হিন্দুধর্মের মহাপুরাণসমূহ — নারদ থেকে ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ

 

হিন্দুধর্মের মহাপুরাণসমূহ — নারদ থেকে ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ

হিন্দুধর্মের মহাপুরাণসমূহ — নারদ থেকে ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ

হিন্দুধর্মে আঠারোটি মহাপুরাণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোতে সৃষ্টিতত্ত্ব, দেব-দেবীর কাহিনি, ভক্তি, যোগ, ধর্মনীতি, আচার-অনুষ্ঠান, জ্যোতিষ, চিকিৎসা, ভবিষ্যদ্বাণী ইত্যাদি বিষয়বস্তু স্থান পেয়েছে। এখানে আমরা নারদ পুরাণ থেকে ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ পর্যন্ত ১৩টি পুরাণের সারমর্ম সংক্ষেপে আলোচনা করব।

নারদ পুরাণ

নারদ পুরাণ মূলত ঋষি নারদের সংলাপভিত্তিক। এতে ভক্তি, যোগ, ধর্মনীতি এবং গীত, সঙ্গীত ও ভজনের গুরুত্ব বিশেষভাবে বর্ণিত। ভক্তিমার্গের সাধকদের কাছে এটি অত্যন্ত প্রভাবশালী পুরাণ।

মার্কণ্ডেয় পুরাণ

মার্কণ্ডেয় পুরাণ-এ দেবী মহাত্ম্যম বা চণ্ডীপাঠের মূল অংশ রয়েছে। দুর্গার অসুরবধ কাহিনি এই পুরাণের কেন্দ্রীয় বিষয়। এটি শক্তি উপাসনার প্রধান গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

অগ্নি পুরাণ

অগ্নি পুরাণ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, চিকিৎসা-শাস্ত্র, জ্যোতিষ, স্থাপত্য ও শাস্ত্রকলার বিস্তৃত বিবরণ প্রদান করে। দৈনন্দিন জীবনের নানা আচারবিধি এতে সংকলিত।

ভবিষ্য পুরাণ

ভবিষ্য পুরাণ-এ ভবিষ্যৎ কালের ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। বিশেষ করে কালীযুগের সমাজ, ধর্মচর্চা ও মানুষের আচরণের পূর্বাভাস এতে আলোচিত হয়েছে।

ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ

ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ কৃষ্ণ, রাধা ও গোপীদের ব্রজলীলার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা প্রদান করে। বৈষ্ণব ভক্তির বিশেষ প্রভাব এই পুরাণে লক্ষ্য করা যায়।

লিঙ্গ পুরাণ

লিঙ্গ পুরাণ মূলত শিবলিঙ্গের মাহাত্ম্য, সৃষ্টি তত্ত্ব ও মহাপ্রলয়ের বিশদ বর্ণনা দেয়। এটি শৈব উপাসকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুরাণ।

বরাহ পুরাণ

বরাহ পুরাণ-এ বিষ্ণুর বরাহ অবতার ও পৃথিবী উদ্ধার কাহিনি বর্ণিত। এতে তীর্থমাহাত্ম্যও বিশেষভাবে উল্লেখিত।

স্কন্দ পুরাণ

স্কন্দ পুরাণ আঠারোটি মহাপুরাণের মধ্যে বৃহত্তম। এতে কার্তিকেয় বা স্কন্দের লীলাকাহিনি এবং অসংখ্য তীর্থমাহাত্ম্যের বিশদ বিবরণ রয়েছে।

বামন পুরাণ

বামন পুরাণ-এ বিষ্ণুর বামন অবতার ও বালিকে পরাভূত করার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। এতে ধর্মনীতি ও নৈতিক শিক্ষার দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে।

কূর্ম পুরাণ

কূর্ম পুরাণ-এ কূর্ম অবতার, সমুদ্র মন্থন ও দেব-অসুর সহযোগিতার কাহিনি রয়েছে। এতে বিভিন্ন ধর্মতত্ত্ব ও আচারবিধির আলোচনাও আছে।

মৎস্য পুরাণ

মৎস্য পুরাণ-এ মৎস্য অবতার, মনুর উদ্ধার ও মহাপ্রলয়ের বিশদ বর্ণনা পাওয়া যায়। এটি হিন্দু সৃষ্টিতত্ত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

গরুড় পুরাণ

গরুড় পুরাণ মূলত মৃত্যু-তত্ত্ব, যমলোক, আত্মার যাত্রা এবং শবদাহ আচার সংক্রান্ত নির্দেশিকা হিসেবে পরিচিত। অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার সঙ্গে এর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ

ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ-এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি ও বিনাশের বর্ণনা রয়েছে। পাশাপাশি দেবী ললিতার মাহাত্ম্য ও ললিতা সহস্রনামের উল্লেখ এটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

উপসংহার

উপরিউক্ত ১৩টি পুরাণ হিন্দুধর্মের আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক চেতনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। প্রতিটি পুরাণের নিজস্ব ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ভক্তি, যোগ, শক্তি, শিব-ভক্তি, বিষ্ণুভক্তি, মৃত্যু-তত্ত্ব, ভবিষ্যদ্বাণী ও সৃষ্টিতত্ত্ব—সবকিছু মিলেই এগুলো হিন্দু সভ্যতার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য গড়ে তুলেছে।

লেখক নিতাই বাবু

✍️ নিতাই বাবু

🏆 পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭
🏆 ব্লগ ডট বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর – ২০১৬
📚 সমাজ, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, গল্প, কবিতা ও সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের লেখালেখি।

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

আমি চিকিৎসক নই, কোনো ধর্মগুরুও নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য বা ধর্মীয় বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে ইমেইলে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

🔒 গোপনীয়তা নীতি

এই পোস্টটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। এখানে ব্যবহৃত কিছু তথ্য ChatGPT (by OpenAI) থেকে সংগৃহীত। কোনো ধর্ম, চিকিৎসা বা আইন বিষয়ক সিদ্ধান্তের আগে যোগ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

⚠️ সতর্কবার্তা: ব্যক্তিভেদে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই এখানে দেওয়া তথ্য যাচাই না করে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেবেন না।

প্রিয় পাঠক, আমার লেখা ভালো লাগলে 🙏 দয়া করে শেয়ার করুন এবং মন্তব্য করে উৎসাহ দিন 💖

👁️
0 জন পড়েছেন

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার শৈশবের বন্ধু— শীতলক্ষ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঈশ্বর ভাবনা

মা নাই যার, সংসার অরণ্য তার