পোস্টগুলি

অন্ধকার থেকে মুক্তির দিকে

ছবি
  অন্ধকার থেকে মুক্তির দিকে — একটি গদ্য কবিতা তাকে বলে দেশনেত্রী— বেগম খালেদা জিয়া। তিনবার দেশের হাল ধরেছেন, দুর্বিনীত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছেন র‍্যাব , নিজ হাতে নির্মূল করেছেন দলেরই কালো ছায়া হয়ে ওঠা কিছু মুখোশধারী। রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ছিল তাঁর শাসনের ছায়াতলে। অথচ ইতিহাসের পাতায় যিনি জাতির কন্যা রূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তিনি যেন ক্ষমতার মোহে হয়ে উঠেছিলেন— মানবতার অন্ধ প্রতিপক্ষ। নির্বিচারে গুম-খুন, শাপলা চত্বরের রক্তস্নাত রাত, মাথা নত না করা ছাত্রদের প্রতি বুলেটের ধাক্কা— এসব যেন তারই নীরব অনুমোদনে ঘটে যাওয়া অধ্যায়। আর সেই মহিলার শাসনেই— মিথ্যা মামলার নামে চিরবন্দী রাখা হয় বাংলার তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দলের ত্যাগী নেত্রী, এক মায়ের মতো দেশকে ভালোবাসা এক নারীর নাম— খালেদা জিয়া । কিন্তু সময় তো কারও গোলাম নয়। সে চুপচাপ থেকে যায় না। সে বদলায়, সে ফিরিয়ে দেয়— একদিন গুম হয়ে যাওয়া মুখগুলো, একদিন হারিয়ে যাওয়া সত্যগুলো। আজ সেই দেশনেত্রী মুক্ত। আবার যেন ফিরে আসছে সাহসী পদচারণা। আবার জেগে উঠছে বাংলার নিপীড়িত মানুষের হৃদয়। আবার চোখে জল নিয়ে কে...

তুমি নাকি জাতির পিতার কন্যা?

ছবি
  তুমি নাকি জাতির পিতার কন্যা? তুমি নাকি জাতির পিতার কন্যা? তুমি তো বলেছিলে, তুমি জাতির পিতার রক্ত বহন করো! তুমি তো বলেছিলে, "এই দেশ আমার নিজের সন্তানের মতো!" তবে প্রশ্ন জাগে— সেই সন্তানের কান্না যখন রাজপথে রক্ত হয়ে গড়িয়ে পড়ে, তখন কোথায় ছিল তোমার মাতৃত্ববোধ? তুমি কীভাবে উড়ে গেলে, আর রেখে গেলে তোমার লক্ষ কর্মীকে গুজব, গুলি আর গুমের ভয়াল রাতের মুখোমুখি? তুমি কি জানো কেমন লাগে, যখন এক মা তার নিখোঁজ সন্তানের জামা বুকে জড়িয়ে কাঁদে— তাকে বলতে পারো কি, কেন তুমি ছিলে না তার পাশে? তোমার কণ্ঠে যতটা সাহসের বুলি ছিল, তোমার পায়ের ছন্দে ছিল না ততটুকু অটলতা! তুমি কি জানো, একজন প্রকৃত নেতা পালায় না— সে লড়াই করে, হেরে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়। তবে তুমি? তুমি তো পালিয়েছো, নিজের জান বাঁচাতে হাজার হাজার মানুষের আশাভঙ্গ ঘটিয়ে। তুমি কি আজও সেই নারীর চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে পারো, যে তার স্বামীকে হারিয়েছে, কারণ তিনি তোমার নাম নিয়ে স্লোগান দিয়েছিল...

অহংকার বনাম আত্মবিশ্বাস

ছবি
  অহংকার: আত্মবিশ্বাসের ছদ্মবেশ না আত্মবিনাশের পথ? একটি পুরনো বাংলা প্রবাদে আছে— "অহংকার পতনের মূল" । এই একটি বাক্যেই লুকিয়ে আছে বহু যুগের অভিজ্ঞতা, দর্শন ও সতর্কতা। অহংকার এমন একটি মানসিক অবস্থা, যা মানুষের চিন্তা, আচরণ ও সামাজিক সম্পর্ককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। 🔍 অহংকারের সংজ্ঞা ও ব্যুৎপত্তি ‘অহংকার’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত "অহং" (অর্থাৎ ‘আমি’) এবং "কার" (অর্থাৎ ‘করা’ বা ‘সৃষ্টি’) থেকে। এর অর্থ—নিজেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ, বড় বা শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। 🕋 ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অহংকার ইসলাম: ইসলাম ধর্মে অহংকারকে মারাত্মক গুনাহ বলা হয়েছে। নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন— “যার অন্তরে এক অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (সহীহ মুসলিম) হিন্দুধর্ম: ভগবদ্গীতায় (অধ্যায় ১৬, শ্লোক ৪) বলা হয়েছে— “অহংকার, দাম্ভিকতা ও রাগ হলো অসুরদের লক্ষণ।” অহংকার মানুষকে মায়া জালে বেঁধে রাখে এবং আত্মজ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। বৌদ্ধ ধর্ম: অহংকারকে “মান” বলা হয় এবং এটি “অবিধ্যা” বা অজ্ঞতার একটি রূপ। নির্বাণ লাভ করতে হলে...

হিংসার পরিণাম

ছবি
  হিংসার পরিণাম ✍️ হিংসার পরিণাম হিংসা—মানব মনের এক ভয়ংকর ব্যাধি, যা বাইরে থেকে দৃশ্যমান না হলেও ভেতরটা নিঃশেষ করে ফেলে। এটি এমন এক বিষ, যার প্রথম শিকার নিজেই হিংসুক মানুষটি। সেই মানুষটি হয়তো অন্যের অগ্রগতি দেখে হাসে না, বরং মনের গভীরে জ্বলে ওঠে। অন্যের প্রাপ্তি তার কাছে হয়ে ওঠে নিজের অপূর্ণতার প্রতিচ্ছবি। আর এই অনুভূতির বীজ থেকেই জন্ম নেয় ঈর্ষা, বেড়ে ওঠে হিংসা। "হিংসুক ব্যক্তি অপরের সুখ দেখে কষ্ট পায়, আর নিজের দুঃখে অন্ধ হয়ে যায়।" 🎭 হিংসার ছদ্মবেশ হিংসুকরা মুখে প্রশংসা করলেও মনে থাকে অন্যের পতনের পরিকল্পনা। তারা উপরে উপরে হাসে, অথচ মনে মনে কারো ব্যর্থতা কামনা করে। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়ে তারা সফল মানুষদের টেনে নামাতে চায়। তারা ভুলে যায়— "অন্যের আলো নিভিয়ে নিজেকে উজ্জ্বল করা যায় না।" 🔥 হিংসার ফলাফল হিংসা থেকে জন্ম নেয় কুৎসা, অপপ্রচার, বিশ্বাসঘাতকতা। অনেক সময় হিংসা ব্যক্তিকে ঠেলে দেয় অন্যায় ও অপরাধের দিকে। ছোট থেকে ছোট হিংসাও একদিন বড় বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিবারে বিভেদ, বন্ধুত্বে দূরত্ব, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় হিংস...

প্রতিশোধ নিতে হবে - একটি গদ্য কবিতা

ছবি
  প্রতিশোধ নিতে হবে - একটি গদ্য কবিতা ✊ প্রতিশোধ নিতে হবে (একটি গদ্য কবিতা) তারা তো কিছুই চায়নি বেশি, শুধু একটু সম্মান, একটু নিরাপত্তা, একটু মানুষ হয়ে বাঁচার অধিকার। তারা হাতে রাখেনি অস্ত্র— রাখেনি হিংসা কিংবা বিদ্বেষ— তাদের ছিল কেবল কণ্ঠ, আর ছিল বিশ্বাস। কিন্তু এই কণ্ঠই ভয় দেখায় শাসকদের, এই প্রশ্নই কাঁপিয়ে দেয় ক্ষমতার মঞ্চ। তাই তো তারা গুলি চালায়, নিঃশব্দ করে দেয় প্রতিবাদের ছায়া। একেকটা শরীর পড়ে থাকে রাস্তায়, একেকটা হৃদয় চিরতরে থেমে যায়, আর বাড়ি ফিরে আসে শুধু খালি জামা। তারা যে ফিরে আসবে না— তারা যে ঘরে ঢুকবে না আর কোনোদিন— সে শোক কি কোনো পতাকা মেলে? সে রক্ত কি ধুয়ে যায় মৌনতার জল দিয়ে? না, আমরা ভুলে যাব না। আমরা ঝরে যাওয়া প্রতিটা চোখের জল গুনে রাখবো, আমরা জমা রাখবো প্রতিটি নিঃশ্বাসের ব্যথা, আমরা শপথ করবো— এই প্রতিশোধ হবে ঘৃণায় নয়, হিংসায় নয়, এই প্রতিশোধ হবে আলো দিয়ে, সাহস দিয়ে, সত্য দিয়ে। তারা চেয়েছিলো ন্যায়ের পথ— আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাবো। কণ্ঠকে নীরব করলেও...

বিশ্বাসঘাতক

ছবি
  🖋️ বিশ্বাসঘাতক (একটি গদ্য কবিতা) তাকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম। না, শুধু বিশ্বাস নয়— নিজের ভেতরের সব আলো, সব অন্ধকার, সবটুকু নির্ভরতা উজাড় করে দিয়েছিলাম। সে ছিল আমার জীবনের একমাত্র সেই মানুষ, যার সামনে দাঁড়িয়ে আমি নিজের দুর্বলতাগুলো খুলে দেখাতে পারতাম, যার ছায়ায় আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়তে চেয়েছিলাম। সে বলেছিল— "আমি আছি, সবসময় থাকব।" আর আমি, নির্বোধের মতো, চোখ বুজে সেই কথাকে রেখেছিলাম হৃদয়ের ঘরে। ভেবেছিলাম, এই 'থাকা'টাই চিরকাল চলবে, এই 'থাকা'র মানে বিশ্বাস, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব— সব একসাথে। কিন্তু একদিন, হঠাৎ করেই, সে বদলে গেল। বদলানোটা শব্দের মতো নিঃশব্দ ছিল না— তা ছিল একটা বিস্ফোরণ, যেখানে আমার স্বপ্নগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে আকাশে উড়ে গেল, আর আমি নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম শুধু। সে চলে গেল, কিন্তু তার রেখে যাওয়া ছায়া আজও রয়ে গেছে আমার ভেতরে— বিশ্বাসের কবর হয়ে। আমি যখন শুনি সে অন্য কারো পাশে হাসছে, যখন দেখি সে আমার গল্প অন্য কাউকে শোনাচ্ছে— তখন আমি বুঝি, বিশ্বাসঘাতকতা কেবল প্রতারণা নয়, এ ...

শীতলক্ষ্যা নদী – এক নদীর আত্মকথা

ছবি
  🌊 শীতলক্ষ্যা নদী – এক নদীর আত্মকথা শীতলক্ষ্যা, তুমি নীরব এক সাক্ষী, কালের কণ্ঠে বাজে তোমার গল্প-গান। ঢেউয়ের পর ঢেউয়ে শোনা যায় শত কথা— সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, হাহাকার আর প্রাণ। তোমার তীরে গড়ে ওঠে শিল্পের শহর, কলের ধোঁয়ায় আকাশ ঝাপসা হলেও— প্রাণে তবুও ছড়িয়ে থাকে জীবন-উচ্ছ্বাস, চলার ছন্দ, শ্রমের গান, ভালোবাসা ঢেউ। নাবিকেরা গায় সুরে সুরে সারি গান, জেলেরা ফেলে জাল, গলায় আশার সুর। তোমার বুকে খেলে যায় পালতোলা নৌকা, স্টিমারের ভেঁপু যেন দূরের স্বপ্নদূত। তুমি কভু শান্ত, কভু হয়ে ওঠো উত্তাল, তোমার স্রোত যেন হৃদয়ের হাহাকার। তুমি শুধু নদী নও, তুমি ইতিহাস, তুমি সংস্কৃতির প্রাণ, জনপদের কাব্যধ্বনি। তোমার জলে মিশে আছে ঘাম আর আশা, স্বপ্ন আর কান্না, আত্মা আর ইতিহাস। তুমি অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য এক কণ্ঠস্বর— বুকে তোমার বাজে জীবনের আর্তনাদ। শীতলক্ষ্যা, প্রিয় নদী, বয়ে চলো চিরকাল, তোমার শীতল পরশে থাকুক শান্তি ও ছায়া। তোমার কুল কুল ধ্বনি হোক ঘুমপাড়ানি গান, তোমার জলে জেগে থাকুক আমাদের প্রাণ। ✍️ কবি:নিতাই বাবু| উৎসর্গ: প্রিয় শীতলক্ষ্যা নদী | ...