শ্বেত রোগ (Vitiligo) – সেতি রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

 

শ্বেত রোগ (Vitiligo) – সেতি রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

সংক্রামক নয়, কিন্তু মানসিক ও সামাজিক প্রভাব গভীর—সচেতন থাকুন, নিয়মিত চিকিৎসা নিন।

শ্বেত রোগ (আঞ্চলিকে সেতি/নলে সেতি) একটি অটোইমিউন চর্মরোগ, যেখানে ত্বকের মেলানিন উৎপাদনকারী কোষ ধীরে ধীরে কমে যায় বা নষ্ট হয়—ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশ সাদা হয়ে যায়। এটি সংক্রামক নয়, তবে আত্মবিশ্বাস, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

কারণ (Etiology)

  • অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া: ইমিউন সিস্টেম মেলানোসাইটকে আক্রমণ করে।
  • বংশগত: পরিবারে ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
  • হরমোন/এন্ডোক্রাইন: থাইরয়েড ইত্যাদির অসামঞ্জস্যতা সহাবস্থান করতে পারে।
  • কোয়েবনার ফেনোমেনন: আঘাত/কাটা/পোড়া জায়গায় দাগ দেখা দেওয়া।
  • স্ট্রেস ও পরিবেশগত প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, কিছু রাসায়নিকের এক্সপোজার।

লক্ষণ (Symptoms)

  • ত্বকের নির্দিষ্ট অংশে সুস্পষ্ট সাদা দাগ; সময়ের সাথে ছড়াতে পারে।
  • ঠোঁট, চোখ, নাসারন্ধ্র, আঙ্গুলের গিরা ও যৌনাঙ্গের ত্বকে বেশি দৃশ্যমান।
  • চুল/ভ্রু আগেভাগে সাদা হয়ে যাওয়া (লিউকোট্রাইকিয়া)।
  • বিরলভাবে শুষ্কতা বা হালকা চুলকানি—ব্যথা/জ্বর সাধারণত থাকে না।
জানার বিষয়: শ্বেত রোগ ক্যান্সার নয়, খাদ্যে লবণ/দুধ একসাথে খেলে হয়—এমন কুসংস্কার বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল।

নির্ণয় (Diagnosis)

  • ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা: চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দাগের প্রকৃতি দেখেন।
  • উডস ল্যাম্প: আল্ট্রাভায়োলেট আলোতে দাগ মূল্যায়ন।
  • সহযোগী পরীক্ষা: প্রয়োজনে থাইরয়েড/অটোইমিউন প্রোফাইল, বিরল ক্ষেত্রে স্কিন বায়োপসি।

চিকিৎসা (Management)

ওষুধভিত্তিক

  • টপিকাল কর্টিকোস্টেরয়েড/ক্যালসিনিউরিন ইনহিবিটার: ছোট ও নতুন দাগে কার্যকর।
  • সিস্টেমিক থেরাপি: ছড়ানো ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে।

আলোক-চিকিৎসা (Phototherapy)

  • Narrowband UVB / PUVA: নিয়মিত সেশন; ধৈর্য জরুরি।

সার্জিকাল

  • স্কিন গ্র্যাফটিং/মেলানোসাইট ট্রান্সপ্লান্ট: স্থিতিশীল দাগে নির্বাচিত রোগীর জন্য।

কসমেটিক ও সাপোর্টিভ

  • কভার-আপ মেকআপ/ডার্মাল ক্যামোফ্লাজ: বিশেষ অনুষ্ঠানে/পাবলিক ইন্টারঅ্যাকশনে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
  • সানপ্রটেকশন: SPF সহ সানস্ক্রিন; পোড়া দাগ এড়ানো।
🍎 খাদ্যাভ্যাস: ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েট, পর্যাপ্ত প্রোটিন, বি12, ফলেট, জিঙ্ক ও কপারসমৃদ্ধ খাবার সহায়ক হতে পারে—ওষুধের বিকল্প নয়।

জীবনধারা ও মনোসামাজিক সহায়তা

  • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট (ধ্যান/যোগ/নিয়মিত ঘুম)।
  • মৃদু রোদে হাঁটা (চিকিৎসকের পরামর্শমতো)।
  • কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা—রোগীকে মানসিক সমর্থন দিন।
⚠️ সতর্কতা: অনিয়ন্ত্রিত স্টেরয়েড ব্যবহার, অযাচাইকৃত হার্বাল/কেমিক্যাল প্রডাক্ট ও “চটজলদি প্রতিকার” এড়িয়ে চলুন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ

ডা. সুমিতা রহমান — চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
ডা. হেলেনা খন্দকার — ডার্মাটোলজি ও অটোইমিউন রোগ, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা।
ডা. মো. শফিকুল ইসলাম — ডার্মাটোলজিস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU)।
ডা. রুবিনা ইয়াসমিন — কনসালট্যান্ট, চর্মরোগ বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল।
লেখক: নিতাই বাবু

✦ লেখক: নিতাই বাবু

আমি স্বাস্থ্য, জীবনধারা ও সামাজিক তথ্যভিত্তিক লেখালিখি করি। পাঠকের কল্যাণে সহজ-সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাই আমার উদ্দেশ্য।

🏆 পুরস্কারপ্রাপ্ত নাগরিক সাংবাদিক – ২০১৭

👉 বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

👁️ এই পোস্টটি পড়েছেন: 0 জন

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার শৈশবের বন্ধু— শীতলক্ষ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঈশ্বর ভাবনা

মা নাই যার, সংসার অরণ্য তার