পোস্টগুলি

বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি

ছবি
  বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি বিশ্বের ধর্ম ও বিশ্বাসের একতা: মানবতার সাধারণ ভিত্তি পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রচলন রয়েছে, যেমন হিন্দু ধর্ম , ইসলাম ধর্ম , বৌদ্ধ ধর্ম , খ্রিস্ট ধর্ম , ইহুদি ধর্ম , নাদারা এবং আরও অনেক ছোট-বড় ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান। এসব ধর্ম ও বিশ্বাসের বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও তাদের মূল উদ্দেশ্য মানব জীবনের উন্নতি, শান্তি এবং সমৃদ্ধি অর্জন। প্রত্যেকটি ধর্মই শিক্ষা দেয় ভালোবাসা , সহিষ্ণুতা , দয়া , ন্যায়পরায়ণতা এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মূল্যবোধ । আচার-অনুষ্ঠানের পার্থক্য থাকলেও, মানবিক মূল্যবোধে সকল ধর্ম একসূত্রে গাঁথা। "ধর্ম কোনো বিভাজন নয়, বরং মানুষের মধ্যে একতা ও সংহতির সেতুবন্ধন।" আমাদের উচিত পারস্পরিক ভিন্নতাকে গ্রহণ করে, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তোলা। কারণ আমরা সবাই একই সূর্যের আলোয় আলোকিত, যার অন্তরে রয়েছে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এক অপার শক্তি। সুতরাং, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, ইহুদি, নাদারা কিংবা অন্য যে কোনো ধর্মের অনুসারী হোন, আমরা সবাই এক মানবজাতি; যার একমাত্র...

আস্থা হারানো নেত্রী — শেখ হাসিনা ও তাঁর পিতার সৃষ্ট ফলার প্রতি মানুষের বিচ্ছিন্নতা

ছবি
  আস্থা হারানো নেত্রী — শেখ হাসিনা ও তাঁর পিতার সৃষ্ট ফলার প্রতি মানুষের বিচ্ছিন্নতা আস্থা হারানো নেত্রী — শেখ হাসিনা ও তাঁর পিতার সৃষ্ট ফলার প্রতি মানুষের বিচ্ছিন্নতা শেখ হাসিনা, তুমি দেশের মানুষের কাছে আর সেই আস্থা রাখো না যা এককালীন তোমার পিতার হাতে গড়ে উঠেছিল। সেই ফলার, যাকে তুমি ধ্বংসাত্মক নীতিমালা ও স্বার্থপরতার মিশেলে এমনভাবে সাজিয়ে রেখেছো, যা আজকের জনগণ স্পষ্ট দেখতে পারছে। তোমার বাবার নামের আশ্রয়ে গড়ে ওঠা সেই পাথেয়, যা একসময় গণতান্ত্রিক স্বপ্ন ও উন্নতির প্রতীক ছিল, আজ সে পথ হারিয়েছে তার আলো। মানুষ বুঝতে পেরেছে, সেখানে আর নেই স্বচ্ছতা, নেই ন্যায় ও সাম্যের বাণী। তুমি সেই পথকে এমনভাবে বিকৃত করেছো যে, সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের জোয়ার থমকে গেছে। তোমার শাসনের অধীনে তৈরি সেই কাঠামো—যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্রিক, যেখানে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির গন্ধ সর্বত্র ঘুরছে—সেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বপ্ন কিছুমাত্র মূল্য রাখে না। তারা আর তোমার বা তোমার বাবার সৃষ্ট ফসলের প্রতি বিশ্বাস রাখতে চায় না, কারণ তারা দেখেছে সেই ফলগুলো বিষাক্ত, যা তাদের জীবনকে বিষিয়ে...

মধ্য আয়ের দেশ – আমাদের অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথচলা

ছবি
  🌾 মধ্য আয়ের দেশ – আমাদের অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথচলা 🌾 বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যাত্রা একসময় ছিল শূন্য থেকে শুরু করা একটি লড়াই। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো, দারিদ্র্যের শেকড়বদ্ধ পরিস্থিতি—সবকিছু যেন একটি ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু গত পাঁচ দশকে আমরা প্রমাণ করেছি, দৃঢ় মনোবল, সঠিক পরিকল্পনা ও মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম যে কোনো অসম্ভবকেও সম্ভব করে তুলতে পারে। আজ আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি, বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশের কাতারে । এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক উন্নয়ন কৌশল। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পোশাক শিল্পে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় জয়লাভ, প্রবাসী আয় এবং নারীশক্তির কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিকে দিয়েছে শক্ত ভিত। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার প্রসার ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নতি, বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিয়েছে। 📈 অর্থনৈতিক অর্জন প্রতি ব্যক্তি আয় (GNI per capita) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র্যের হার বিগত দুই দশকে নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ও রপ্ত...

আগে ছিলাম ভালো ছিলাম — চাঁদা, ভয় ও হারানো মানুষ

ছবি
  আগে ছিলাম ভালো ছিলাম — চাঁদা, ভয় ও হারানো মানুষ আগে ছিলাম ভালো ছিলাম — চাঁদা, ভয় ও হারানো মানুষ একসময় আমরা ভালো ছিলাম। না, সেই ভালো থাকা মানে ছিল না ধন-সম্পদে ভরপুর জীবন। ছিল মন খুলে হাসি, সন্ধ্যায় উঠোনে বসে গল্প করা, এক কাপ চায়ের আড্ডা, আর অজস্র চেনা মুখের নির্ভেজাল সম্পর্ক। কেউ কারো দরজায় গেলে “ভয়” শব্দটা ছিল না অভিধানে। আজকাল সে শব্দ বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকে—নিঃশব্দ আতঙ্কের মতো। কারো দরজায় কড়া নাড়লেই মনে হয়—কেউ এসে চাঁদা চাইবে, কেউ হুমকি দেবে, কিংবা কারো ক্ষতি করবে। এ যেন অচেনা শহরে পরিচিত মুখগুলোকেও হারিয়ে ফেলা। চাঁদার গল্প আগে চাঁদা মানে ছিল পুজোর তহবিল, বা খেলাধুলার ক্লাবের জন্য স্বেচ্ছা অনুদান। এখন চাঁদা মানে ভয়। আপনি না দিলে—আপনার ব্যবসা, আপনার সংসার, এমনকি আপনার জীবনও নিরাপদ নয়—এ কথাটা সবাই বুঝে গেছে। চাঁদা হয়ে গেছে “শর্তহীন কর”। যেখানে গণতন্ত্র থেমে গেছে, আর সমাজের বিবেক বিক্রি হয়ে গেছে ক্ষমতার কাছে। ভয়ের শহর ভয় এখন বাজারের সবজির মতো—প্রতিদিনের কেনাকাটায় লেগেই আছে। রাতের অন্ধকারে কারো হঠাৎ ফোন, ...

অন্ধকার থেকে মুক্তির দিকে

ছবি
  অন্ধকার থেকে মুক্তির দিকে — একটি গদ্য কবিতা তাকে বলে দেশনেত্রী— বেগম খালেদা জিয়া। তিনবার দেশের হাল ধরেছেন, দুর্বিনীত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছেন র‍্যাব , নিজ হাতে নির্মূল করেছেন দলেরই কালো ছায়া হয়ে ওঠা কিছু মুখোশধারী। রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ছিল তাঁর শাসনের ছায়াতলে। অথচ ইতিহাসের পাতায় যিনি জাতির কন্যা রূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তিনি যেন ক্ষমতার মোহে হয়ে উঠেছিলেন— মানবতার অন্ধ প্রতিপক্ষ। নির্বিচারে গুম-খুন, শাপলা চত্বরের রক্তস্নাত রাত, মাথা নত না করা ছাত্রদের প্রতি বুলেটের ধাক্কা— এসব যেন তারই নীরব অনুমোদনে ঘটে যাওয়া অধ্যায়। আর সেই মহিলার শাসনেই— মিথ্যা মামলার নামে চিরবন্দী রাখা হয় বাংলার তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দলের ত্যাগী নেত্রী, এক মায়ের মতো দেশকে ভালোবাসা এক নারীর নাম— খালেদা জিয়া । কিন্তু সময় তো কারও গোলাম নয়। সে চুপচাপ থেকে যায় না। সে বদলায়, সে ফিরিয়ে দেয়— একদিন গুম হয়ে যাওয়া মুখগুলো, একদিন হারিয়ে যাওয়া সত্যগুলো। আজ সেই দেশনেত্রী মুক্ত। আবার যেন ফিরে আসছে সাহসী পদচারণা। আবার জেগে উঠছে বাংলার নিপীড়িত মানুষের হৃদয়। আবার চোখে জল নিয়ে কে...

তুমি নাকি জাতির পিতার কন্যা?

ছবি
  তুমি নাকি জাতির পিতার কন্যা? তুমি নাকি জাতির পিতার কন্যা? তুমি তো বলেছিলে, তুমি জাতির পিতার রক্ত বহন করো! তুমি তো বলেছিলে, "এই দেশ আমার নিজের সন্তানের মতো!" তবে প্রশ্ন জাগে— সেই সন্তানের কান্না যখন রাজপথে রক্ত হয়ে গড়িয়ে পড়ে, তখন কোথায় ছিল তোমার মাতৃত্ববোধ? তুমি কীভাবে উড়ে গেলে, আর রেখে গেলে তোমার লক্ষ কর্মীকে গুজব, গুলি আর গুমের ভয়াল রাতের মুখোমুখি? তুমি কি জানো কেমন লাগে, যখন এক মা তার নিখোঁজ সন্তানের জামা বুকে জড়িয়ে কাঁদে— তাকে বলতে পারো কি, কেন তুমি ছিলে না তার পাশে? তোমার কণ্ঠে যতটা সাহসের বুলি ছিল, তোমার পায়ের ছন্দে ছিল না ততটুকু অটলতা! তুমি কি জানো, একজন প্রকৃত নেতা পালায় না— সে লড়াই করে, হেরে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়। তবে তুমি? তুমি তো পালিয়েছো, নিজের জান বাঁচাতে হাজার হাজার মানুষের আশাভঙ্গ ঘটিয়ে। তুমি কি আজও সেই নারীর চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে পারো, যে তার স্বামীকে হারিয়েছে, কারণ তিনি তোমার নাম নিয়ে স্লোগান দিয়েছিল...

অহংকার বনাম আত্মবিশ্বাস

ছবি
  অহংকার: আত্মবিশ্বাসের ছদ্মবেশ না আত্মবিনাশের পথ? একটি পুরনো বাংলা প্রবাদে আছে— "অহংকার পতনের মূল" । এই একটি বাক্যেই লুকিয়ে আছে বহু যুগের অভিজ্ঞতা, দর্শন ও সতর্কতা। অহংকার এমন একটি মানসিক অবস্থা, যা মানুষের চিন্তা, আচরণ ও সামাজিক সম্পর্ককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। 🔍 অহংকারের সংজ্ঞা ও ব্যুৎপত্তি ‘অহংকার’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত "অহং" (অর্থাৎ ‘আমি’) এবং "কার" (অর্থাৎ ‘করা’ বা ‘সৃষ্টি’) থেকে। এর অর্থ—নিজেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ, বড় বা শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। 🕋 ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অহংকার ইসলাম: ইসলাম ধর্মে অহংকারকে মারাত্মক গুনাহ বলা হয়েছে। নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন— “যার অন্তরে এক অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (সহীহ মুসলিম) হিন্দুধর্ম: ভগবদ্গীতায় (অধ্যায় ১৬, শ্লোক ৪) বলা হয়েছে— “অহংকার, দাম্ভিকতা ও রাগ হলো অসুরদের লক্ষণ।” অহংকার মানুষকে মায়া জালে বেঁধে রাখে এবং আত্মজ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। বৌদ্ধ ধর্ম: অহংকারকে “মান” বলা হয় এবং এটি “অবিধ্যা” বা অজ্ঞতার একটি রূপ। নির্বাণ লাভ করতে হলে...