মহিলাদের ঋতুস্রাব কত বছর পর্যন্ত নিয়মিত থাকে? বয়সভিত্তিক ধাপ, পরিবর্তন ও করণীয়
মহিলাদের ঋতুস্রাব কত বছর পর্যন্ত নিয়মিত থাকে? — বয়সভিত্তিক ধাপ, পরিবর্তন, করণীয়
সাধারণত মেয়েদের ঋতুস্রাব শুরু হয় ৯–১৬ বছর বয়সে (গড়: ১২–১৩). প্রথম ২–৩ বছর অনিয়ম স্বাভাবিক। কৈশোর পেরিয়ে প্রজনন বয়স (প্রায় ১৮–৪০/45 বছর)—এ চক্র তুলনামূলক নিয়মিত থাকে (সাধারণত প্রতি ২১–৩৫ দিনে একবার, রক্তস্রাব ২–৭ দিন)। পেরিমেনোপজ (প্রায় ৪০–৪৫+ থেকে) পর্যায়ে ধীরে ধীরে অনিয়ম বাড়ে এবং মেনোপজ সাধারণত ৪৫–৫৫ বছরের মধ্যে (গড় ৫০–৫১) স্থায়ী হয়—এর পর ১২ মাস মাসিক না হলে মেনোপজ ধরা হয়।
বয়সভিত্তিক ধাপ ও কী কী স্বাভাবিক
-
মেনার্ক (প্রথম ঋতুস্রাব): ৯–১৬ বছর
প্রথম ২–৩ বছরে ডিম্বস্ফোটন ঠিকমতো না হওয়ায় চক্র অনিয়মিত/বেশি-কম হতে পারে—এটি স্বাভাবিক। -
প্রজনন বয়স: আনুমানিক ১৮–৪০/৪৫ বছর
চক্র অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়মিত (২১–৩৫ দিন)। ব্যথা/রক্তস্রাবের মাত্রা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন। -
পেরিমেনোপজ: প্রায় ৪০/৪৫–মেনোপজের আগ পর্যন্ত
চক্রের ব্যবধান ছোট-বড় হওয়া, হট ফ্ল্যাশ, ঘুমের সমস্যা, মুড পরিবর্তন—ধীরে ধীরে অনিয়ম বাড়ে। -
মেনোপজ: সাধারণত ৪৫–৫৫ (গড় ৫০–৫১)
টানা ১২ মাস মাসিক না হলে মেনোপজ ধরা হয়; এরপর স্বাভাবিক মাসিক থাকে না।
কখন “নিয়মিত” ধরা হবে?
- চক্রের ব্যবধান সাধারণত ২১–৩৫ দিনের মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
- রক্তস্রাব ২–৭ দিনের মধ্যে শেষ হয়।
- একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে মাসে মাসে বিশাল ওঠানামা না থাকলে সেটি মোটামুটি নিয়মিত।
অনিয়মের সাধারণ কারণ
হরমোনগত
PCOS, থাইরয়েড সমস্যা (হাইপো/হাইপার), প্রোল্যাক্টিন বেড়ে যাওয়া।
PCOS, থাইরয়েড সমস্যা (হাইপো/হাইপার), প্রোল্যাক্টিন বেড়ে যাওয়া।
জীবনযাপন
অতিরিক্ত স্ট্রেস/ওজন পরিবর্তন, কম-বেশি ব্যায়াম, কম ঘুম।
অতিরিক্ত স্ট্রেস/ওজন পরিবর্তন, কম-বেশি ব্যায়াম, কম ঘুম।
ঔষধ/গর্ভনিরোধ
পিল/ইনজেকশন/IUD শুরু-বন্ধে অস্থায়ী পরিবর্তন।
পিল/ইনজেকশন/IUD শুরু-বন্ধে অস্থায়ী পরিবর্তন।
অন্যান্য
গর্ভধারণ, স্তন্যদান, রক্তাল্পতা, দীর্ঘ রোগ, অতিরিক্ত ব্যথানাশক।
গর্ভধারণ, স্তন্যদান, রক্তাল্পতা, দীর্ঘ রোগ, অতিরিক্ত ব্যথানাশক।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
- ৩ মাস বা তার বেশি সময় মাসিক না এলে (গর্ভধারণ না থাকলে)।
- প্রতিমাসে তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত/দীর্ঘ রক্তস্রাব (৭ দিনের বেশি) বা রক্ত জমাট পড়া।
- ২১ দিনের কম/৩৫ দিনের বেশি ব্যবধান বারবার হওয়া।
- মেনার্কের ১৫–১৬ বছরেও না হওয়া, বা খুব দ্রুত/দেরিতে পরিবর্তন।
- পেরিমেনোপজ/মেনোপজের পর হঠাৎ যোনিপথে রক্তস্রাব।
সম্ভাব্য পরীক্ষা কী কী?
- β-hCG (গর্ভধারণ যাচাই), CBC (রক্তাল্পতা), থাইরয়েড ফাংশন (TSH/FT4)
- প্রোল্যাক্টিন, FSH/LH, এস্ট্রাডিওল (প্রয়োজনে)
- পেলভিক আল্ট্রাসনোগ্রাফি (ডিম্বাশয়/জরায়ুর অবস্থা)
যত্ন ও জীবনযাত্রার করণীয়
- সুষম খাবার, যথেষ্ট প্রোটিন-আয়রন; ওজন স্বাভাবিক রেঞ্জে রাখা।
- নিয়মিত ব্যায়াম (সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রা)।
- স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: ঘুম ৭–৮ ঘন্টা, মেডিটেশন/শ্বাসব্যায়াম।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া হরমোন/পিল শুরু-বন্ধ করবেন না।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
কত বছর পর্যন্ত মাসিক “নিয়মিত” থাকে?
প্রজনন বয়সে (ধরা যায় ১৮–৪০/৪৫) তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে নিয়মিত থাকে। এরপর পেরিমেনোপজে ধীরে ধীরে অনিয়ম বাড়ে।
মেনোপজ কবে?
অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রে ৪৫–৫৫ বছরের মধ্যে; গড় ~৫০–৫১। টানা ১২ মাস মাসিক না থাকলে—মেনোপজ।
মাসিকের ব্যবধান কত হলে স্বাভাবিক?
সাধারণত ২১–৩৫ দিন; রক্তস্রাব ২–৭ দিন।
ডিসক্লেইমার: এই লেখা সাধারণ শিক্ষামূলক তথ্য। ব্যক্তিভেদে পার্থক্য হতে পারে।
উপসর্গ থাকলে গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নিন।
এই পোস্টটি পড়েছে 0 জন
পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন:

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
nitaibabunitaibabu@gmail.com