ব্লগার লেখক আমি হতে পারলে আপনিও পারবেন


একসময় যখন এদেশে মোবাইল ফোনের আগমণ ঘটে, আমি তখন টেক্সটাইল মিলে কাজ করি। মিলটা ছিলো গোদনাইল পানির কল এলাকায়। মিলের নাম গাজী টেক্সটাইল মিলস্। মিল মালিকের নাম ছিলো, সামছুল হক গাজী। উনাকে এলাকার সবাই গাজী সাহেব বলে চিনতো, ডাকতো, ডাকতো। সময়টা তখন ২০০৬ সাল। তবে এর আগে থেকেই মনে হয় এদেশে মোবাইল ফোন এসেছিল। কিন্তু আমার দেখা ২০০৬ সালে গাজী টেক্সটাইল মিলের মালিক গাজী সাহেবের হাতে। তাই আমি এদেশে মোবাইল ফোনের আগমণ ২০০৬ সালই উল্লেখ করেছি।

সে-সময় মিলের মালিক ঢাকা থেকে একটা নতুন মোবাইল ফোন কিনে আনে। মোবাইলটা প্রায় এক মুঠুম হাত লম্বা ছিল। মোবাইলটার কালার ছিলো কালো। উনি সময় সময় বাসা থেকে বের হয়ে মিলের গেইটের সামনে এসে মোমাইল ফোনটা কানে চেপে ধরে কথা বলতো। ঘরের বাইরে এসে কথা বলার কারণও ছিলো! কারণ হলো, তখনকার সময়ে নেটওয়ার্ক সমস্যা বেশি ছিলো। যদিও উনার মোবাইলের সিমকার্ড গ্রামীণ ফোন ছিলো, তবুও তখন ঘরের ভেতরে বসে নেটওয়ার্ক পাওয়া যেতো না। তাই তিনি মোবাইল ফোন কানে চেপে ঘরের বাইরে এসে কথা বলতো। তা দেখে মিলেই সব শ্রমিকরা হা করে তাকিয়ে থাকতো! অবাক হয়ে দেখতো! কান পেতে উনার কথা শুনতো। সবার সাথে আমিও মিল মালিকের সামনে গিয়ে উঁকি মেরে দেখতাম। আর ভাবতাম! আর মনে মনে আক্ষেপ করে বলতাম, 'ঈশ! যদি আমি একটা কিনতে পারতাম!'

আমার মনের সেই আক্ষেপ মনে হয় মহান সৃষ্টিকর্তা সেসময়ই শুনে ফেলেছিল। তাই মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় মাসেক দুইমাস পর পরিচিত এই দোকান থেকে ২০০৬ ইংরেজি সালেই Nokia-1110 মডেলের একটা মোবাইল কিনতে সক্ষম হই। তাও অর্ধেক নগদ, অর্ধেক বাকিতে। সেইসাথে একটা বাংলালিংক সিমকার্ডও কিনলাম। মোট দাম হলো, ৩,৬০০+৫০০= ৪,১০০/=টাকা। দোকানদারকে নগদ দিলাম ২,০০০/=টাকা। আর বাদবাকি টাকা মাস শেষে বেতন পেলে পরিশোধ করবো বলে কথা দিলাম। এরপর থেকে শুরু করলাম, নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা অপরের সাথে কথা বলা এবং মেসেজের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে বার্তা পাঠানো। পরের মাসে মিলে বেতন পেয়ে মোবাইলের বাকি টাকা পরিশোধ করলাম।

ওই মোবাইলটা বেশকিছু দিন ব্যাবহার করার পর আর ভালো লাগছিলো না। কারণ, Nokia-1110 মডেল মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যেতো না, তাই। তারপর ২০০৭ ইংরেজি সালে Nokia N-73 মডেলের পুরাতন একটা মোবাইল কিনলাম। সেই মোবাইল দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে থাকি, মনের আনন্দে! কিন্তু তখনকার সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট ছিলো স্লো-মোশন! মানে ধীরগতিসম্পন্ন 2G স্প্রিরিট। বলা যায়, “গাড়ি চলে না চলে না, চলে না রে– গাড়ি চলে না" এমন অবস্থা!

সে-সময়ে নেটওয়ার্কভিত্তিক ইন্টারনেটের সুবিধা ছিল GPRS সার্ভিস। GPRS এর পূর্ণরূপ হলো, General Packet Radio Service. সে-সময় নোকিয়া বাটন মোবাইলের সেটিং থেকে কনফিগারেশন সেটিং করে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হতো। নিজেও সে-ভাবেই সেটিং করে ইন্টারনেট ব্যহার করতাম। অনেক সময় নিজে নিজে কনফিগারেশন সেটিং করেও ইন্টারনেট সংযোগ পেতাম না, তখন সরাসরি ব্যবহার করা নেটওয়ার্ক কোম্পানির হেল্পলাইন 121- এ কল করে কনফিগারেশন সেটিং পাঠাতে বলতাম। তখন তাঁরা অটোমেটিক কনফিগারেশন সেটিং পাঠালে, তা মোবাইলে সেভ করে নিতাম। এরপর বুকেরপাটা টান করে অনলাইনে থাকা বিভিন্ন সাইটে প্রবেশ করতাম। এটাই ছিলো আমার তখকার সময়ে নিয়মিত অভ্যাস।

কিন্তু দীর্ঘদিন Nokia-N-73 ব্যবহার করার পর মোবাইলটি আর ভালো লাগছিল না। ভালো না লাগার করণ ছিলো শুধু একটাই। তাহলে Nokia N-73 মডেল মোবাইলে বাংলা লেখা যেতো না। আবার মোবাইল স্ক্রিনেও বাংলা লেখা প্রদর্শিত হতো না। এটাই ছিল ভালো না লাগার কারণ!

এরপর ২০১১ সালে আমার একমাত্র ছেলে খুব শখ করে Nokia c-3 একটা মোবাইল কিনে। তখনকার সময়ে Nokia মোবাইলের ছিলো, মোবাইল জগতে সেরা মোবাইল। মানে Nokia'র জয়জয়কার সময়। তারপর আবার নতুন মডেল Nokia c-3। সেই মোবাইলটা আমার ছেলে বেশিদিন ব্যাবহার করে যেতে পারেনি। বিধাতার ডাকে সাড়া দিয়ে ছেলেটা ২০১১ সালের ২০ জুলাই পরপারে চলে যায়। রেখে যায়, ওর শখের Nokia c-3 মোবাইলটি।

ছেলের রেখে যাওয়া মোবাইলটা আমি বেশকিছু দিন ঘরে রেখে দিয়েছিলাম। একদিন দেখি মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে গেছে। তখন মোবাইলটা মেকারের কাছে নিয়ে গেলাম। মোবাইল মেকার বললো, “এতো দামী মোবাইল ব্যবহার না করে ঘরে ফেলে রাখলে একসময় মোবাইলটাও নষ্ট হয়ে যাবে।” মোবাইল মেকারের কথা শুনে নতুন ব্যাটারি সংগ্রহ করে আমি নিজেই ব্যাবহার করতে থাকলাম। যাতে ছেলের রেখে যাওয়া মোবাইলটা সবসময় ভালো থাকে। সকলের শুভকামনায় তা এখনো ভালো আছে।

এরপর থেকে Nokia C-3 মোবাইল দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করি। কিন্তু Nokia c-3 মোবাইলেও বাংলা লেখা যেতো না। মনের আক্ষেপ আর আফসোস শুধু মনেই থেকেই যেতো। তারপরও বিশ্ববিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগলে সার্চ করা ছিল আমার প্রতিদিনের রুটিন মাফিক কাজ। সেসব কাজের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ব্লগে উঁকি মারা। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া-সহ আরও অনেককিছু। তবে বেশকিছু অনলাইনভিত্তিক দিনলিপি বা ব্লগে সময়টা বেশি ব্যয় করতাম। বিভিন্ন ব্লগ সাইটে ব্লগারদের লেখাগুলো পড়তে খুবই ভালো লাগতো। এই ভালো লাগা থেকে নিজেরও লিখতে ইচ্ছে করতো। কিন্তু সমস্যা ছিলো, একমাত্র মোবাইল।
তারপরও একসময় Nokia c-3 মোবাইল দিয়ে অনলাইনে থাকা ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমম ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করে ফেললাম। কিন্তু Nokia C-3 মোবাইলে তো বাংলা লেখা যায় না! তবুও খামখেয়ালিভাবে কোনরকম ইংরেজি বর্ণ দিয়ে স্বল্পসংখ্যক শব্দের একটা লেখা জমা দিলাম। ব্লগে লেখা জমা দিয়ে বেশকিছুদিন আর ব্লগে লগইন করিনি, লজ্জায়! লজ্জার কারণ হলো, আমার লেখা পড়ে ব্লগের সবাই যদি হাসাহাসি করে, তাই। সেই লজ্জা মনে রেখেই বেশকিছু দিনের জন্য ব্লগ থেকে লাপাত্তা ছিলাম।

এর কয়েক মাস পর অনেক কষ্ট করে মনের স্বাদ মেটানোর জন্য Symphony W-82 মডেল-এর একটা নতুন মোবাইল কিনলাম। মোবাইলটা কিনেই, সেই দিনই ঐ ব্লগে লগইন করলাম। উদ্দেশ্য হলো, আমার জমা দেওয়া লেখাটার অবস্থা দেখা। লগইন করে দেখি সম্মানিত ব্লগ মডারেটর লেখার শিরোনাম বাংলায় লেখার জন্য বলছে। Symphony W-82 এন্ড্রোয়েড মোবাইলে বাংলা লেখা যেতো। তারপরও গুগল প্লে স্টোর থেকে একটা বাংলা Keyboard অ্যাপ ডাউনলোড করে লেখার শিরোনাম লিখলাম, “আমিও মানুষ”। লেখার শিরোনাম বাংলায় লিখে, ব্লগে জমা দিয়ে আবার কিছুদিনের জন্য ব্লগ থেকে গা-ঢাকা দিলাম। গা-ঢাকা দেওয়ার প্রায় কয়েকমাস পর আবার ব্লগে লগইন করলাম। লগইন করে দেখি আমার লেখা প্রকাশ হয়েছে। লেখার নিচে মন্তব্যের বক্সে কয়েকজন সম্মানিত লেখক মূল্যবান মন্তব্যও করেছে। সেসব মন্তব্যের উত্তর দিতে গেয়েই, আজ অবধি ব্লগ আর ব্লগিংয়ের মাঝেই আটকা পড়ে আছি। ব্লগে লিখছি, পড়ছি, অন্যের লেখায় মন্তব্য করছি, দেখেও যাচ্ছি।

এরপর থেকে অনেক সম্মানিত লেখক/লেখিকাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও গড়েছি। অনেক লেখক/কবিদের বাড়িতে গিয়েছি। সেই থেকে এপর্যন্ত ব্লগ, ব্লগিং এবং ব্লগের পোস্টের মন্তব্য বিষয়ে সামান্যতম ধ্যানধারণাও মোটামুটি অর্জন করতে পেরেছি। একসময় ঐ ব্লগের সবার মন জয় করে একটা সম্মাননাও পেয়েছি। তা থাকুক ছোট সম্মাননা, হোক বড় কোনও সম্মাননা। কিন্তু সম্মাননা পেয়েছি। পায়েছি ব্লগে নিয়মিত লেখালেখি করে, আর সবার পোস্টে মন্তব্যের বিনিময়ে। আর আমাদের নারায়নগঞ্জ শহরবাসীর সমস্যা নিয়ে লেখার কারণে।

যাক সে কথা, আসল কথায় আসা যাক! আসল কথা হলো, যারা একটু-আধটু লেখালেখি করতে পারেন, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলা।

প্রিয় সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, একটু লক্ষ্য করুন! আপনারা যারা আমার আগে থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, তাঁরা অবশ্যই অনলাইনভিত্তিক ফেসবুক, আর ব্লগ বিষয়ে আমার চেয়ে ভালোই জানেন। তা আর নতুন করে নতুন কিছু উপস্থাপন করার কোনও দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। তবে আমরা যারা ফেসবুকে লেখালেখি একটু-আধটু লিখে স্ট্যাটাস দিয়ে থাকি এবং অন্যের পোস্ট পড়ছি, তারা সবাই জানি যিনি ফেসবুক ব্যবহার করেন, তাকে ফেসবুকার বলে। যারা ফেসবুকে কবিতা লিখে তাদের কবি বলে। যারা কোনও-না-কোনও ব্লগে লিখে তাদের ব্লগার বলে। তবে ফেসবুক ব্যবহারকারির ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা বন্ধুদের প্রিয় বন্ধু মনে করে। তাই একই প্লাটফর্মে একে অপরের সাথে লেখা শেয়ায় করছি, মোবাইল বা ল্যাপটপে একটা কীবোর্ডের সাহায্যে ভালোমন্দ মন্তব্যও করছি।

এভাবেই মোবাইল অথবা ঘরে থাকা ল্যাপটপ কীবোর্ডে একটু-আধটু লিখতে লিখতেই লেখালেখির হাতেখড়ি দেয়া হয়ে যায়। তো লেখালেখির হাতেখড়ি দেয়া বা নেওয়া মানে লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া। ফেসবুকের পাশাপাশি ফেসবুকের বাইরেও কিন্তু লেখালেখির আরও অনেক প্লাটফর্ম প্রস্তুত আছে। সেই পছন্দের প্লাটফর্ম কিন্তু লেখকের খুঁজে নিতে হবে। তো কীভাবে লেখালেখি করার জন্য পছন্দের প্লাটফর্ম খুঁজে নিবেন? খুঁজে নিবেন যেকোনো ব্লগ। যে যেই ভাষায় লেখালেখি করতে পারে সে সেই ভাষার ব্লগই খুঁজে নিতে হবে। আমি বাঙালি, তাই আমি বাংলা ব্লগে লেখালেখি করি। কেউ যদি হিন্দিতে লিখতে অভ্যস্ত, তিনি অবশ্যই হিন্দি ভাষায় ব্লগ খুঁজে নিয়ে ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করে লেখালেখি শুরু করবেন।

প্রিয় পাঠক, প্রশ্ন করতে পারেন, “ব্লগে লিখলে কী হয় এবং কী কী লেখা যায়?"
প্রথমত: ব্লগে লিখতে লিখতে আপনি অনলাইনে জড়িয়ে থাকা অনেক অনেক নামকরা লেখকদের সাথে পরিচিত হবেন এবং সেসব নামকরা লেখক/কবি/সাহিত্যিকদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবও গড়ে তুলতে পারবেন। একসময় তাদেরই সহযোগিতায় আপনার লেখাগুলো ছাপা অক্ষরে বই আকারে প্রকাশ হতে পারে, এতে কোনও সন্দেহ নেই।
দ্বিতীয়ত: আপনি লেখালেখি যা-পারেন-না-কেন, ব্লগে লিখতে লিখতে সহ-ব্লগারদের সহযোগিতায় আপনার লেখার বানান আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। আপনি যদি কোনও লেখায় বা কোনও পোস্টে ৩০০০ শব্দ সংখ্যায় ৫০ শব্দের বানান ভুল করে থাকেন, তাহলেও কোনও সমস্যা নেই, আপনার সহ-লেখকরা আপনাকে মন্তব্যের বক্সে অথবা ফেসবুক মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিবে। তারপর আপনি ব্লগ পোস্ট সম্পাদনা করে দেখেশুনে বানান গুলো ঠিক করে দিতে পারবেন।
তৃতীয়ত: একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী নিজেই জানে না যে, তার এই শখের আইডি কতদিন অ্যাক্টিভ থাকবে এব কতদিন নাগাদ তিনি ফেসবুকে পোস্ট করতে পারবেন! এই না জানার কারণ হলো, একবার যদি আপনার পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলেন অথবা শত চেষ্টা করেও যদি আর ফেসবুকে লগইন করতে না পারেন, তাহলে তখন কী অবস্থাটা হবে বলুন তো? তখন অবশ্যই অবশ্যই ওই ব্যক্তিকে আবার নতুন করে ফেসবুকে নতুন একটা আইডি খুলতে হবে। যদিও নতুন করে নতুন আইডি খুলে নতুনরূপে আবার ফেসবুকে হাজির হয়, তবুও ৫-৬ বছরের শখের আইডিতে থাকা শতশত পোস্ট ও হাজার হাজার ছবি ফেরত পাওয়া যাবে না, এটা একশো পার্সেন্ট নিশ্চিত! আর ফেসবুকের পাশাপাশি যদি আপনি কোন-না-কোন ব্লগে লিখে থাকেন, আর যদি ফেসবুকের পাসওয়ার্ডের মতো ব্লগের পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলেন, তখন ব্লগ কর্তৃপক্ষ সহ-ব্লগারদের সহযোগিতায় আপনার হারিয়ে যাওয়া পাসওয়ার্ড ফেরত পাবেন অথবা নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করে পুনরায় ব্লগে লগইন করে লেখালেখি শুরু করতে পারবেন।
চতুর্থত: অনলাইনে থাকা ব্লগ ছাড়াও গুগলের একটা ব্লগ সাইট আছে। আপনার যদি একটা জিমেইল অ্যাড্রেস থাকে তাহলে আপনার জন্য গুগলের ওই ব্লগ সাইট ফ্রি থাকবে। গুগলের ব্লগ সাইটে নিজের মতো করে একটা ব্লগ সাইট তৈরি করে সেখানে নিজের লেখা, নিজের পারিবারিক ছবি, নিজ এলাকার ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী লিখে পোস্ট করতে পারবেন। এভাবে গুগল ব্লগ সাইট ব্লগপোস্ট তৈরি করে লেখালেখি করতে করতে একসময় গুগল থেকে আপনি কিছু-না-কিছু বেনেফিটও পাবেন। দিন যত গড়াবে আপনার বেনেফিটও তত বাড়বে বৈ কমবে না।
প্রিয় পাঠক, তাহলে কী হলো? তাহলে ফল হলো এরকম, নিজের ইচ্ছেমতো যা খুশি তা লিখলামও আবার আর্থিক সুবিধাও পাওয়া গেলো! বিষয়টা খুবই মজার না? হ্যাঁ খুবই মজার ব্যাপার, প্রিয় পাঠকবৃন্দ। সত্যি বলছি! 

আমি আজ থেকে ১১বছর আগে গুগল ব্লগ সাইটে একটা ব্লগপোস্ট তৈরি করে সেখানে কিছু ছবি পোস্ট করে রেখেছিলাম। তবে কোনও লেখা পোস্ট করিনি, শুরু এলাকার ও নিজের পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের ছবিই পোস্ট করেছিলাম। এরকম পোস্ট করা থেকে নিজের মনে একরকম আনন্দ অনুভূত হতো, ভালো লাগতো! ওই ভালো লাগা থেকেই আরও দুইটা ব্লগপোস্ট তৈরি করে ওই দুই ব্লগেও এলাকাভিত্তিক ছবি পোস্ট করতাম। এরপর মাঝখানে আমি কিছুদিন গুগল ব্লগ সাইটে নিজের তৈরি ব্লগে অন্তত ৫ বছর কোনও পোস্ট করিনি। না পারার কারণ হলো অনলাইনে থাকা কয়েকটা ব্লগে আর স্বাদের ফেসবুকে সময় দিতে গিয়ে গুগল ব্লগ সাইটে আর যাওয়া বা পোস্ট করা হয়নি।

গত কয়েকদিন আগে আমি আমার ব্লগ ওয়েব সাইটের নাম লিখে গুগলে সার্চ করি। এরপর অনুসন্ধানের ফলাফলগুলো ফলো করে দেখি, গুগলের ব্লগ সাইটে ব্লগ তৈরি করে লিখে বা পোস্ট করলে একসময় গুগুল অর্থ প্রদান করে। লেখাগুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো! তারপর নিজের বানানো ব্লগে ভিজিট করলাম। নিজের পোস্ট করা ছবিগুলো অক্ষত অবস্থায় দেখতে পেলাম। ভিউ সংখ্যা দেখলাম। সেসব দেখে ক্ষানিক বেশ আনন্দ উপভোগ করলাম! তারপর পুনরায় ছবি পোস্টের সাথে অনলাইনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আর নিজের মোবাইলে থাকা লেখাগুলো পোস্ট করতে লাগলাম। তারপর গুগল পেমেন্টে আবেদন করলাম। এখন হয়তো আমিও আরও অন্যান্য গুগল ব্লগ ব্যবহারকারিদের মতো গুগল থেকে কিছু-না-কিছু আর্থিক সুবিধা পাবো, এটা একশো পার্সেন্ট নিশ্চিত! কেন-ই-বা বলছি তা নিচের ছবিটি দেখে অনুমান করুন, আমি সত্য বলছি? না মিথ্যে বলছি!



প্রিয় পাঠকবৃন্দ, যদি সত্যিই বলে থাকি তাহলে আমার মতো আপনি পারবেন না কেন? আমার চেয়ে হয়তো আপনি আরও ভালো লেখা-পড়া জানেওয়ালা ব্যক্তি। যদি তা-ই হয়, তাহলে আরও আরও ব্লগে আর ফেসবুকে লেখা-লেখির পাশা-পাশি আপনিও তো গুগল ব্লগ সাইটে পারদর্শী হয়ে ওঠতে পারেন। তা কি ঠিক বলিনি, প্রিয় পাঠক? তো বলে রাখা ভালো যে, আমি কিন্তু এখনো ফেসবুক-সহ আরও দুই-তিনটা ব্লগে লেখালেখি করছি। তাহলে আপনারা চেষ্টা করে দেখুন, ফেসবুকের পাশাপাশি আর অনলাইনে থাকা কিছু স্বনামধন্য ব্লগে লেখালেখির পাশাপাশি গুগল ব্লগ সাইটে নিজের তৈরি ব্লগে লেখালেখি শুরু করুন। এতে নিজের লেখা বা নিজের ছবিগুলো চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। পাশাপাশি গুগল থেকে একদিন-না-একদিন কিছু-না-কিছু আর্থিক সুবিধাও পাবেন। পরিশেষে বলবো, “সময় গেলে সাধন হবে না", প্রিয় পাঠকবৃন্দ। এই বলেই এখা শেষ করছি। সবার জন্য শুভকামনা থাকলো।

প্রিয় পাঠক, লেখা পড়ে ভালো লাগলে দয়াপূর্বক
লাইক/কমেন্ট ও শেয়ার করে বাধিত করবেন।

নাগরিক সাংবাদিক ও ব্লগার,
ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
০৬/০৫/২০২৩ইং।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

nitaibabunitaibabu@gmail.com

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার শৈশবের বন্ধু— শীতলক্ষ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঈশ্বর ভাবনা

মা নাই যার, সংসার অরণ্য তার