়ে পালা, এখানে বড় ঝামেলা,
পুলিশ আসলে বাড়বে জ্বালা, শুরু করবে ছলাকলা।
ষ: বলে তেল আছে কাছে, সরিষার তেলে ঝাঁঝ আছে,
প্রিয় তেল রাধুনির কাছে, সর্ষে ইলিশও মজা আছে।
স: বলে যা আছে আমার আছে, আর নাই কারো কাছে,
সাজ আছে সাজাও আছে, তোদের কাছে কী আছে?
হ: হেসে বলে বড় মজা, আমি হলাম হাসির রাজা,
হা হা হা, কি মজা কি মজা, তোরা সবাই পাবি সাজা।
ক্ষ: বলে বিচার করে মহারাজা, সাক্ষী ছাড়া হয় না সাজা,
সৎপথে থাকে সবাই তাজা, সৎ উপার্জনে খুবই মজা।
ড়: বলে লড়াই লড়াই লড়াই চাই, এভাবেই বাঁচতে চাই,
লড়াই ছাড়া উপায় নাই, লড়াই করেই জিততে চাই।
ঢ়: বলে যেই আষাঢ়ে বৃষ্টি নাই, সেই বছরে শান্তি নাই,
কৃষকের জমিতে ফসল নাই, গরিবের ঘরে ভাত নাই।
য়: বলে কই গেলি রে ৎ ভাই, এই আলামত দেখি নাই,
আয় নাই তো ব্যয় নাই, শান্তি-অশান্তি তো বুঝি নাই।
ৎ: বলে খণ্ড খণ্ড আমি ভাই, হঠাৎ দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই,
আবার যদি খণ্ড হয়ে যাই, সেই চিন্তায় আমার ঘুম নাই।
ং: বলে আমি রঙের রাজা, কে দিবে আমায় সাজা,
রঙ্গরসে জীবন তাজা, ঢং কুয়ারায় পায় যে সাজা।
ঃ: বলে দুঃখের মাঝেও সাজা, সুখের মাঝেও সাজা,
কে দিচ্ছে যে এই সাজা, কোন দেশের কোন রাজা।
ঁ: বলে পড়েছি ফাঁদে, এবার আমি চলে যাবো চাঁদে,
তোরাও পড়বি ফাঁদে, চন্দ্রবিন্দুর কথায় সকলে কাঁদে।
নিতাই বাবু এর ছবি
নিতাই বাবু

পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭। লেখালেখির শুরু শৈশবে, এখনো চলছে।

মূলত সমাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতিচারণা ও ছন্দনিবদ্ধ রচনায় আগ্রহী। ভাষার শুদ্ধচর্চা ও সাহিত্যসমৃদ্ধ বাংলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার শৈশবের বন্ধু— শীতলক্ষ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঈশ্বর ভাবনা

মা নাই যার, সংসার অরণ্য তার