হিন্দুধর্মের ৫১ শক্তিপীঠ এবং কামরূপ কামাখ্যা
হিন্দুধর্মের ৫১ শক্তিপীঠ এবং কামরূপ কামাখ্যা
কামরূপ এবং কামাখ্যা সম্বন্ধে আলোচনা করতে গেলে প্রথমে হিন্দু শাস্ত্রে বর্ণিত ৫১ শক্তিপীঠের ইতিহাস জানা জরুরি। শক্তিপীঠ হলো হিন্দুধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। লোকবিশ্বাস অনুসারে, দেবী দাক্ষায়ণী সতীর দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অলঙ্কার ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, নেপাল এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে পতিত হয়েছে।
শাস্ত্রমতে ৫১টি শক্তিপীঠের কথা বলা হয়, তবে শাস্ত্রভেদে সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে। এই ৫১টি পবিত্র স্থান ইতিহাসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত।
৫১ শক্তিপীঠের উৎপত্তি
সত্যযুগে এক সময়, মহাদেবের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দক্ষ রাজা একটি যজ্ঞের আয়োজন করেন। তার কন্যা দেবী সতী দেবী যোগী মহাদেবকে বিবাহ করেছেন। কিন্তু এই যজ্ঞে মহাদেব ও সতীকে নিমন্ত্রণ করা হয়নি। সতী দেবী স্বামীর প্রতি পিতার অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মাহুতি দেন।
সতী দেবীর মৃতদেহে থাকা স্বর্ণালঙ্কারসহ ৫১টি খণ্ড হয়ে বিভিন্ন স্থানে পতিত হয়। এই খণ্ডগুলি হিন্দু শাস্ত্রে উল্লেখিত পবিত্র শক্তিপীঠের ভিত্তি। প্রতিটি পীঠ দেবী শক্তির ভিন্ন রূপের উপস্থিতি প্রকাশ করে।
বাংলাদেশের ৬টি শক্তিপীঠ
- ভবানী মহাপীঠ, চট্টগ্রাম: চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায়। সতী দেবীর ডান হাত পতিত হয়েছিল।
- জয়ন্তী মহাপীঠ, সিলেট: বাউরভাগ, কানাইঘাট। সতী দেবীর বাম জঙ্ঘা পতিত হয়েছিল।
- গ্রীনা মহাপীঠ, সিলেট: জৈনপুর, গোটাটিকর, দক্ষিণ সুরমা। সতী দেবীর গলা পতিত হয়েছিল।
- অপর্ণা মহাপীঠ, শেরপুর: ভবানীপুর, করতোয়া নদীর তীরে। সতী দেবীর পায়ের নূপুর পতিত হয়েছিল।
- যশোরেশ্বরী মহাপীঠ, সাতক্ষীরা: ঈশ্বরীপুর, শ্যামনগর। সতী দেবীর হাতের তালু ও পায়ের পাতা পতিত হয়েছিল।
- সুগন্ধা মহাপীঠ, বরিশাল: শিকারপুর, গৌরনদী, সন্ধ্যা নদীর তীরে। সতী দেবীর নাসিকা পতিত হয়েছিল।
বাকি ৩৯টি শক্তিপীঠ ভারতে রয়েছে। কলকাতার কালীঘাটে সতী দেবীর মুখ খণ্ড, আসামের কামরূপ জেলার নীলাচল পাহাড়ের কামাখ্যায় সতী দেবীর যোনি খণ্ড পতিত হয়।
কামরূপ ও কামাখ্যা
আসামের কামরূপ জেলার কামাখ্যা মন্দির সতী দেবীর যোনি খণ্ডের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই মন্দিরে যোনি পূজা হয়, যা সৃষ্টি ও জন্মের প্রতীক। কামাখ্যা মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যা মন্দিরও আছে। এখানে ভুবনেশ্বরী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ত্রিপুরাসুন্দরী, তারা, কালী, ভৈরবী, ধূমাবতী, মাতঙ্গী ও কমলা দেবীর পূজা হয়।
ত্রিপুরাসুন্দরী, মাতঙ্গী ও কমলা প্রধান মন্দিরে পূজিত হন। তন্ত্রসাধকদের কাছে মন্দিরটি পবিত্র তীর্থ। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে অনুষ্ঠিত অম্বুবাচী মেলায় শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুণ্যলাভের আশায় আসে।
লোকমুখে কামরূপ কামাখ্যা
লোকেরা কামরূপ ও কামাখ্যা শব্দ একত্রে ব্যবহার করে। মন্দিরে কিছু উলঙ্গ সাধু ও সন্যাসীদের আস্তানা রয়েছে। এরা বিভিন্ন তন্ত্রমন্ত্র এবং সিদ্ধি অর্জনের জন্য গাঁজা সহ অন্যান্য মাদক গ্রহণ করে। সাধারণ ভক্তরা পুণ্যলাভের আশায় তাদের চরণে লুটিয়ে পড়ে। তবে এটি কোনো জাদুবিদ্যা বা অশুভ কাজের প্রমাণ নয়।
উপসংহার
৫১ শক্তিপীঠ হিন্দুধর্মের পবিত্র স্থান। প্রতিটি পীঠ দেবী শক্তির ভিন্ন দিকের প্রকাশ। বাংলাদেশের ৬টি, পাকিস্তানের কিছু, এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে মন্দির রয়েছে। আসামের কামরূপের কামাখ্যা মহাশক্তিপীঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যেখানে তন্ত্রসাধক ও সাধারণ ভক্তরা পুণ্যলাভের জন্য আসে। কামরূপ ও কামাখ্যা শব্দের সংমিশ্রণই স্থানটির পরিচিতি।
✍️ নিতাই বাবু
🏆 পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭
🏆 ব্লগ ডট বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর – ২০১৬
📚 সমাজ, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, গল্প, কবিতা ও সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের লেখালেখি।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
আমি চিকিৎসক নই, কোনো ধর্মগুরুও নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য বা ধর্মীয় বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে ইমেইলে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
🔒 গোপনীয়তা নীতি
এই পোস্টটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। এখানে ব্যবহৃত কিছু তথ্য ChatGPT (by OpenAI) থেকে সংগৃহীত। কোনো ধর্ম, চিকিৎসা বা আইন বিষয়ক সিদ্ধান্তের আগে যোগ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
⚠️ সতর্কবার্তা: ব্যক্তিভেদে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই এখানে দেওয়া তথ্য যাচাই না করে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেবেন না।
প্রিয় পাঠক, আমার লেখা ভালো লাগলে 🙏 দয়া করে শেয়ার করুন এবং মন্তব্য করে উৎসাহ দিন 💖

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
nitaibabunitaibabu@gmail.com