পোস্টগুলি

দুর্গাপূজার ইতিহাস ও তাৎপর্য এবং বিজয়াদশমীর মাহাত্ম্য

ছবি
  দুর্গাপূজার ইতিহাস, তাৎপর্য ও বিজয়াদশমী | নিতাই বাবু 🪔 দুর্গাপূজার ইতিহাস, তাৎপর্য ও বিজয়াদশমী দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সমাজের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব। এটি ধর্মীয় ভক্তি, সংস্কৃতি, শিল্পকলা ও সামাজিক মিলনের এক অনন্য প্রতীক। মহালয়ার দিন দেবী দুর্গার আবাহন দিয়ে শুরু হয়ে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চলে এই মহাউৎসব। 📜 দুর্গাপূজার ইতিহাস পুরাণকথা: অসুররাজ মহিষাসুর দেবতা ও মানুষকে অরাজকতায় ফেলে দিলে দেবতারা তাঁদের শক্তি একত্র করে সৃষ্টি করেন দশভূজা দুর্গা । দশদিনের যুদ্ধে দেবী মহিষাসুরকে বধ করেন। এই বিজয় স্মরণে দুর্গাপূজা পালিত হয়। আকাল বোধন: রাবণবধের আগে শ্রীরাম শরৎকালে দুর্গাপূজা করেন। দেবীর পূজা মূলত বসন্তকালে হলেও শরৎকালের পূজাকে বলা হয় আকাল বোধন । এখান থেকেই শরৎকালীন দুর্গাপূজার প্রচলন। ঐতিহাসিক বিবর্তন: প্রাচীনকালে রাজা ও জমিদারদের আঙিনায় দুর্গাপূজা প্রচলিত ছিল। ১৬শ শতক থেকে পূজা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। উনিশ ও বিংশ শতকে সর্বজনীন দুর্গাপূজা জনপ্রিয়তা লাভ করে। 🌸 দুর্গাপূজার তাৎপর্য অশুভ শক্তির বিনাশ: মহিষাসুর বধ ...

দোল পূর্ণিমার ইতিহাস ও তাৎপর্য — কেন রঙ মাখামাখি খেলা হয়

ছবি
  দোল পূর্ণিমার ইতিহাস ও তাৎপর্য | নিতাই বাবু 🎨 দোল পূর্ণিমার ইতিহাস ও তাৎপর্য দোল পূর্ণিমা হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত এই দিনটি প্রেম, ভক্তি, মিলন এবং আনন্দের প্রতীক। এই উৎসবকে অনেকে হোলি নামেও চেনে। 📜 দোল পূর্ণিমার ইতিহাস শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার লীলা: বৃন্দাবনে কৃষ্ণ গোপীদের সঙ্গে আবির-রঙ খেলা করতেন। কৃষ্ণের শ্যামবর্ণ ও রাধার গৌরবর্ণ রূপের পার্থক্য দূর করতে কৃষ্ণ রাধার গালে রঙ মেখেছিলেন। সেই থেকেই রঙ খেলার সূচনা। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি: দোল পূর্ণিমা চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব দিবস। তিনি ভক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে প্রেম, মানবতা ও সমতার শিক্ষা দেন। তাই এ উৎসব তাঁর স্মরণেও পালন করা হয়। হোলিকা দহন: হিরণ্যকশিপুর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রহ্লাদের ভক্তি বিজয়ী হয়েছিল। অগ্নিতে বসেও প্রহ্লাদ রক্ষা পান, হোলিকা দগ্ধ হন। এ কাহিনি অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। 🌸 দোল পূর্ণিমার তাৎপর্য ভক্তির উৎসব: রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তির স্মরণে ভজন-সংকীর্তন। মানবত...

হিন্দুধর্মে চড়ক পূজা: ইতিহাস, তাৎপর্য ও আচার-বিধি

ছবি
  হিন্দুধর্মে চড়ক পূজা: ইতিহাস, তাৎপর্য ও কারণ হিন্দুধর্মে চড়ক পূজা: ইতিহাস, তাৎপর্য ও কারণ চড়ক পূজা বাংলার লোকজ ও শাক্ত ধর্মাচরণের অন্যতম প্রাচীন উৎসব। এটি শিবের আরাধনার সাথে যুক্ত একটি তান্ত্রিক পূজা। গ্রামীণ সমাজে বিশেষত চৈত্র মাসের শেষে এই পূজা পালিত হয় এবং একে ঘিরে গ্রামবাংলায় বিশাল লোকোৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। 📜 ইতিহাস চড়ক পূজার উৎপত্তি বহু প্রাচীন। পাল-সেন যুগে তান্ত্রিক শাক্ত সাধনার প্রসারে এই পূজা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মূলত শিবের পূজার অংশ হিসেবেই এর সূচনা হয়। মানুষ বিশ্বাস করত, রোগ-শোক, মহামারী, অকালমৃত্যু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দেবতার কৃপা প্রয়োজন। তাই দেবতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য কষ্টসহিষ্ণু ভক্তরা শরীর বিদ্ধ করে চড়কগাছে ঝুলত। এভাবে চড়ক পূজা ক্রমে গ্রামীণ সমাজের অঙ্গ হয়ে ওঠে। শুধু ধর্মীয় আচার নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আনন্দোৎসব হিসেবেও এর বিস্তার ঘটে। 🙏 পূজার তাৎপর্য অশুভ শক্তি নিবারণ: বিশ্বাস ছিল, শিবকে সন্তুষ্ট করলে গ্রাম মহামারী ও রোগ-শোক মুক্ত হবে। ফসলের সমৃদ্ধি: কৃষিনির্...

বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস — ধর্মগ্রন্থ, ত্রিপিটক ও গুরুত্ব

ছবি
  বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস ও ধর্মগ্রন্থসমূহ বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস ও ধর্মগ্রন্থসমূহ বৌদ্ধ ধর্ম বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও দর্শনভিত্তিক ধর্ম। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে গৌতম বুদ্ধ -এর শিক্ষা থেকে এর সূচনা ঘটে। তিনি মানবজীবনের দুঃখ ও দুঃখমুক্তির পথ নিয়ে শিক্ষা প্রদান করেছিলেন, যা আজও কোটি মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনের পথপ্রদর্শক। 🌸 বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৬৩ অব্দে লুম্বিনী (বর্তমান নেপাল)। শাক্য রাজকুমার হিসেবে তিনি বিলাসবহুল জীবনে বড় হন। কিন্তু বার্ধক্য, রোগ, মৃত্যু ও দুঃখ দেখে সংসারত্যাগ করেন। বোধিবৃক্ষের নিচে দীর্ঘ ধ্যান ও সাধনার পর তিনি জ্ঞানপ্রাপ্ত হন এবং ‘বুদ্ধ’ উপাধি লাভ করেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দেন — চতুরার্য সত্য: দুঃখ, দুঃখের কারণ, দুঃখ নিরসন ও মুক্তির পথ। অষ্টাঙ্গিক মার্গ: সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক আজীবিকা, সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি। সম্রাট অশোক (খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতক) বৌদ্ধ ধর্মকে রাষ্ট্রীয় আশ্রয় দেন এবং তাঁর প্রচেষ্টায় এটি ভারত থেকে শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চ...

মনসা পূজা — ইতিহাস, তাৎপর্য ও সারসংক্ষেপ

ছবি
  মনসা পূজা — ইতিহাস, তাৎপর্য ও সারসংক্ষেপ | নিতাই বাবু মনসা পূজা — ইতিহাস, তাৎপর্য ও সারসংক্ষেপ মনসা পূজা হলো হিন্দুধর্মে সাপের দেবী মনসার আরাধনা। বাংলার গ্রামীণ সমাজে বিশেষভাবে প্রচলিত এই পূজা মূলত সাপের দংশন থেকে মুক্তি, পরিবারে শান্তি এবং কল্যাণ কামনায় অনুষ্ঠিত হয়। মনসা দেবীকে “নাগদেবী” বা “সাপের দেবী” বলা হয়। তাঁর পূজা শ্রাবণ মাসে বিশেষভাবে পালিত হলেও অন্যান্য সময়েও পালিত হতে দেখা যায়। 📜 মনসা পূজার ইতিহাস মনসা দেবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত কাহিনি একাধিক গ্রন্থে পাওয়া যায়। পুরাণ মতে, তিনি ঋষি কশ্যপ ও কদ্রুর কন্যা, আবার শিবের মন থেকে উদ্ভূত শক্তির রূপ হিসেবেও পরিচিত। বাংলার মধ্যযুগে রচিত মনসামঙ্গল কাব্য মনসা পূজার ইতিহাসের প্রধান ভিত্তি। এখানে বর্ণিত হয়েছে চাঁদ সৌদাগরের কাহিনি । তিনি ছিলেন ধনী ব্যবসায়ী কিন্তু মনসা দেবীর পূজা করতে অস্বীকার করেছিলেন। দেবী বারবার তাঁর জীবনে নানা বিপদ সৃষ্টি করেন—জাহাজ ডুবিয়ে দেন, সন্তানহানি ঘটান। অবশেষে চাঁদ সৌদাগরের পুত্র লক্ষ্মীন্দর সাপের দংশনে মৃত্যুবরণ করলে বাধ্য হয়ে তিনি দেবীকে পূজা করেন। তখন মনসা সন্তুষ্ট হয়ে আ...

কালী পূজার ইতিহাস — তাৎপর্য ও কালী দেবীর বারো রূপ

ছবি
  কালী পূজার ইতিহাস, তাৎপর্য ও বারো কালী দেবীর রূপ | নিতাই বাবু কালী পূজার ইতিহাস, তাৎপর্য ও কালী দেবীর বারো রূপ কালী পূজা হিন্দুধর্মের একটি প্রধান শক্তিপূজা , যা বিশেষত বাংলায় ও পূর্ব ভারতে ব্যাপকভাবে পালিত হয়। দীপাবলির রাত্রে অমাবস্যার অন্ধকারে কালী পূজা করা হয়, যা অশুভ শক্তি, অজ্ঞানের অন্ধকার ও ভয়কে বিনাশ করে শক্তি, সাহস ও মুক্তির আলো জ্বালায়। কালী দেবী হলেন মহামায়া দুর্গার এক ভয়ঙ্কর রূপ, যিনি অসুরবিনাশিনী ও মুক্তিদাত্রী হিসেবে পূজিত। 🌸 কালী পূজার ইতিহাস কালী পূজার উৎপত্তি মূলত তান্ত্রিক সাধনা র সঙ্গে যুক্ত। মধ্যযুগে বাংলার তান্ত্রিক সাধকেরা মধ্যরাত্রে মহাকালী পূজা করতেন সিদ্ধিলাভের উদ্দেশ্যে। কালক্রমে এই পূজা রাজা-মহারাজা ও সমাজের উচ্চবিত্তদের আশ্রয়ে সর্বজনীন আচার হয়ে ওঠে। বিশেষত কৃষ্ণচন্দ্র রাজা ও কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ এই পূজাকে সর্বসাধারণের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলেন। এরপর থেকে বাংলায় দীপাবলির সঙ্গে কালী পূজা একত্রে পালিত হতে শুরু করে। 🌼 কালী পূজার তাৎপর্য অসুরবিনাশিনী শক্তি: কালী দেবী অশুভ শক্তি, দুষ্ট প্রবৃত্তি ও অহংকার দূর করেন...

বিশ্বকর্মা পূজা — ইতিহাস, কাহিনি ও তাৎপর্য

ছবি
  বিশ্বকর্মা পূজা — ইতিহাস, তাৎপর্য ও দেবতার কাহিনি বিশ্বকর্মা পূজা — ইতিহাস, তাৎপর্য ও দেবতার কাহিনি 🌸 বিশ্বকর্মা পূজার ইতিহাস বিশ্বকর্মা দেব হিন্দু পুরাণে স্বর্গের প্রধান স্থপতি ও নির্মাতা দেবতা হিসেবে বর্ণিত। তাঁকে বলা হয় “দিব্য স্থপতি” । দেবরাজ ইন্দ্রের প্রাসাদ, বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিবের ত্রিশূল, হনুমানের গদা, পাণ্ডবদের ইন্দ্রপ্রস্থ নগরী—সবই বিশ্বকর্মার সৃষ্টি বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই তাঁকে শিল্প, প্রযুক্তি ও কারুশিল্পের দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়ে আসছে। 🌼 পূজার তাৎপর্য শিল্প ও প্রযুক্তির দেবতা হিসেবে তাঁকে পূজা করলে কারিগর, প্রকৌশলী ও শ্রমজীবীরা কল্যাণ প্রাপ্ত হন বলে বিশ্বাস। কর্মক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি, কলকারখানা, কারখানার সরঞ্জামাদি এই দিনে বিশেষভাবে পূজা করা হয়। বাংলায় বিশেষ করে কারখানা, মুদ্রণযন্ত্র, বস্ত্রকল, জাহাজ ও আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এ পূজা পালিত হয়। এই পূজা মানুষের সৃজনশীলতা, উৎপাদনশীলতা ও কর্মশক্তি জাগ্রত করার প্রতীক। গ্রামীণ সমাজে এখনও তাঁকে গৃহস্থালির কাজ ও...