মনসা পূজা — ইতিহাস, তাৎপর্য ও সারসংক্ষেপ
মনসা পূজা — ইতিহাস, তাৎপর্য ও সারসংক্ষেপ
মনসা পূজা হলো হিন্দুধর্মে সাপের দেবী মনসার আরাধনা। বাংলার গ্রামীণ সমাজে বিশেষভাবে প্রচলিত এই পূজা মূলত সাপের দংশন থেকে মুক্তি, পরিবারে শান্তি এবং কল্যাণ কামনায় অনুষ্ঠিত হয়। মনসা দেবীকে “নাগদেবী” বা “সাপের দেবী” বলা হয়। তাঁর পূজা শ্রাবণ মাসে বিশেষভাবে পালিত হলেও অন্যান্য সময়েও পালিত হতে দেখা যায়।
📜 মনসা পূজার ইতিহাস
মনসা দেবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত কাহিনি একাধিক গ্রন্থে পাওয়া যায়। পুরাণ মতে, তিনি ঋষি কশ্যপ ও কদ্রুর কন্যা, আবার শিবের মন থেকে উদ্ভূত শক্তির রূপ হিসেবেও পরিচিত।
বাংলার মধ্যযুগে রচিত মনসামঙ্গল কাব্য মনসা পূজার ইতিহাসের প্রধান ভিত্তি। এখানে বর্ণিত হয়েছে চাঁদ সৌদাগরের কাহিনি। তিনি ছিলেন ধনী ব্যবসায়ী কিন্তু মনসা দেবীর পূজা করতে অস্বীকার করেছিলেন। দেবী বারবার তাঁর জীবনে নানা বিপদ সৃষ্টি করেন—জাহাজ ডুবিয়ে দেন, সন্তানহানি ঘটান। অবশেষে চাঁদ সৌদাগরের পুত্র লক্ষ্মীন্দর সাপের দংশনে মৃত্যুবরণ করলে বাধ্য হয়ে তিনি দেবীকে পূজা করেন। তখন মনসা সন্তুষ্ট হয়ে আশীর্বাদ দেন।
এই কাহিনি থেকে বোঝা যায়, দেবী মনসা কেবল ভয় প্রদর্শনকারী নন, বরং পূজা-আরাধনা ও ভক্তির মাধ্যমে তিনি কল্যাণ ও রক্ষাকর্ত্রী রূপে প্রকাশিত হন।
🌼 পূজার তাৎপর্য
- সাপ থেকে রক্ষা: গ্রামীণ জীবনে সাপের দংশন ছিল এক বড় আতঙ্ক। মনসার পূজা মানুষের মনে নিরাপত্তা ও সাহস যোগায়।
- পারিবারিক মঙ্গল: পরিবার, সন্তান ও সম্পদের রক্ষাকর্ত্রী হিসেবে তাঁকে পূজা করা হয়।
- লোকসংস্কৃতি: মনসামঙ্গল কাব্যের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য, গান, নাটক ও লোকসংস্কৃতিতে দেবী মনসা অমর হয়ে আছেন।
- নারীভক্তি: বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা মনসাকে তাঁদের গৃহরক্ষাকর্ত্রী হিসেবে মানেন।
- সামাজিক উৎসব: এই পূজা অনেক স্থানে মেলা আকারে পালিত হয়, যা সামাজিক সম্প্রীতি ও আনন্দের উৎস।
🌺 মনসা দেবীর প্রতীকী রূপ
মনসা দেবীকে সাধারণত সাপ দ্বারা আবৃত বা সাপের আসনে আসীন রূপে কল্পনা করা হয়। তাঁর হাতে থাকে সাপ, পদ্মফুল বা পাত্র। এই প্রতীক শক্তি, ভয় ও সুরক্ষার মেলবন্ধন প্রকাশ করে। অনেক জায়গায় তাঁকে শিবের কন্যা বা অর্ধেক সাপ রূপেও চিত্রিত করা হয়।
📚 সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে মনসা পূজা
মনসামঙ্গল কাব্য কেবল দেবীর মাহাত্ম্যই বর্ণনা করেনি, বরং বাংলার সমাজ-সংস্কৃতিতে নারীর ভূমিকা, বিশ্বাস ও ভক্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চাঁদ সওদাগরের কাহিনি মানুষের অহংকার ভেঙে ভক্তির মূল্য শেখায়। আজও গ্রামীণ নাট্যমঞ্চ, পালাগান ও কবিগানগুলোতে মনসার কাহিনি জনপ্রিয় বিষয়।
📌 সারসংক্ষেপ
মনসা পূজা মূলত বাংলার লোকবিশ্বাস ও গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত একটি দেবীপূজা। দেবী মনসা সাপদেবী হিসেবে পূজিতা হলেও তাঁর মাহাত্ম্য কেবল সাপের দংশন থেকে রক্ষা নয়, বরং মানুষের পরিবার, সম্পদ ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণে বিস্তৃত। মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সৌদাগরের কাহিনি প্রমাণ করে যে, অহংকার ও অবজ্ঞার পরিবর্তে ভক্তি ও বিশ্বাসেই শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। ফলে মনসা পূজা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলা লোকসংস্কৃতি, সাহিত্য ও সামাজিক চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
✍️ নিতাই বাবু
🏆 পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭
🏆 ব্লগ ডট বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর – ২০১৬
📚 সমাজ, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, গল্প, কবিতা ও সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের লেখালেখি।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
আমি চিকিৎসক নই, কোনো ধর্মগুরুও নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য বা ধর্মীয় বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে ইমেইলে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
🔒 গোপনীয়তা নীতি
এই পোস্টটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। এখানে ব্যবহৃত কিছু তথ্য ChatGPT (by OpenAI) থেকে সংগৃহীত। কোনো ধর্ম, চিকিৎসা বা আইন বিষয়ক সিদ্ধান্তের আগে যোগ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
⚠️ সতর্কবার্তা: ব্যক্তিভেদে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই এখানে দেওয়া তথ্য যাচাই না করে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেবেন না।
প্রিয় পাঠক, আমার লেখা ভালো লাগলে 🙏 দয়া করে শেয়ার করুন এবং মন্তব্য করে উৎসাহ দিন 💖

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
nitaibabunitaibabu@gmail.com